বিমানে এমডির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ডিএমডি পদ

হামিদুর রহমান: রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইন কোম্পানি বাংলাদেশ বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। এজন্য নতুন করে এমডি খুঁজতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া বাংলাদেশ বিমানে এত দিন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) না থাকলেও নতুন করে এ পদের জন্যও নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংস্থাটি।
সূত্রমতে, বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদে চেয়ারম্যান, এমডি ছাড়াও ১১টি পরিচালকের পদ রয়েছে। আর নির্বাহী পরিচালক পদে এমডি ছাড়াও রয়েছেন আটজন। তবে নেই কোনো ডিএমডির পদ। তাই বিভিন্ন দাফতরিক কাজে গতি বাড়ানোর পাশাপাশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও লোকসান ঠেকানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করাসহ সার্বিক উন্নয়নে নতুন করে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) নিয়োগ দেওয়া হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘এত দিন আমাদের এখানে ডিএমডি পদটি ছিল না। দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ডিএমডি পদটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি, বিমানে এ পদটিতে নিয়োগ সম্পন্ন হলে বিভিন্ন দাফতরিক কাজের গতি বাড়বে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের কাজের বাস্তবায়ন করতে ডিএমডি পদটি ভূমিকা রাখবে। এতে জবাবদিহিতা বাড়বে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সব কাজের উন্নতি হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিমান এরই মধ্যে এমডি ও ডিএমডি পদে নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আশা করছি, নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কার্যাবলি সম্পন্ন হবে।’
পত্রিকার বিজ্ঞাপন অনুযায়ী, এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদের জন্য প্রার্থীকে ন্যূনতম এভিয়েশন খাতে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, যার মধ্যে ন্যূনতম ১০ বছর সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট অথবা ডিরেক্টর হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এদের বয়স ৪৫ থেকে ৬০-এর মধ্যে হতে হবে। প্রার্থীর এভিয়েশন আইন ও শ্রম আইন সম্পর্কে ধারণা থাকার পাশাপাশি অন্যান্য এয়ারলাইন কোম্পানির সঙ্গে যে কোনো ধরনের ডিলিংসের সক্ষমতা থাকতে হবে।
অন্যদিকে ডিএমডি পদের জন্য প্রার্থীকে এভিয়েশন খাতে ন্যূনতম ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এর মধ্যে ন্যূনতম আট বছর জেনারেল ম্যানেজারের চেয়েও উচ্চপদে এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফ্লাইট পরিচালনায় ন্যূনতম তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রার্থীর এভিয়েশন আইন ও শ্রম আইন সম্পর্কে ধারণা থাকার পাশাপাশি অন্যান্য এয়ারলাইন কোম্পানির সঙ্গে যে কোনো ধরনের ডিলিংসের সক্ষমতাও থাকতে হবে।
এদিকে বিমানের বর্তমান এমডি ও সিইও পদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ৩১ মে। বর্তমানে পদটিতে টানা তৃতীয়বারের মতো দায়িত্বে আছেন মোসাদ্দেক আহমেদ।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৬ সালের ৬ মে বিমানের এমডি পদে নিয়োগ পান মোসাদ্দিক আহমেদ। ২০১৫ সালে বিমানের পরিচালক পদ থেকে মোসাদ্দেক আহমেদ অবসরে গেলে পরে ২০১৬ সালের ৬ মে তাকে বিমান বাংলাদেশের এমডি ও সিইও পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৮৩ সালে বিমানের সহকারী ম্যানেজার পদে কাজ শুরু করেন তিনি। এ সময় তিনি মার্কেটিং, কাস্টমার সার্ভিস, প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও ফাইন্যান্স বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন।
মোসাদ্দেক আহমেদকে তৃতীয়বারের মতো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ায় ২০১৮ সালের এপ্রিলে এক সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৎকালীন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাজাহান কামাল।