বিশ্ব বাণিজ্য

বুথফেরত জরিপে চাঙা ভারতের পুঁজিবাজার, ঊর্ধ্বমুখী রুপি

লোকসভা নির্বাচন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ভারতে গত রোববার সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোটের পর সবগুলো বুথফেরত জরিপে বিজেপির ক্ষমতায় আসার ইঙ্গিত মিলেছে। এতে গতকাল সোমবার চাঙা হয়ে উঠেছে দেশটির শেয়ারবাজার। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে ভারতীয় রুপিতেও। বুথফেরত জরিপের ফল বলছে, ৫৪৫ আসনের পার্লামেন্টে ৩৩৯ থেকে ৩৬৫ আসন পাবে নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি। খবর: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
জরিপের এমন ফল সামনে আসার পর গতকাল সকালে লেনদেনের শুরুতেই মুম্বাইভিত্তিক শেয়ারবাজার বোম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই) প্রধান সূচক সেনসেক্স বাড়তে শুরু করে। এক ধাক্কায় সেনসেক্স ৯৬২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ হাজার ৮৯২.৮৯ পয়েন্টে। শেয়ারের দর বেড়েছে ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের।
দিনের শুরুতেই শেয়ারবাজারের ইতিবাচক প্রবণতায় বিনিয়োগকারীরা তিন লাখ কোটি রুপিরও বেশি লাভের মুখ দেখেছে বলে জানা গেছে। গতকাল সারাদিনই বাজার চাঙা থাকবে বলে মনে করছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ধারণা, আগামী দু-তিন দিন তেমন পরিবর্তন হবে না বাজারে। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত আপাতত শেয়ারবাজার চাঙা থাকবে।
এর আগে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের শেষেও একই চিত্র দেখা গিয়েছিল। সেবারও বুথফেরত সমীক্ষায় বিজেপির সরকার গড়ার ইঙ্গিত মেলার পর লাফিয়ে বেড়েছিল শেয়ারবাজার। এদিকে গতকাল বেড়েছে ভারতীয় মুদ্রা রুপির মানও। এদিন ডলারের বিপরীতে রুপির দাম বেড়েছে ৬১ পয়সা।
এদিকে লোকসভা নির্বাচনের মৌসুমে জব্দ করা সম্পদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। গত রোববার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ সময়ে নগদ অর্থ, মদ, মাদক ও মূল্যবান ধাতু মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি রুপি অর্থের সম্পদ জব্দ করেছে।
ভারতে কয়েক দশকের মধ্যে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে তিক্ততাপূর্ণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে রোববার। দেড় মাস ধরে সাত ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছে লোকসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। প্রায় ৯০ কোটি ভোটারের দেশটিতে নির্বাচনের সময় অবৈধ প্রভাব খাটাতে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে অর্থ ও মাদক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
আগামী ২৩ মে ফল ঘোষণার আগেই রোববার নির্বাচনের সময় জব্দ করা সম্পদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় মোট ৮৩৯ দশমিক তিন কোটি রুপির নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় জব্দ করা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৩০৩ দশমিক ৮৬ কোটি রুপি। এছাড়া এ বছর বিভিন্ন মাদকের অর্থমূল্য প্রায় এক হাজার ২৭০ কোটি ৩৭ লাখ রুপি। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় এর পরিমাণ ছিল ৮০৪ দশমিক পাঁচ কোটি রুপি।
এ বছর বিভিন্ন সংস্থার জব্দ করা বিভিন্ন মূল্যমানের ধাতুর অর্থমূল্য ৯৮৬ কোটি ৭৬ লাখ রুপি। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জব্দ করা মদের অর্থমূল্য ২৯৪ কোটি ৪১ লাখ রুপি। এছাড়া এ বছর জব্দ করা অন্যান্য সম্পদের অর্থমূল্য ৫৮ কোটি ৫৬ লাখ রুপি।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তামিলনাড়ু থেকে সবচেয়ে বেশি সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। রাজ্যটি থেকে জব্দ করা হয়েছে ৯৫০ কোটি ১২ লাখ রুপি। এরপরই রয়েছে গুজরাট। সেখান থেকে জব্দ করা হয়েছে ৫৫২ কোটি ৭৮ লাখ রুপি। তৃতীয় স্থানে রয়েছে দিল্লি। ৪২৬ কোটি ১০ লাখ রুপির সম্পদ জব্দ করা হয়েছে সেখান থেকে।
সর্বনিন্ম জব্দ হওয়া রাজ্যগুলোর মধ্যে মিজোরাম ছয় লাখ, সিকিম ২৯ লাখ ও পদুচেরি থেকে ৭৯ লাখ রুপির সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

সর্বশেষ..