‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় ট্রান্সফরমার বানাতে পারে এনার্জিপ্যাক’

এনার্জিপ্যাক বিদ্যুৎ খাতে এক পরিচিত নাম। ৩৬ বছরের ব্যবসায় ট্রান্সফরমার আমদানিকারক থেকে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে এটি। শতভাগ দেশীয় জনবল দিয়ে সাজানো প্রতিষ্ঠানটি দক্ষ পরিচালনার ওপর ভর করে প্রকৌশল খাতে অনন্য নজির স্থাপন করেছে। বিদ্যুৎ খাতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এলপিজি, তৈরি পোশাক, ও নির্মাণসামগ্রী খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ব্যবসায় উদ্যোগের নানা দিক নিয়ে শেয়ার বিজের সঙ্গে কথা বলেছেন এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হুমায়ূন রশীদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রহমত রহমান

শেয়ার বিজ: এনার্জিপ্যাক গড়ে তোলার পেছনের গল্প বলুন।

হুমায়ূন রশীদ: ১৯৮২ সালে আমি ও আমার ব্যবসায়িক অংশীদার এনামুল হক এনার্জিপ্যাক শুরু করি। প্রথম অবস্থায় আমরা ট্রান্সফরমার আমদানি করে বিক্রি করতাম। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) সে সময় ছোট ছোট ট্রান্সফরমার আমদানি করত। সেগুলো পুড়ে গেলে রিপেয়ারিংয়ের প্রয়োজন হতো। ১৯৮৬ সাল থেকে আমরা ট্রান্সফরমার রিপেয়ারিংয়ের কাজ শুরু করি। এর আগে টিএসএল নামে একটি কোম্পানি এ কাজ করত। ঢাকার গাবতলীতে প্রায় দুই হাজার স্কয়ার ফিট জায়গা ভাড়া নিয়ে আমরা ট্রান্সফরমার রিপেয়ারিং শুরু করি। এমনভাবে রিপেয়ারিং করতাম যেন তা বিআরইবি’র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।
এরপর ভাবলাম, যেহেতু আমরা রিপেয়ারিং করতে পারি, তাহলে ট্রান্সফরমার বানাতে কেন পারব না? সে চিন্তা থেকে ট্রান্সফরমার তৈরির উদ্যোগ নিই। কিন্তু এ কাজের জন্য ডিজাইনার দরকার। পরে একজন ভারতীয় পরামর্শক জোগাড় করে কাজ শুরু করি। প্রথমে ৫০ কেভির একটি ট্রান্সফরমার বানিয়ে বিআরইবিতে সরবরাহ করি। সেটি ভালোভাবে কাজ করতে থাকে। ভারতীয় পরামর্শক সহযোগিতা করায় আমাদের সাহস বেড়ে যায়। আমরা ১৯৮৬ সাল থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রান্সফরমার উৎপাদন শুরু করি। ১৯৯১ পর্যন্ত রিপেয়ারিংয়ের পাশাপাশি বছরে পাঁচ থেকে ১০টি ট্রান্সফরমার উৎপাদন করতাম। আমাদের ট্রান্সফরমার ঠিকমতো কাজ করে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানিকে সরবরাহ করতাম। এত স্বল্প পরিসরে ট্রান্সফরমার উৎপাদন খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচারিং) লাইসেন্স পাওয়া। সে অনুমোদন পাওয়ার পর ১৯৯১ সালের দিকে আমরা দেখলাম গাবতলীর এ জায়গায় আর সংকুলান হচ্ছে না। তখন আমরা সাভারের বারইপাড়ায় বড় আকারে ট্রান্সফরমার কারখানা স্থাপন করি।

শেয়ার বিজ: এনার্জিপ্যাক দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান শক্তি কী?

