বড় হচ্ছে স্কুটির বাজার

জাকারিয়া পলাশ: ১৯৫৭ সালে হোন্ডা সি-৫০ মোটরসাইকেলটি বাজারে এসেছিল। এ যাবৎকালে পৃথিবীতে এই ব্র্যান্ডটিই সর্বাধিক বিক্রি হওয়া মোটরসাইকেল বলে জানা যায়। এরপর অনেক ফ্যাশনেবল মোটরবাইক বাজারে এলেও তা জনপ্রিয়তায় হোন্ডা সি-৫০কে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। সামনের দিকে ফাঁকা এবং হালকা ডিজাইনের এ মোটরবাইকের অনুকরণে এখনও বাজারে আছে বিভিন্ন কোম্পানির বাইক। স্কুটি হিসেবে পরিচিত এগুলো নতুন করে আবার ফ্যাশনেবল হচ্ছে। দৃশ্যত হোন্ডা সি-৫০র মতো হলেও এগুলো যান্ত্রিকভাবে আরও হাল্কা ও সহজ। তাই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন স্কুটির প্রতি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণ মোটরসাইকেলের চেয়ে চালানো সহজ বলেই স্কুটির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে অনেকের। তবে মূল্য ও জ্বালানিসাশ্রয়ী না হওয়ায় বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। এদিকে বিদ্যুৎচালিত স্কুটিগুলো জ্বালানিসাশ্রয়ী ও স্বল্পমূল্যের হলেও অনুমোদন জটিলতার কারণে এগুলো সুবিধা করতে পারছে না বলে জানা গেছে।
সূত্রমতে, বাজারে বর্তমানে দুই ধরনের স্কুটি আছে। একটি হচ্ছে অকটেন বা পেট্রলচালিত। অপরটি বৈদ্যুতিক চার্জের মাধ্যমে চলে। রাজধানীর রামপুরা বাজারের পাশে বীর মোটরস নামে একটি কোম্পানির শোরুমে দেখা গেছে শুধুই বিদ্যুৎচালিত স্কুটি বিক্রি হতে। ওই কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, চীন থেকে বিযুক্ত অবস্থায় (সিকেডি) স্কুটির যন্ত্রাংশ আমদানি করে তা সংযোজিত হচ্ছে দেশে। পরে তা দেশের বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। কোম্পানিটির প্রায় ছয়টি বিভিন্ন মডেলের স্কুটি রয়েছে বাজারে। মডেলভেদে এসব স্কুটির মূল্য দেখা গেছে ৩৫ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে। অবশ্য অকটেনচালিত স্কুটিরগুলোর মূল্য এর চেয়ে বেশি।
এ প্রসঙ্গে ওই কোম্পানির ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের সহব্যবস্থাপক মো. আমজাদ হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বিদ্যুৎচালিত স্কুটি হিসেবে বীর গ্রুপের এই স্কুটিগুলো একসময় বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হতো। কিন্তু সরকারের নীতিগত কিছু জটিলতায় আমরা এখন ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছি। সরকার এ স্কুটিগুলো আমদানির জন্য আমাদের অনুমতি দিলেও এগুলো রাস্তায় চালানোর জন্য রোড-পারমিট দিচ্ছে না বিআরটিএ। ফলে কার্যত পণ্যটি বিক্রি করা কঠিন হচ্ছে। তবে দাম কম ও ওজনে হাল্কা হওয়ায় গ্রাহকরা এগুলো খুবই পছন্দ করছেন।’
রাজধানীতে গত পাঁচ বছর ধরে স্কুটি চালাচ্ছেন শামীমা নাসরিন। জানতে চাইলে তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, ‘একসময় দুই-তিন মাসে একজন মেয়েকে দেখতাম আমার মতো মোটরসাইকেল চালাতে। এখন প্রতিদিনই কয়েকজনের সঙ্গে দেখা হয়। নারীদের বাইক চালানোর বৃদ্ধিটা এখন এভাবেই দৃষ্টি কাড়ছে। তবে স্কুটি এখন নারী-পুরুষ উভয়ই চালাচ্ছে, বয়স্ক লোকেরাও চালাচ্ছে এবং তরুণরাও চালাচ্ছে। মোটকথা স্কুটি এখন ফ্যাশনেবল।’
স্কুটির অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে এ তরুণী আরও বলেন, ‘স্কুটি চালানো সহজ, কিন্তু এটি তেলসাশ্রয়ী নয়। এক লিটার তেলে ৩৫-৪০ কিলোমিটারের বেশি চলে না। তাছাড়া জ্বালানি তেলে চালিত স্কুটিগুলোর দামও অনেক বেশি। সামান্য ধাক্কা লাগলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এজন্য অমসৃণ রাস্তায় স্কুটি অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ নয়।’
জানা গেছে, বিদ্যুৎচালিত স্কুটির পাশাপাশি বাজারে রয়েছে বেশ কয়েকটি কোম্পাইটর স্কুটি, যা তেলচালিত। এসবের মধ্যে রয়েছে টিভিএস, মাহিন্দ্রা, হিরো, সুজুকি, গ্রিন টাইগার, পেপট ইত্যাদি। ৬০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার মধ্যে এসব স্কুটি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে অনেক স্কুটিচালক এখন অ্যাপসভিত্তিক রাউড শেয়ারিং ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছেন। শেয়ারিং ব্যবস্থা ও-ভাইয়ের এক নারী চালক সম্প্রতি জানান, ‘ঢাকা শহরে বাইকের চেয়ে স্কুটি অনেক সহজ। ক্লাচ ও গিয়ার না থাকায় এটা নিয়ন্ত্রণ করা অনেকটা বাইসাইকেলের মতোই সহজ।’
গ্রাহক ও বিক্রেতারা জানান, গিয়ার, ক্লাচ ও পায়ের ব্রেক না থাকায় স্কুটির নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ। ফলে অনেকেই সুবিধাজনক দ্বিচক্রযান হিসেবে এখন স্কুটির ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সোহেল রহমান ঢাকায় চলাচলের জন্য চালাচ্ছেন টিভিএস কোম্পানির একটি স্কুটি। তিনি জানান, একসময় অনেকেই স্কুটিকে বলত মেয়েদের বাহন, কিন্তু এখন ছেলেমেয়ে সবাই স্কুটি চালাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সোহেল রহমান বলেন, ‘বাহনের কোনো লিঙ্গ নেই। আমরাই বাহনের গায়ে নারী বা পুরুষের লেবেল লাগিয়েছি। আসলে চালানো সহজ হওয়ায় এটি ব্যবহার করছি।’