বিমা খাতের শেয়ারে আগ্রহ কমছে বিনিয়োগকারীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকের পাশাপাশি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার মৌসুম চলছে। কিন্তু লভ্যাংশ ঘোষণা করা হলেও শেয়ার দর কমছে এ খাতের। আর দর কমায় লেনদেনেও ভাটা পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমায় বিমা খাতের শেয়ারে নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে (বৃহস্পতিবার) পিপলস ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার ২০ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এর আগে কয়েকদিন ধরেই কোম্পানিটির শেয়ারদর টানা কমছে। গত বছর ১৩ মার্চ কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বোচ্চ ২৯ টাকা ৫০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। এরপর থেকে বেশিরভাগ সময় কোম্পানির দরপতন হয়েছে।

অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার গত বৃহস্পতিবার ১৮ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এদিন কোম্পানির শেয়ারদর আগের দিনের চেয়ে কমেছে। গত এক বছর আগে কোম্পানির শেয়ার ২৬ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। কিন্তু এরপর থেকে প্রায় সময়ই কোম্পানি দর কমেছে।

ন্যাশানাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার সর্বশেষ ১৪৮ টাকা ৮০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। গত এক বছরের মধ্যে কোম্পানির শেয়ার সর্বোচ্চ ১৮৬ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এর পর থেকে শেয়ারদরে পতন হয়েছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানির শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১৪২ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে।

শুধু পিপলস ও অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স এবং ন্যাশানাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সই নয়, অধিকাংশ বিমা কোম্পানির শেয়ারদর নি¤œমুখী। এতে মোট লেনদেনে বিমা খাত পিছিয়ে পড়েছে।

তথ্যমতে, গেল সপ্তাহের মোট লেনদেনে বিমা কোম্পানির অংশগ্রহণ ছিল দুই শতাংশ। আলোচিত সময়ে খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে প্রায় ছয় কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে মোট লেনদেনে বিমা কোম্পানির অংশগ্রহণ ছিল তিন শতাংশ। ওই সময় খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছিল প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে খাতটির লেনদেন কমেছে এক শতাংশ। গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ শেষেও বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর লেনদেনে অংশগ্রহণ ছিল দুই শতাংশ। ফের একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ধসের সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বিমা কোম্পানির শেয়ারের বিনিয়োগকারীরা। এরপর থেকে এ খাতের শেয়ারে আগ্রহ কমে গেছে বিনিয়োগকারীদের। এছাড়া অধিকাংশ বিমা কোম্পানিই লভ্যাংশ হিসেবে বোনাস প্রদান করে থাকে। এতে খুব বেশি গেইন করতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। ফলে এ খাতের শেয়ারে আগ্রহের কমতি রয়েছে তাদের। এ কারণে মোট লেনদেনে বিমা খাতের অংশগ্রহণ খুবই সামান্য। তাছাড়া বর্তমান মন্দা বাজারে লেনদেন আরও নি¤œমুখী।

পিই রেশিও অনুযায়ী, ব্যাংকের পরে জ্বালানি ও বিমা খাতের পিই রেশিও এর অবস্থান। গেল সপ্তাহে বিমা খাতের পিই রেশিও ১১ দশমিক ৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এছাড়া ব্যাংকের পিই রেশিও ৯ দশমিক দুই পয়েন্টে এবং জ্বালানি খাতের পিই রেশিও ১২ দশমিক দুই পয়েন্টে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যতদিন পর্যন্ত পিই রেশিও ১৫-এর ঘরে থাকে ততদিন বিনিয়োগ নিরাপদ। সে হিসাবে ব্যাংক-বিমা খাতে নিরাপদ পরিবেশ বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, বিমা খাতের ৪৭টি এবং ব্যাংকের ৩০টি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। এসব কোম্পানির ডিসেম্বর ক্লোজিং শেষে বর্তমানে লভ্যাংশের মৌসুম চলছে।