বিরোধীদের ধাক্কা সামলাতে কতটা প্রস্তুত বিজেপি?

বিজেপি’র ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

শাকির আহমেদ: ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের তৈরি ‘জনসংঘ’ ১৯৮০ সালে রূপান্তরিত হয় ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিতে। দীর্ঘ ৩৮ বছরের পথ-পরিক্রমায় চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দলটি বর্তমানে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে আসীন। বিজেপি সমগ্র ভারতের ৬৭ শতাংশ এলাকাকে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি বলে দাবি করলেও ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন দল কংগ্রেসসহ বিজেপিবিরোধী অনেক রাজনৈতিক দল বিজেপিকে ভারতীয় জনতা পার্টি না বলে ‘বিদ্বেষ জনতা পার্টি’, ‘বিফ জনতা পার্টি’ ও ‘বিদেশি জনতা পার্টি’ বলে ব্যঙ্গ করছে। আগামী বছরের নির্বাচন সামনে রেখেও বিজেপিকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সম্প্রতি বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেশ কয়েকটি শরিক দল বের হয়ে যাওয়ায় নতুন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে দলটিকে।

বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সব বিরোধী দলকে সংঘবদ্ধ করে ‘একের বিরুদ্ধে এক’ প্রার্থী দিয়ে আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হারাতে বিভিন্ন রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির বিক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গেও বারবার বসছেন মমতা। মমতার পরিকল্পনা হলো, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে একটি ‘ফেডারেল ফ্রন্ট’ করা এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের শক্তিশালী দলের প্রার্থীকে বিজেপির বিরুদ্ধে দাঁড় করানো। মমতার সঙ্গে বৈঠকে মহারাষ্ট্রের এনসিপি, শিবসেনা, বিহারের আরজেডি, তেলেঙ্গানার টিআরএসসহ বিজেপিবিরোধী সবাই বিজেপিকে একঘরে করার আন্দোলনে কংগ্রেসকে নেতৃত্বের আসনে বসানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। কিন্তু মমতা কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ইউপিএ’র চেয়ারম্যান সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করলেও বিজেপিবিরোধী জোটে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে নেতা মানতে নারাজ মমতা। সম্প্রতি ভগবান রামের জš§দিনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি যে সশস্ত্র মিছিল করেছে, এ ইস্যুকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি বিরোধিতার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন।

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের শাসক দল তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) প্রধান ও অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নাইডু তার প্রদেশের বিশেষ মর্যাদার বিষয়ে আলোচনার জন্য ২৯ বার দিল্লিতে গেলেও প্রদেশটিকে স্পেশাল স্ট্যাটাস (বিশেষ মর্যাদা) দেয়নি বিজেপি সরকার। এরই ক্ষোভে গত মাসে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট থেকে বের হয়ে যায় টিডিপি। দলটির জোট ছাড়ার সিদ্ধান্তে আনন্দের বন্যা বইছে বিজেপিবিরোধী শিবিরে। এনডিএ ছাড়ার টিডিপির এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ভারতের অর্থনৈতিক দীনতা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার থেকে উত্তরণে বিরোধী দলগুলোকে সংগঠিত হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের এ সর্বেসর্বা। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পাশাপাশি অন্ধ্র প্রদেশ ও তেলেঙ্গানার বিধানসভা ভোটে টিডিপি বিজেপির নৌকায় উঠলেও নির্বাচনের পর তেলাঙ্গানা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয় বিজেপি। আর অন্ধ্র প্রদেশের ক্ষমতাসীন টিডিপিকে দেওয়া নানা প্রতিশ্রুতি পূরণে টালবাহানা শুরু করে বিজেপি সরকার নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। বিশেষত অমরাবতীকে অন্ধ্র প্রদেশের রাজধানী হিসেবে তৈরিতে অন্ধ্রকে ৪২ হাজার কোটি টাকা দেওয়াসহ কোনো কথাই রাখতে পারেনি মোদি সরকার। তেলেঙ্গানা থেকে আলাদা হওয়ার ফলে আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য অন্ধ্র প্রদেশকে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ দিতে সম্মত হলেও এ প্রদেশকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার প্রশ্নে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করে বিজেপি। বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের আশঙ্কা, অন্ধ্রকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দিলে পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব কিংবা বিহারের মতো রাজ্যগুলোও একই দাবিতে জিকির তুলবে। টিডিপির দাবি অনুযায়ী অন্ধ্র প্রদেশকে বিশেষ মর্যাদা না দেওয়ার কারণে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে টিডিপি’র দুই আইন প্রণেতাÑঅশোক গজপতি রাজু এবং ওয়াই এস চৌধুরী। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে টিডিপির দুই বিধায়কের পদত্যাগের পর সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নাইডু নেতৃত্বাধীন অন্ধ্র প্রদেশের মন্ত্রিসভা থেকেও বিজেপির নেতা পদত্যাগ করেন। জোট আর মন্ত্রিসভা ছেড়েই থেমে যায়নি টিডিপি। দলটির প্রধান চন্দ্রবাবু বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে নানা অনাস্থা প্রস্তাব আনার চেষ্টা করছেন। গত ১৯ মার্চ বিজেপির বিরুদ্ধে টিডিপির আনা অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনের আগেই হট্টগোলের অজুহাতে মুলতবি করা হয় লোকসভা। একইসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় রাজ্যসভাও। বিশ্লেষকরা বলছেন, টিডিপির অনাস্থা প্রস্তাবকে বিজেপি নিজেদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে নিয়েছে বলেই তারা তড়িঘড়ি করে লোকসভা ও রাজ্যসভা বন্ধ করে দিয়েছে। বিজেপির জন্য বড় চিন্তার বিষয় হলোÑকংগ্রেস, এআইএডিএমকে, সিপিএম, আম আদমি পার্টিসহ বেশ কয়েকটি দল টিডিপির অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে। অন্ধ্র প্রদেশকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করাকে ‘ক্ষমার অযোগ্য’ অপরাধ বলে মন্তব্য করেছে ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআইএম)।

