বিশ্ব বাণিজ্য

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনায় এমনিতেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত অপ্রত্যাশিতভাবে কমেছে। এতে বাজারে আরও প্রভাব পড়েছে। গতকাল বুধবার পণ্যটির দাম কমেছে এক শতাংশেরও বেশি। খবর: রয়টার্স।
গতকাল লন্ডনভিত্তিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেল বিক্রি হয়েছে ৬৫ ডলার ৯১ সেন্টে। আগের দিনের তুলনায় এটি এক দশমিক তিন শতাংশ বেশি। লেনদেনের শুরুর দিকে দাম ৬৬ ডলারে পৌঁছেছিল, যা গত ৩১ মে’র পর সর্র্বোচ্চ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতি ব্যারেল তেল বিক্রি হয়েছে ৫৮ ডলার ৯৮ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় এক দশমিক আট শতাংশ বেশি। লেনদেনের শুরুতে এ বাজারে তেলের দাম ৫৯ ডলার তিন সেন্টে পৌঁছেছিল। এটিও গত ৩০ মে’র পর সর্বোচ্চ দাম।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত কমে যাওয়াই তেলের দাম কমার প্রধান কারণ। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দাম বাড়ার পেছনে কাজ করছে।
আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট (এপিআই) প্রকাশিত উপাত্তে দেখা গেছে, ২১ মে শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মজুত সাত দশমিক পাঁচ মিলিয়ন ব্যারেল কমে ৪৭৪ দশমিক পাঁচ ব্যারেলে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল মজুত কমবে দুই দশমিক পাঁচ মিলিয়ন ব্যারেল।
এর আগে গত সপ্তাহে ওমান উপসাগরে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ফিন জেবিল বলেন, গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ওপেক ও নন-ওপেক দেশগুলোর উৎপাদন হ্রাস নিয়ে আলোচনা করতে তারিখ ঠিক করায় তেলের দাম বেড়েছে।
এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের উৎপাদন হ্রাস বা বৃদ্ধি নিয়ে আগামী ১০-১২ জুলাই ভিয়েতনামের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবে ওপেক ও রাশিয়াসহ অন্য প্রধান উৎপাদক দেশগুলো। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম পড়তে থাকায় জানুয়ারি থেকে ছয় মাসের জন্য অশোধিত তেলের উৎপাদন ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ওপেক। রাশিয়াসহ ওপেকের বাইরে থাকা কয়েকটি তেল উৎপাদনকারী দেশও তাতে একমত হয়। সব মিলিয়ে তারা দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেল উৎপাদন ছাঁটাই করছে। জুনেই সে সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এ বিষয়ে দেশগুলো এখনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। আগামী জুলাইয়ে ভিয়েতনাম বৈঠকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।
সরবরাহ কমায় গত এপ্রিলে তেলের দর ব্যারেলে ৭৫ ডলারে উঠলেও সম্প্রতি তা ৬০ ডলারের নিচে নেমেছিল। সৌদি আরবের দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের মজুত বেশি হওয়ায় চাহিদার চেয়ে এখনও জোগান যথেষ্ট। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মার্কিন-চীন শুল্কযুদ্ধে সারা বিশ্বের অর্থনীতিতেই অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে চাহিদাতেও ভাটা পড়ছে। তাই তেলের দাম উঠছে না।
সম্প্রতি ভারতসহ আট দেশকে ইরানের তেল আমদানিতে দেওয়া ছাড় তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তখনই তেল রফতানিকারীদের সংগঠন ওপেককে উত্তোলন বাড়াতে আর্জি জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে বিশ্ববাজারে দর কমায় গত জানুয়ারি থেকে ছয় মাসের জন্য উত্তোলন কমিয়েছে ওপেক। আবার ভেনেজুয়েলার তেল রফতানিতেও বসেছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে চলতি মাসে বৈঠক করার কথা ওপেক ও তাদের সহযোগী দেশগুলোর।

সর্বশেষ..



/* ]]> */