বিশ্বের পথে একাকী

এক

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ভেইল শহরের বাসিন্দা জেনিফার। তার মা ছিলেন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট, বাবা অ্যাভিয়েশন কর্মকর্তা। কর্মসূত্রে তার জীবনের অনেক সময় কেটেছে ভ্রমণ করে, বিশেষ করে উড়োজাহাজে চড়ে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর একাকী বিশ্বের চার মহাদেশের ৯টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। আজ থাকছে তার দুবাই ভ্রমণের গল্প দুবাই ফেব্রুয়ারি ১১, ২০০৮

হাই!

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অল্প কয়েকটি দিন কাটিয়েছি। জানি এই সময়ের মধ্যে একটি শহরকে জানা সম্ভব নয়। তবে আমার প্রথম ভালোলাগা এই শহরকে ঘিরে। গভীর আবেগ জড়িয়ে রয়েছে শহরটির সঙ্গে।

বিলাসিতার অনন্য বিজ্ঞাপন দুবাই। অভিনব গাড়ি, চমৎকার হোটেল, দৃষ্টিনন্দন বাড়িÑকী নেই এখানে? সবকিছু ঝকঝকে-তকতকে। বিমানবন্দরের ঘড়িতেও নিজের মুখখানা দেখা যায়। ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে পৌঁছাই এ শহরে। এটাও একটা বিরল অভিজ্ঞতা। ওই রাতটি ছিল বিশেষ একটি রাত। তখন দুবাই ইন্টারন্যাশনাল শপিং ফেস্টিভ্যাল চলছিল। গাড়িতে চড়ে শহরের মাঝপথ দিয়ে চলছি। বিস্মিত নয়নে দেখতে থাকি ভবন, পাম গাছ, এমনকি বর্ণিল রঙে সাজানো উট। নিয়ন আলোয় এক অদ্ভুত সুন্দর পৃথিবী নেমে এসেছে চোখের সামনে। গ্যাস স্টেশনগুলো শুধু উজ্জ্বলতাই পায়নি, যেন অন্ধকারে দ্যুতি ছড়াচ্ছিল। শুভ্র, স্ফুরিত সবুজ ও নীলাভ নিয়ন আলোয় শহরটিকে মনে হচ্ছিল বিশাল এক সমুদ্র।

খুব সকালে ঘুম থেকে জাগি ঘুরে বেড়ানোর জন্য। প্রথমে একটি শপিং মলে চেকড ইন করিÑ‘স্কি দুবাই’য়ে। অবিশ্বাস্যভাবে একপাশে কিছু মানুষকে স্কি করতে দেখি আর অন্য পাশে দেখি কেউ কেউ শর্টস কিংবা স্যান্ডেল কেনাকাটায় ব্যস্ত। কিছুক্ষণ পর একটি ট্যাক্সি নিয়ে শহরের মাঝপথ দিয়ে এগিয়ে চলি। এই শহরের স্থাপত্যশৈলী অসম্ভব রকমের পরাবাস্তব মনে হচ্ছিল। আমার জীবনে এত ক্রেন কখনও এর আগে দেখিনি। শেখ জায়েদ সড়ক ধরে এগিয়ে যেতে যেতে আকাশচুম্বী ভবনগুলো গুনতে থাকি। বিশটির পরে খেই হারিয়ে ফেলি। এভাবে চলতে চলতে বুর দুবাইয়ে চলে আসি। দুবাইয়ের পুরোনো শহর। পাগলের মতো উদ্দেশ্যহীনভাবে এখানকার বাজারে ঘুরতে থাকি। এ ছিল বিস্ময়কর অনুভূতি! সিল্কের সুন্দর কাপড়, ধূপের গন্ধ, গ্রান্ড মসজিদের আজানÑসব মিলিয়ে একটি ঐন্দ্রজালিক পরিবেশ। এই আবেশের বশে ভুল করে পাকিস্তানি ট্যাক্সি ড্রাইভারকে পাঁচ দিরহামের পরিবর্তে ১০০ দিরহাম টিপস দিয়ে ফেলি। যাই হোক, সিদ্ধান্ত নিই শপিং ফেস্টিভ্যালের কাছাকাছি গ্লোবাল ভিলেজে ডিনার সারার।

দুবাইয়ের সংস্কৃতি উপভোগ করার সময় ছিল তখন। এজন্য আমিরাতে নিজস্ব স্টাইলের সুন্দর একটি পোশাক কিনি। এক্সপোর্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আমি। এ কারণে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড কমার্সের গোঁড়া ভক্ত আমি। তবে সবখানেই কী কেএফসি কিংবা অ্যাপলবি’র শাখা চালু করা উচিত? সুন্দর উঁচু ভবনের ওপরের দিকে আরবি হরফে লেখা… ঠিক এর নিচে কেএফসি। ভাবতে ভাবতে হোটেলে পৌঁছাই। যাই হোক, বেলা সাড়ে ৩টা বাজে এখন। আমার মনে হয় তন্দ্রায় ডুব দেওয়ার উপযুক্ত সময় এখন।

 

ভাষান্তর: রতন কুমার দাস