তবে টিডিপির জোট ত্যাগ আর অনাস্থা প্রস্তাবের কোনোটিকেই গায়ে লাগাচ্ছে না বিজেপি। বিজেপির যুক্তি হলো, সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার জন্য ৫০ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন হলেও সংসদে টিডিপির সদস্য মাত্র ১৬ জন। তবে বিজেপির যুক্তিতে উড়িয়ে দিয়ে টিডিপি রাজ্য থেকে কেন্দ্রের সব বিজেপি বিরোধীশক্তিকে একত্র করার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে টিডিপির প্রচেষ্টা আশার আলোও দেখেছে। অন্ধ্রের বিরোধী দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস আর শাসক দল টিডিপির মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্ক থাকলেও সব ভুলে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থার প্রস্তাবের প্রশ্নে টিডিপির নৌকায়ই পা দিয়েছে ওয়াইএসআর কংগ্রেস। গত ১৯ মার্চ বিজেপির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চেয়েছিল দলটি। শুধু তা-ই নয়, বিজেপির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব সমর্থনের জন্য সব বিরোধীদলকে চিঠিও দিয়েছে ওয়াইএসআর। ওয়াইএসআর ইঙ্গিত দিয়েছে, অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে কোরাম সমর্থন রয়েছে। বিজেপির জন্য সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো, আগামী লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গত মার্চে দিল্লিতে প্ল্যানারি অধিবেশনে সমমনা দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপিবিরোধী জোট গঠনের কথা জানিয়েছে কংগ্রেস। ইউপিএ’র চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী ও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ আনার পাশাপশি মোদিকে প্রতারক, ড্রামাবাজ, মিথ্যাবাদী, দুর্নীতিগ্রস্ত, তানাশাহি, অহংকারী, ক্ষমতালোভী এবং অমিত শাহকে খুনি বলে আখ্যায়িত করেন। আর কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিংহ বঙ্গ বিজেপিকে ‘অপদার্থ’ হিসেবে অপবাদ দেওয়ার পাশাপাশি ‘বিজেপি কোনো কিছুই করতে পারছে না’ বলে মন্তব্য করেছেন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের ঘনিষ্ঠ শরিক শিবসেনা বিজেপির বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে কখনও বিরোধিতা আবার কখনও নীরব ভূমিকা পালন করেছে। সম্প্রতি কাশ্মীর ইস্যু, রামমন্দির নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে নমনীয় ভূমিকার কারণে প্রায় তিন দশকের জোট রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে বিজেপির সঙ্গে জোট ছিন্ন করার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে শিবসেনা। পাশাপাশি আসন্ন লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে এককভাবে ভোট করার লক্ষ্য স্থির করেছে কট্টর হিন্দুত্ববাদে বিশ্বাসী এ দলটি।

রাজনীতির বাইরে বিভিন্ন ধর্মের ক্ষেত্রে হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ হিন্দু ধর্মাবলম্বী রাজনীতিবিদরাই। বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগর ও শামলিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ৬৩ জন নিহত এবং ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুহারা হলেও এ দাঙ্গায় বিজেপি বিধায়ক সংগীত সোম এবং সুরেশ রানা জড়িত থাকায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার নিয়েও বিজেপির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছে সমাজবাদী পার্টির নেতা রামগোপাল যাদব, কংগ্রেস নেতা পি এল পুনিয়া, জেডিইউ নেতা কে সি ত্যাগী, এনসিপি নেতা মজিদ মেমন এবং সিপিআইএম নেতা হীরালাল যাদবসহ বিভিন্ন নেতা ও দল, যাদের কারণে ৫০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছিল বিজেপি ওই লোকদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেÑএমন দাবি করে মজলিশ ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি অভিযোগ করেছেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন উত্তর প্রদেশে আইনের শাসন নয়, ধর্মীয় শাসন আছে। শুধু মুসলমান সম্প্রদায়ই নয়, বিজেপি সরকারের প্রতি অন্য সম্প্রদায়েরও বড় অভিযোগ রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে খ্রিষ্টান অধ্যুষিত মেঘালয়ে ব্যাপ্টিস্ট চার্চের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ উৎসবে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবুজ সংকেত পাননি দক্ষিণ আফ্রিকার বাসিন্দা ও ব্যাপ্টিস্ট অ্যালায়েন্সের আন্তর্জাতিক সভাপতি রেভারেন্ড পল মেসিজা। মেসিজাকে ভারত প্রবেশ করতে না দেওয়াকে ভারত সরকারের খ্রিষ্টানবিরোধী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ বলে সমালোচনা করেন বিজেপির সতীর্থ এনপিপির বিধায়ক সদস্য কনার্ড।

