মার্কেটওয়াচ

বিমা খাতে পণ্য ও সেবার মান বাড়াতে হবে

বিমা খাতে কিছু সংশোধন হচ্ছে। আগে সাধারণ বিমার পরিশোধিত মূলধন ছিল ৪০ কোটি টাকা। এখন তা করা হচ্ছে ১২৫ কোটি টাকা এবং অনুমোদিত মূলধন করা হচ্ছে ৫০০ কোটি টাকা। আগে জীবন বীমার পরিশোধিত মূলধন ছিল ২০ কোটি টাকা। এখন তা করা হচ্ছে ৩০ কোটি টাকা এবং অনুমোদিত মূলধন করা হচ্ছে ৩০০ কোটি টাকা। এটার প্রয়োজন ছিল। কারণ বিমা খাতে পর্যাপ্ত ফান্ড রয়েছে। আর এ ফান্ড থেকে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা হয়। বিগত বছরগুলোতে বিমা খাত স্থবির অবস্থানে ছিল। তবে বিমা খাতের অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন বাড়ালেই যে কোম্পানিগুলো ভালো করবে, তা কিন্তু নয়। কোম্পানির উন্নতি করতে হলে ওইসব কোম্পানির পণ্যের মান এবং সেবার মান উন্নতি করতে হবে। কারণ বিমা খাতের সেবা নিয়ে বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন অভিযোগ শোনা যায়। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।
আহমেদ রশীদ লালীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএমএসএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের এমডি ও সিইও মো. রিয়াদ মতিন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
রিয়াদ মতিন বলেন, বিমা খাতে কিছু সংশোধন হচ্ছে। আগে সাধারণ বিমার পরিশোধিত মূলধন ছিল ৪০ কোটি টাকা। এখন তা করা হচ্ছে ১২৫ কোটি টাকা এবং অনুমোদিত মূলধন করা হচ্ছে ৫০০ কোটি টাকা। আগে জীবন বীমার পরিশোধিত মূলধন ছিল ২০ কোটি টাকা। এখন তা করা হচ্ছে ৩০ কোটি টাকা এবং অনুমোদিত মূলধন করা হচ্ছে ৩০০ কোটি টাকা। এটা প্রয়োজন ছিল। কারণ বিমা খাতে পর্যাপ্ত ফান্ড রয়েছে। আর এ ফান্ড থেকে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা হয়। বিগত বছরগুলোতে বিমা খাত স্থবির অবস্থানে ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে জানুয়ারি থেকে ভালো অবস্থানে দেখা যাচ্ছে। বিমা খাতের প্রতিটি কোম্পানির শেয়ারদর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। তবে সরকার বিমা খাত ভালো করার জন্য চিন্তা-ভাবনা করছে।
মোহাম্মদ হেলাল বলেন, আসলে বিমা খাতের অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন বাড়ালেই যে কোম্পানিগুলো ভালো করবে তা কিন্তু নয়। কোম্পানির উন্নতি করতে হলে ওইসব কোম্পানির পণ্যের মান এবং সেবার মান উন্নয়ন করতে হবে। কারণ বিমা খাতের সেবা নিয়ে বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ শোনা যায়।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংক এবং ক্যাপিটাল মার্কেটের মধ্যে পার্থক্য কোথায়। কেনইবা ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ করতে বলা হয়। কারণ ব্যাংক হচ্ছে স্বল্প মূলধনি বিনিয়োগের জায়গা। কিন্তু ব্যাংক স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় খাতেই বিনিয়োগ করে। ব্যাংক থেকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করলে যে লোকসান বা ক্ষতি হবে সবটাই ব্যাংককে বহন করতে হবে। অর্থাৎ ব্যাংকের স্বল্প মূলধনের টাকা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করলে যে লোকসান হয় সেটি বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে দেখা গেছে এবং দেশেও সে লোকসান হচ্ছে। আর পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করলে যে লোকসান বা ক্ষতি হবে তা মালিক এবং বিনিয়োগকারী বহন করবে। এ জন্যই বলা হয় দীর্ঘমেয়াদি সব বিনিয়োগ পুঁজিবাজার থেকে হওয়া উচিত। আবার অনেক কোম্পানির ক্ষেত্রে দেখা যায় দুই থেকে তিন বছর ভালো ইপিএস দেখায়। হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়াই ছয় মাসে ইপিএস এবং ওই কোম্পানির শেয়ারের দাম অনেক কমে যায়। এখানে যদি কমার কোনো নির্দিষ্ট কারণ থাকে সেক্ষেত্রে ঠিক আছে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারী সেটা মেনে নেবে। আবার হয়তো ওই সব কোম্পানি ভালো করবে। কিন্তু সেটির চর্চা দেখা যায় না। যখন কোনো কোম্পানির শেয়ারদর বেড়ে যায়, তখন কেন ওইসব কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ল তা অনুসন্ধান করা হয়। কিন্তু যখন কোনো কোম্পানির শেয়ারদর কমে যায় সেক্ষেত্রে কোনো কারণ অনুসন্ধান করা হয় না। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট আইনে বলা রয়েছে, কোম্পানির শেয়ারদর কোনো কারণ ছাড়াই বাড়লে বা কমলে কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কমার ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটেনি। আসলে বিএসইসি এবং ডিএসইর রেগুলেশন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। ফলে বিনিয়োগকারীদের বাজার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..