হুমায়ূন রশীদ: প্রতি মাসের ১ তারিখে কর্মীদের বেতন পরিশোধ করা হয়। কোম্পানির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এ রীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা বিশ্বাস করি, বেতন দিয়ে আমি যেমন সংসার চালাই, তেমনি যারা এ কোম্পানিতে কাজ করেন, তারাও সংসার চালান। সে জন্য মাসের ১ তারিখে আমরা বেতন দিয়ে থাকি। অনেক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে, অস্থিতিশীলতা গেছে; কিন্তু কখনও বেতন পরিশোধের তারিখ পরিবর্তন হয়নি। বিষয়টি এনার্জিপ্যাককে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। আমাদের পরিচালন ব্যয়সহ সার্বিক ব্যয় মেটানোর পর মুনাফার যে অংশ থাকে, তা আমরা পুনরায় বিনিয়োগ করি। এ বিনিয়োগ হয়েছে আধুনিক যন্ত্রাংশ সংযোজনে। কারণ আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রতিষ্ঠানের শক্তি। ফলে আমরা দ্রুত সামনে এগোতে পেরেছি।
২০০০ সালের পর এনার্জিপ্যাকের পুরোপুরি পরিপক্বতা আসে। ট্রান্সফরমার, সুইচ গিয়ার, ভোল্টেজ ট্রান্সফরমার ও বাইপাস সুইচ প্রভৃতি প্রস্তুত করা শুরু করি। ক্রমান্বয়ে এগুলো আমাদের উৎপাদন তালিকায় যুক্ত হতে থাকে। এখন আমাদের বড় সাফল্য হলোÑআমরা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ট্রান্সফরমার তৈরি করতে পারি। এক সময় এসব ট্রান্সফরমার চীন, ভারত কিংবা পশ্চিমা কোনো দেশ থেকে আমদানি করতে হতো। কালের বিবর্তনে এখন আমরা যে ট্রান্সফরমার তৈরি করি, তা ভারতেও রফতানি হয়। কিছুদিন পর যা ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে রফতানি করা সম্ভব হবে। আমরা সেদিনের অপেক্ষায় আছি। অদূর ভবিষ্যতে রফতানিতে তৈরি পোশাক খাতের মতো প্রকৌশল খাতও দ্রুত অগ্রসর হবে। তবে এ খাতে রাতারাতি বড় ধরনের উন্নতি করা সম্ভব নয়। এনার্জিপ্যাকের বর্তমান অবস্থায় আসতে ৩৬ বছর লেগেছে। আরও অনেক পথ বাকি।

শেয়ার বিজ: এনার্জিপ্যাক কি পরিবারকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান?

হুমায়ূন রশীদ: আমরা পাঁচ পরিচালক এনার্জিপ্যাকের শেয়ারহোল্ডার। একেকজন একেক মেরু থেকে এসেছি। কেউ কারও আত্মীয় নন। এমনকি আমাদের পাঁচজনের পরিবারের কোনো সন্তানও পরিচালক নন। বিভিন্ন পদে আমাদের আরও চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক রয়েছেন। সম্পূর্ণ করপোরেট সংস্কৃতি মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার চেষ্টা করি থাকি। করপোরেট কিংবা ভালো একটি কোম্পানি হওয়ার জন্য দরকার কমিটমেন্ট। যে কমিটমেন্ট আমাদের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছে। শিল্পায়নের ক্ষেত্রে আমরা নতুন। ভারতের ২০০ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা। আমাদের অভিজ্ঞতা তাদের সমান হবে না। তাছাড়া তাদের বাজারের আকার, সিস্টেম সবই বড়। আমরা আন্তর্জাতিক সিস্টেমে যেতে চাই। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যদি চেষ্টা করি, আমরাও আন্তর্জাতিক মানের কোম্পানি বাংলাদেশে তৈরি করতে পারব।

শেয়ার বিজ: কোন স্বপ্ন থেকে এনার্জিপ্যাক কোম্পানি গড়লেন?

