প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

বিমা ছাড়া বাকি খাতগুলোয় বড় পতন

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে পতন অব্যাহত গতিতে চলছে। চলতি সপ্তাহে দুই কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচকের পতন হয়েছে ৬২ পয়েন্ট। পুঁজিবাজারে কোনো প্রণোদনাতেই কাজ হচ্ছে না। বাজার গতিশীল করতে সরকার আগ্রহী হলেও কোনো কিছুতেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরছে না। ফলে দরপতনও থামছে না। গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও এডিবির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অনেক পরামর্শ দেন। কিন্তু বাজারের পতন থামেনি। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রধান সূচকের ১৪ পয়েন্ট পতন হয়। সে সঙ্গে কমেছে ৫৬ শতাংশ কোম্পানির দর। আগের দিন মিউচুয়াল ফান্ড চাঙা হলেও গতকাল মুনাফা তুলে নেওয়ার চাপে ৮৯ শতাংশ ফান্ডের দরপতন হয়। তবে গতকাল বিনিয়োগ বেড়েছে বিমা খাতে। যার কারণে এ খাতে অধিকাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে।
গতকাল মোট লেনদেনের ২৩ শতাংশ ছিল বিমা খাতে। এ খাতে ৮৯ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় ৮০ শতাংশ ছিল বিমা খাতের দখলে। অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষ দশের তালিকায় শতভাগ ছিল মিউচুয়াল ফান্ড খাতের দখলে। প্রায় ১৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়ে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স শীর্ষে উঠে আসে। দর বেড়েছে আট টাকা ৭০ পয়সা। রূপালী লাইফের সাড়ে ১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে সাড়ে চার টাকা। প্রগতি লাইফের পৌনে আট কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ১৭ টাকা ২০ পয়সা। অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধি ও রাইট শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় গতকাল দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে কোম্পানিটি। এরপর ১২ শতাংশ লেনদেন হয়েছে প্রকৌশল খাতে। এ খাতে ৬০ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। তবে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে রানার অটো দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে। লেনদেন হয় প্রায় ১১ কোটি টাকা। সিঙ্গার বিডির সাত কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৩০ পয়সা। বস্ত্র, ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১১ শতাংশ করে। বস্ত্র খাতে ৬৩ শতাংশ এবং ওষুধ খাতে ৬২ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। জেএমআই সিরিঞ্জ ও সিলকো ফার্মার সাড়ে আট কোটি টাকা করে লেনদেন হলেও উভয় কোম্পানির দরপতন হয়। তবে স্কয়ার ফার্মার সোয়া আট কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে এক টাকা ২০ পয়সা। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ। বিক্রির চাপ বেশি হলেও এ খাতের এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ডের প্রায় ১১ কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে ৬০ পয়সা। এছাড়া টেলিযোগাযোগ খাত শতভাগ নেতিবাচক ছিল। বাকি খাতগুলোয় ছিল দরপতনের আধিক্য।

সর্বশেষ..