বিষন্নতা

বিষন্নতা কখনও কখনও শারীরিক সমস্যার জন্যও হয়ে থাকে। আত্মহত্যার প্রধান কারণ বিষন্নতা। বিষন্ন রোগী নেতিবাচক চিন্তায় জড়িয়ে যায়। সে নিজেকে সব ধরনের ক্ষেত্রে পরাজিত ভাবে। কোনোভাবেই আত্মবিশ্বাস খুঁজে পায় না।
কারণ
স বিষন্নতা বংশপরম্পরায় চলতে পারে।
মা-বাবা উভয়ে বিষণœতা রোগে ভুগলে সন্তানদের বিষণœতা রোগ হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি বিষণœতায় ভোগে। নারীদের সামাজিক প্রেক্ষাপটকে এই হারের জন্য দায়ী করা হয়। বয়স একটি ফ্যাক্টর। বিষণœতার গড় বয়স ২০ থেকে ৪০ বছর। ইদানীং গবেষণায় দেখা যাচ্ছে শিশুরাও বিষণœতায় ভোগে। সোশ্যাল স্ট্রেস বা পারিপার্শ্বিক কাজের চাপও বিষণœতার একটি ফ্যাক্টর।
উপসর্গ
ওজন কমে যায়
কাজে উৎসাহ থাকে না
মন ভালো থাকে না
অপরাধ বোধ জন্মায়
কিছুতে আগ্রহ পায় না
কোনো কিছুতে আনন্দ পায় না
ঘুমে সমস্যা হয়
প্রায় প্রতিদিন ক্লান্তি ও অবসাদে ভোগে
চিন্তা করার সামর্থ্য কমে যায়
মনোযোগ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়
প্রায় প্রতিদিন সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে
ক্ষুধা কমে যায়
পেটের সমস্যা দেখা দেয়
শরীর দুর্বল লাগে
শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা অনুভূত হয়
আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যায়, বেঁচে থাকার ইচ্ছা কমে যায়
করণীয়
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে

মাদকাসক্তি
অনেকে মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্ত। মানুষ কেন মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে তার সঠিক ধারণা দেওয়া কঠিন। এ ব্যাপারে সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা পাঁচটি বিষয়কে দায়ী করেন। এগুলো হলোÑসামাজিক শৃঙ্খলার অভাব, বিচ্যুত আচরণ, মূল্যবোধ, সংঘাত ও অতৃপ্তি। এ কথা সত্য যে, সঙ্গী ও পরিবেশ মানুষকে মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্ত করে তোলে। তাছাড়া পারিবারিক ভাঙন, সমঝোতার অভাব, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শিথিল সম্পর্ক ও হতাশার কারণে মানুষ মাদকের প্রতি আসক্ত হচ্ছেন। আরও রয়েছে
মাদকের সহজলভ্যতা
মাদকাসক্তের সঙ্গে মেলামেশা করা কিংবা অতীতের মাদক নেওয়া স্মৃতির মধ্যে
ডুবে থাকা
নেতিবাচক অনুভূতি, যেমনÑক্রোধ, বিষাদ, একাকিত্ব, অপরাধবোধ, ভীতি কিংবা উদ্বেগের জালে সেঁটে থাকা
উৎসব উদযাপনের নামে দু-এক দিনের জন্য মাদক নেওয়া
দৈহিক উপসর্গ, যেমন ব্যথা,
জ্বালা-যন্ত্রণায় ভোগা

হঠাৎ হাতে প্রচুর টাকা-পয়সা চলে আসা
মাদকাসক্তির চিকিৎসা শেষে ‘পুরো ভালো হয়ে গেছি, এখন এক-দুবার মাদক নিলে এমন আর কী হবে’ এ ধরনের আত্মবিশ্বাসের ফাঁদে পা দেওয়া

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন
অতিমাত্রায় মাদকনির্ভর হয়ে পড়লে কিংবা মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তার চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হোন। সামাজিক দুর্নাম কিংবা সম্মানহানির গ্লানিতে না ভুগে হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রাখুন। একটা কথা মনে রাখতে হবে, নেশা ছাড়ার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানসিক শক্তি। মন থেকে নেশার জন্য গভীর অনুতাপ ও অনুশোচনা এবং নেশা করার জন্য নিজের ওপর বাস্তবিক ধিক্কার না এলে শত ওষুধ বা হাজার পরামর্শেও নেশা ছাড়া কোনোভাবেই সম্ভব হবে নয়।