বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানেই চলুক সংস্কার কার্যক্রম

কুমিল্লার ঐতিহাসিক লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ে আবিষ্কৃত শালবন বৌদ্ধবিহার ও রানী ময়নামতি প্রাসাদের খননকৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণ প্রকল্পের অধীনে চলছে সংস্কার কার্যক্রম। গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিশেষায়িত এ কাজের সময় উপস্থিত থাকছেন না কোনো বিশেষজ্ঞ। এ সংবাদ উদ্বেগের। শ্রমিকদের অসচেতনতা কিংবা ভুলে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ক্ষতি হওয়া তো অস্বাভাবিক নয়। কোনোভাবে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ক্ষতি একবার হয়ে গেলে সেটা পুনরুদ্ধার করা অসম্ভব হবে। আমরা মনে করি, এ ধরনের ক্ষতির শঙ্কা এড়ানোর জন্য সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে। এটি নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত দৃষ্টি দেওয়া দরকার।

খবরে প্রকাশ, সংস্কার কার্যক্রমটি দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের সাবেক এক মহাপরিচালককে। তিনি তো বটেই সংস্কার কার্যক্রম চলাকালে উপস্থিত থাকছেন না প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের অন্য কোনো কর্মকর্তা। কখনও কখনও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানেরও কাউকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এটা দায়িত্বের প্রতি সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার পরিচায়ক। ঠিক কী কারণে তারা এমনটি করছেন, সে ব্যাপারে তাদের জবাবদিহি করা উচিত। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ যদি সময়ের অভাব বা অন্য কোনো কারণে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে অপারগ হন, তাহলে এ প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হোক অন্য কাউকে। দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার পরও যেসব কর্মকর্তা সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার সময় সেখানে উপস্থিত থাকছেন না, তাদের ব্যাপারেও নেওয়া যেতে পারে বিভাগীয় ব্যবস্থা। এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে ঐতিহাসিক নিদর্শনটির সংস্কার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে।

সংস্কার কার্যক্রমটি শুরু হয়েছে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি। এর মধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে এক মাসেরও বেশি। বিশেষজ্ঞের অনুপস্থিতিতে এ সময়ে চলা সংস্কার কার্যক্রমে এ নিদর্শনটির কোনো ক্ষতি ইতোমধ্যে সাধিত হয়েছে কিনা, আমরা জানি না। প্রত্যাশা থাকবে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেটাও খতিয়ে দেখবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর। কোনো কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার দায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও এড়াতে পারবে না। এমন কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ঐতিহাসিক স্থানে প্রাপ্ত নিদর্শন পাচারের। ওখানে দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখতে হবে। মনে রাখা দরকার, এ বৌদ্ধবিহারে আবিষ্কৃত হয় প্রায় ৫০টি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এর মধ্যে অক্ষত রয়েছে মাত্র ২৫টি। সংস্কার কার্যক্রমে নিবিড় তত্ত্বাবধানে উদাসীনতা বা গাফিলতির কারণে নতুনভাবে কোনো ঐতিহাসিক নিদর্শনের ক্ষতি হলে সেটা কেউই মেনে নেবেন না। এজন্য আমরা চাইব, সংশ্লিষ্ট অধিদফতর বিষয়টিকে দেখবে গুরুত্ব সহকারে; সংস্কার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে নিশ্চিত করা হবে অন্তত একজন প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি। কোনো কারণে এমন ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করা না গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি যাতে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে, সে ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দেখতে চাইব আমরা।