তফসিল জাতি ও উপজাতিদের কাছেও চোখের বালি হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজেপি। দলিত সম্প্রদায়ের প্রতি নির্যাতন রোধে ১৯৮৯ সালের আইনের সরলীকরণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দলিতদের আন্দোলনে জোর সমর্থন দিয়েছে বিজেপিবিরোধীরা। আগের আইনে বলা ছিল, ‘দলিতদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ এলেই সময় নষ্ট না করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে হবে। বিচারের আগে অভিযুক্তর জামিনের দাবিও অগ্রাহ্য করা হবে।’ কিন্তু গত ২০ মার্চ সংশোধিত আইনে সুপ্রিমকোর্ট রায়ে বলা হয়, ‘অভিযোগ পাওয়া মাত্রই সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মীকে গ্রেফতারও করা যাবে না। সাধারণ নাগরিকদের গ্রেফতারের আগেও শীর্ষ পুলিশ কর্তার অনুমতি প্রয়োজন। পুলিশি তদন্তের পরেই সেই অনুমতি দেওয়া যাবে।’ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতি ও উপজাতিদের ডাকা ভারত-বন্?ধে সমর্থন দিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে। আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে কংগ্রেসও। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, বিজেপির রন্ধ্রে রন্ধ্রেই রয়েছে দলিত সম্প্রদায়কে নিচু করে রাখার প্রবণতা।

সম্প্রতি ভারতের সমাজকর্মী ও সাবেক সেনাসদস্য আন্না হাজারে কৃষকদের সমস্যা সমাধানের দাবিতে স্বামী নাথন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং সারা দেশে লোকায়ুক্ত ও লোকপাল নিয়োগের দাবিতে ছয় হাজার অনুসারী নিয়ে মুম্বাইয়ের রামলীলায় অনশনে বসেছেন। হাজারের অভিযোগ, লোকপাল নিয়োগের জন্য গত চার বছরে বিজেপির সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে ৪৩টি চিঠি দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আন্না হাজারের অনশন বিজেপিকে কতটা বেকায়দায় ফেলতে পারে, তা দলটি ভালো করেই জানে। কারণ ২০১১ সালে অনশন থেকে বর হয়ে আন্না হাজারের সহযোগী ও অনশনকারী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বে গঠিত হয় আম-আদমি পার্টি। দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে ২২ হাজার ভোটে বেশি পেয়ে আম-আদমি পার্টি কংগ্রেসের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল। আর আন্না হাজারের এবারের অনশন থেকে কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থান হলে সরকারি দল হিসেবে বিজেপিকেই তার মাশুল দিতে হবে। তবে বিজেপির জন্য আশার বিষয় হলো, আন্না হাজারে এবার আগেভাগেই তার অনশন সহযোগীদের কাছ থেকে রাজনীতিকে সম্পৃক্ত না হওয়ার মুচলেকা নিয়েছেন। বিজেপি কংগেসের বিরুদ্ধে গুজরাট নির্বাচনের আগে লন্ডনের রাজনৈতিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার সাহায্য নেওয়ার অভিযোগ আনলেও কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনার পাশাপাশি মোদিকে ‘এ যুগের হিটলার’ বলে মন্তব্য করেছে।

নানা কারণে দেশের বাইরেও সমালোচিত হচ্ছে বিজেপি। সম্প্রতি বিজেপির বিধায়ক হোজাই শিলাদিত্য বাংলাদেশ সৃষ্টিকে ‘বড় ভুল’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ সৃষ্টির কারণে আসামে মুসলমানদের ঢল মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি ‘মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া ভারতের উচিত ছিল’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রতি বিজেপি বিধায়কের বিতর্কিত মন্তব্য বিজেপির প্রতি বাংলাদেশিদের দৃষ্টিভঙ্গিতে নেতিবাচক করে তুলতে পারে।

আগের অনেক বিজেপিপ্রধানই দায়িত্বকালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট শরিকদের নিয়ে বৈঠক করলেও অমিত শাহের আমলে বিশেষ করে মোদির চলমান মেয়াদের চার বছরে একবারও এক টেবিলে বসতে পারেনি বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলো। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিভিন্ন শরিক দল নিজেদের নানা অভিযোগ-আপত্তির কথা জোটের ফোরামে বলতে না পেরে অসন্তোষ থেকে জোট ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের লোকসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। তাই এখন দেখার বিষয়, নিজ জোটের শরিকসহ অন্যান্য বিরোধী দলের ধাক্কা কীভাবে সামলাবে বিজেপি?

 

গণমাধ্যমকর্মী

[email protected]