হুমায়ূন রশীদ: প্রথমে আমরা ভাবলাম ব্যবসা করব। বয়সে তরুণ; কি ব্যবসা করব? তখন একজন বুদ্ধি দিলেন পল্লী বিদ্যুতে অনেক ট্রান্সফরমার আমদানি হয়। কিন্তু কিছুদিন পর সেগুলো পুড়ে যায়। এগুলো রিপেয়ারিংয়ের কাজ শুরু করতে পারি। সে সময় আমরা দু-একটি ট্রান্সফরমার আমদানি করে এ বিষয়ে ভালোভাবে জানার চেষ্টা করি। তখন একজন ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন, ট্রান্সফরমার ব্যবসা করবেন, মাথা খারাপ হয়েছে! আপনি লুঙ্গি বানান। দেশে ৮-১০ কোটি লোক। এর মধ্যে অর্ধেক পুরুষ হলেও পাঁচ কোটি। লুঙ্গি বানান, ভালো ব্যবসা হবে। কিন্তু আমরা বিভ্রান্ত হইনি। আমাদের তখন মনে হয়েছে, যে ব্যবসার মধ্যে টেকনোলজি নেই, ইনোভেশন নেই, সে ব্যবসায় আমার আগ্রহ নেই। ব্যবসায় সৃষ্টিশীলতা, প্রকৌশল ও আইডিয়া থাকতে হবে।

শেয়ার বিজ: এনার্জিপ্যাকের কর্মীরা কি কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার?

হুমায়ূন রশীদ: এনার্জিপ্যাকের এখন সাতটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে এনার্জিপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং একটি। যেটি ট্রান্সফরমার, সুইস গিয়ার তৈরি ও রিপেয়ারিং করে। সেখানে প্রায় তিন হাজার কর্মী কাজ করেন। কোম্পানির নামে ৪০ শতাংশ শেয়ার। এর বাইরে পাঁচজন পরিচালকের নামে পাঁচ শতাংশ আর বাকি ৫৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক এখানে কর্মরত ৩০০ কর্মী। কর্র্মীরা শেয়ারহোল্ডার হলে তারা অনুভব করবেন যে, কোম্পানিটি তাদের। এর ফলে একদিকে কোম্পানির কমপ্লায়েন্সের জন্য তারা নিজেরাই মনিটরিং করবেন। দ্বিতীয়ত, তাদের শেয়ার অব্যাহত রাখার জন্য নিজের মতো করে কাজ করবে। এটা আমাদের একটি পলিসি। এ রকম প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে খুবই কম।
এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন আমাদের আরেকটি কোম্পানি। যা আমরা আইপিওতে নিয়ে যাচ্ছি। এনার্জিপ্যাক ইলেকট্রনিকস লিমিটেড, যা এনার্জি সেভিং বাল্ব তৈরি করে। কোম্পানিটি সোলার সিস্টেম নিয়েও কাজ করে। এছাড়া রয়েছে এনার্জিপ্যাক ফ্যাশন লিমিটেড। এ কোম্পানি বছরে প্রায় ৫০-৬০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করে। ভবিষ্যতে আমাদের পরিকল্পনা এ কোম্পানিকে আইপিওতে নিয়ে যাওয়া। আমাদের পরিকল্পনাÑযে ফ্যাব্রিকস এখন আমদানি হয়, তার কারখানা বাংলাদেশে করা। যাতে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হয়। আমাদের টেক অ্যাডভান্টেজ নামে একটি কোম্পানি রয়েছে। যেটি মূলত ইলেকট্রনিকস ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এনার্জিপ্যাক এগ্রো লিমিটেড নামে আরও একটি কোম্পানি রয়েছে। ভবিষ্যতে কোল্ড স্টোরেজ চেইন ব্যবসা করব বলে এ কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছি। বাংলাদেশে কোল্ড স্টোরেজের অভাবে অনেক কাঁচা পণ্য নষ্ট হয়। আম, কাঁঠালসহ অন্যান্য পণ্য স্টোরেজে সংরক্ষণ করে পরে রফতানি করাই আমাদের লক্ষ্য। চীনে আমাদের কাঁঠালের বিরাট বাজার রয়েছে। এছাড়া আমাদের ডমেস্টিক গার্মেন্টের একটি কারখানা রয়েছে। ও-কোড নামে আমাদের একটি নিজস্ব ব্র্যান্ড রয়েছে। এটি নিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো, বাংলাদেশে যে ভালো কাপড় দিয়ে পোশাক তৈরি হয়, সে কাপড় আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজারে বিক্রি করব। দেশের বাইরে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে আমাদের নীতিগত জটিলতা রয়েছে। সে জন্য দেশের বাইরে আমাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি হচ্ছে না। যদি সরকার সুযোগ দেয়, আমরা দেশের বাইরে ব্যবসা করে দেশের অর্থনীতিতে আরও বেশি অবদান রাখতে পারব। সে জন্য সরকার থেকে সুযোগ দেওয়া দরকার।

