সুশিক্ষা

বিশেষ শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা সমাজের বোঝা তো নয়ই, বরং দেশের মূল্যবান সম্পদ। শারীরিক ও মানসিক দিকগুলোর উন্নতিসাধনে সহায়তা পেলে তারা পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের মতো ভূমিকা রাখাসহ সম্ভাবনাময় সুস্থ নাগরিকও হতে পারবে। তাই তাদের স্বাভাবিক জীবন উপহার দেওয়ার পাশাপাশি সম্পদে পরিণত করার ব্রত নিয়ে কাজ করছে অনেক মানবিক প্রতিষ্ঠান। এদেরই একটি প্রত্যাশী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই ‘প্রত্যাশী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ের শিশুরা ১৬ জুন রাজধানীর পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ভবনের ১নং অডিটরিয়ামে তাদের প্রতিভা তুলে ধরে। সাংস্কৃতিক মুগ্ধতার প্রতিফলন ঘটায় অটিস্টিক শিশুরা। অনুষ্ঠানটির সহযোগিতায় ছিল পিকেএসএফ।
বিশেষ শিশুরা সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সাফল্য অর্জন করছে। স্থানীয় প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে থাকে তারা। এর স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কৃতও হচ্ছে এসব শিশু। এরই বাস্তব রূপ দেখা গেল সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ইনোভেশন অ্যান্ড প্র্যাকটিসেসের (সিদীপ) আয়োজনে প্রত্যাশী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের শিশুদের সাংস্কৃতিক পারফরম্যান্সে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল করিম।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সিদীপের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াহিয়াসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে পিকেএসএফের আওতাধীন ৬০টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মসূচির ফোকাল পারসন এবং গ্রোগ্রাম অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ১০ শিশু তাদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা তুলে ধরে। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, সংগীত, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি করে তারা। এর মধ্যে চারটি একক সংগীত পরিবেশন করে চার শিশু। দলীয় সংগীত ছিল তিনটি। নৃত্য পরিবেশন করে তিন শিশু। কবিতা আবৃত্তি করে এক শিশু। প্রতিকূলতা কাটিয়ে এসব শিশুকে গড়ে তুলতে সহায়তা করছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতার পরও শিশুদের উৎসাহ দিতে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুর রহমান বিল্লাল ও প্রধান শিক্ষক প্রভাষ কুমার সমদ্দার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সংগীত ও নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন শিক্ষক আশারুল ইসলাম ও রুমা ঘোষ। তবলায় ছিলেন দুলাল আহম্মদ।
প্রত্যাশী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, ডাউন সিনড্রোম ও অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে কাজ করে। বিশেষায়িত এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিশেষ ধরনের শিক্ষা নিচ্ছে। তারা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণসহ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অনুশীলনের সুবিধা লাভ করছে। তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে থাকে বিদ্যালয়টি। এ প্রতিষ্ঠান মনে করে, সব শিশুই সমান। সবারই স্বাভাবিক জীবন উপভোগের অধিকার রয়েছে। এতেই পরিবারে আসবে অনাবিল সুখ। প্রাণের স্পন্দনে আলোড়িত করতে চায় প্রত্যাশী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টরা।

রতন কুমার দাস

সর্বশেষ..