বিশ্ব বাণিজ্য

বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইরান কর্তৃক ব্রিটেনের তেলবাহী জাহাজ আটকের পর সৃষ্ট উত্তেজনায় প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের দামে। এতে পণ্যটির সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে। খবর: রয়টার্স।
গতকার লন্ডনের বাজারে প্রতি ব্যারেল তেল বিক্রি হয় ৬৩ ডলার ৮৮ সেন্টে, আগের দিনের তুলনায় যা এক ডলার ৪১ সেন্ট বা দুই দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে এদিন প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ছিল ৫৬ ডলার ৭৬ সেন্ট। আগের দিনের তুলনায় এ দাম বেড়েছে এক ডলার ১৩ সেন্ট বা দুই দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম কমেছিল সাত শতাংশের বেশি এবং লন্ডনের বাজারে কমেছিল ছয় শতাংশ।
তেল ও গ্যাসের বাজার নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান জেবিসি এনার্জি এক বিবৃতিতে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের একটি তেল ট্যাংকার আটক করে ব্রিটেন। এ নিয়ে দেশটির সঙ্গে চলা উত্তেজনার মধ্যেই গত শুক্রবার ব্রিটেনের একটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি থেকে আটক করে ইরান। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলছে, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন লঙ্ঘনের দায়ে হরমুজ প্রণালি থেকে ব্রিটিশ তেলবাহী জাহাজ স্টেনা ইমপারোকে আটক করা হয়েছে। বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ তেল হরমুজ প্রণালি হয়ে বিভিন্ন দেশে পরিবহন করা হয়; বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ উপসাগরীয় অঞ্চলের এ হরমুজ প্রণালি। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, চলমান এ উত্তেজনায় এ অঞ্চল দিয়ে তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
ইরান কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্রিটিশ ওই জাহাজকে সমুদ্রসীমা লঙ্ঘনের সময় সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও সীমা লঙ্ঘন করে একটি মাছ ধরার জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ব্রিটিশ জাহাজটি।
সিরিয়ায় ইইউ’র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের দায়ে জিব্রাল্টার প্রণালির কাছে দুই সপ্তাহ আগে ব্রিটিশনিয়ন্ত্রিত সমুদ্রসীমায় ইরানের ট্যাংকার গ্রেস-১ আটক করে ব্রিটেন। ওই ট্যাংকারকে আরও এক মাস আটকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ব্রিটেনের একটি আদালত। আদালতের এ নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মাথায় ব্রিটিশ তেলবাহী জাহাজ আটক করা হয়েছে বলে জানায় ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাবেদ জারিফের সঙ্গে আটক জাহাজের মুক্তির ব্যাপারে আলোচনা করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। কমিটির সদস্যদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন হান্ট। বৈঠকের পর তিনি বলেন, জাহাজ আটকের এ ঘটনাকে তারা ‘ঢিলের বিনিময়ে পাটকেল’ পরিস্থিতি হিসেবে দেখছেন।
জেরেমি হান্ট বলেন, গ্রেস-১ বৈধভাবেই আটক করা হয়েছে; কিন্তু সেন্টা ইমপারোকে ওমানি জলসীমা থেকে আটক করেছে ইরান, যা পরিষ্কারভাবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের লঙ্ঘন। পরে এটিকে ইরানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য।
ব্রিটিশ ওই ট্যাংকার ছেড়ে দিতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি ও ফ্রান্স। ব্রিটিশ জাহাজটি আটকের ঘটনাকে ইরানের ‘বিপজ্জনক আগ্রাসন’ বলে মন্তব্য করেছে বার্লিন, যা এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে মারাত্মক উত্তেজনা তৈরি করেছে।
গত মে মাস থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মাঝে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। গত মাসে মার্কিন একটি ড্রোন ইরান ভূপাতিত করার জেরে তেহরানে বিমান হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা শুরুর মাত্র ১০ মিনিট আগে সেই নির্দেশ বাতিল করেন তিনি।

সর্বশেষ..



/* ]]> */