শেয়ার বিজ: বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বণ্টনে এনার্জিপ্যাকের ভূমিকা কতটুকু?

হুমায়ূন রশীদ: আমরা একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান। কমপ্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ প্রকল্পে কাজ করি। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ নিয়ে কাজ করি। এছাড়া সাব-স্টেশন যন্ত্রপাতি, ট্রান্সফরমার, সুইচ গিয়ার, ডিসকানেক্টিং সুইং এসব তৈরি করি। ১৩২ কিলো ভোল্ট থেকে ২৩০ কিলো ভোল্ট পর্যন্ত কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে আমাদের। আমরাই প্রথম দেশীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক টেন্ডারে বিডিং করে কাজ পেয়ে গোপালগঞ্জে ১০৮ মেগাওয়াট এবং ফরিদপুরে ৫৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি প্লান্ট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারকে বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি। প্লান্ট দুটি এখনও বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে সব থেকে বেশি বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করছে।

শেয়ার বিজ: এলপিজিতে কি আপনাদের বিনিয়োগের কোনো পরিকল্পনা আছে?

হুমায়ূন রশীদ: আগামী পাঁচ বছরের যে পরিকল্পনা, তার মধ্যে রয়েছে এলপিজিতে আমরা বড় একটি বিনিয়োগ করব। এরই মধ্যে আমরা এ খাতে বিনিয়োগ শুরু করেছি। বাংলাদেশে মোট যে গ্যাস ব্যবহার হয়, তার মধ্যে এলপিজির হার মাত্র ২৬-২৭ শতাংশ। ভারতে এ হার ৮৩-৮৪ শতাংশ। ভারতে প্রায় ৩০ বছর আগে থেকে এলপিজি ব্যবহার হলেও আমরা শুরু করেছি সাত-আট বছর আগে। এখনও আমরা এক মিলিয়ন টন এলপিজি ব্যবহারে যেতে পারিনি। যেখানে ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় এলপিজি ব্যবহারকারী দেশ; আর চীন প্রথম স্থানে। ফলে আমাদের দেশে এলপিজি খাত ভবিষ্যতে চমৎকার হবে, যদি আমরা পলিসি ও কাঠামো অনুসারে এগিয়ে যেতে পারি। ভবিষ্যতে গাড়ি, লঞ্চ সবকিছুতেই এলপিজি ব্যবহার করা যেতে পারে। সব জায়গায় তো সিএনজি নেই। তাই কারখানায় এলপিজি ব্যবহার করতে হবে।

শেয়ার বিজ: অন্য আর কোন খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা আছে?

হুমায়ূন রশীদ: আমরা জেনারেটর তৈরি ও আমদানি করি। জেনারেটর তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বড় কারখানা স্থাপন করতে চাই। আমাদের নতুন উদ্ভাবন নির্মাণসামগ্রী। এরই মধ্যে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্রকল্পে বিল্ডিং স্ট্রাকচারে কাজ করেছি। এক্ষেত্রে স্টিল স্ট্রাকচারে আরও কিছু নির্মাণসামগ্রী যুক্ত করছি। ভবিষ্যতে আগুন নিরোধক দরজা-জানালা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছর আমাদের বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং নতুন পণ্য বাজারে আসবে। যদি শুধু এনার্জিপ্যাকের কথাই বলি, আমরা গত দেড় বছরে এলপিজি খাতে ৩০০ কোটি টাকা, স্টিল স্ট্রাকচার ভবনে ৫০ কোটি এবং পোশাক খাতে ১২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি। এসব খাতে নতুন করে ছয় হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।

শেয়ার বিজ: স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দেশের বিদ্যমান কর কাঠামো কোনো জটিলতা সৃষ্টি করে কী?

হুমায়ূন রশীদ: দেশে কর্মসংস্থানের পরিবেশ সরকারকে তৈরি করতে হবে। এজন্য সরকারকে পলিসিতে হাত দিতে হবে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রকৌশল ব্যবসায় জন্য পৃথক কর কাঠামো প্রবর্তন করতে হবে। আমরা সাত শতাংশ কর দিই। আর বিদেশি কোম্পানি দেয় সাড়ে সাত শতাংশ। কিন্তু আমাদের কর দিতে হয় শতভাগ আয়ের ওপর। আর বিদেশি কোম্পানি তাদের আয়ের মাত্র সাত শতাংশের ওপর কর পরিশোধ করে। ফলে তাদের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি কর দিতে হয় দেশি কোম্পানিকে। এমন বৈষম্য দূর করা জরুরি। এ জটিলতা এনবিআরকে দূর করতে হবে। বিদেশি কোম্পানি অনেক স্মার্টভাবে করের বিষয়টি দেখে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কর্মসংস্থান তৈরি করবেন, আর কর কাঠামো দিয়ে আমাদের পিছিয়ে দেবেন, তাহলে কীভাবে হবে? ভারতসহ অন্যান্য দেশে করের ক্ষেত্রে দেশীয় কোম্পানিকে ছাড় দেওয়া হয়। আর বিদেশি কোম্পানির জন্য বাড়তি করারোপ করা হয়, যাতে অন্য দেশের কোম্পানি সে দেশে গিয়ে ব্যবসা করতে না পারে। একটু নীতি পরিবর্তন করলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বেড়ে যাবে। কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।

শেয়ার বিজ: এনার্জিপ্যাকে কত লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে?

হুমায়ূন কবীর: এনার্জিপ্যাকে প্রায় সাড়ে ৮০০ ইঞ্জিনিয়ার কাজ করেন। এর মধ্যে আট শতাংশ নারী। তারাসহ বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। আমাদের প্রতিষ্ঠানে কোনো বিদেশি কর্মী নেই। আমরা একজন কর্মীকে দক্ষ করে তুলতে অনেক অর্থ খরচ করি। বিশেষ করে যারা ইঞ্জিনিয়ার, তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়। লোকবল যদি প্রশিক্ষিত হয়, তাহলে তারা কোম্পানিতে ভালো অবদান রাখতে পারবে। বিদেশি একজন কর্মী এ কোম্পানিতে যোগ দিলে পূর্ণোদ্যম নিয়ে কাজ করবেন না। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের সংস্কৃতি হলো শেয়ার করে কাজ করা। সেজন্য প্রশিক্ষণ দিলে তারা ভালো কাজ করে। দেশে প্রশিক্ষিত জনবলের সংকট রয়েছে। এনার্জিপ্যাক চেষ্টা করে শতভাগ স্থানীয় জনবল নিয়োগ দিতে।

শেয়ার বিজ: দেশের এনার্জি খাতকে কোন পর্যায়ে দেখতে চান?

হুমায়ূন রশীদ: আমাদের যে কোনো কিছু করতে হলে দরকার জ্বালানি নিরাপত্তা। যদি জ্বালানি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে দেশের উন্নতি হয় না। এখন পর্যন্ত দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় চ্যালেঞ্জ আছে। এ খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার চেষ্টা করছে। কারণ ১০ বছর আগেও বিদ্যুতে ঘাটতি ছিল। এখন তা প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু জ্বালানি সাশ্রয় ও সচেতনতা তৈরি দরকার। ভবিষ্যৎ প্রজšে§র জন্য জ্বালানি সঞ্চয় দরকার। সরকারকে জ্বালানি সঞ্চয় সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।