দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণে পরামর্শক নিয়োগে চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর যানজট নিরসনে বৃত্তাকার রেলপথ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সমীক্ষা পরিচালনার জন্য চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। গতকাল রেলভবনে এ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়।
চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে চায়না রেলওয়ে সিয়ান সার্ভে ও ডেজিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড এবং বাংলাদেশের দুটি প্রতিষ্ঠান বিইটিএস কনসালটিং সার্ভিস লিমিটেড ও ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড অ্যাডভাইজার্স লিমিটেড (ইএএল), বাংলাদেশ। চুক্তির মেয়াদ ধরা হয়েছে এক বছর।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২০ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমীক্ষার কাজ শেষ করতে হবে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ৫৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলওয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে একে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করে রাষ্ট্রের উন্নয়ন করে যাচ্ছেন।
মন্ত্রী বলেন, আমরা এ স্টাডি করছি সম্পূর্ণ সরকারের টাকায়। আগামী এক বছরের মধ্যেই রিপোর্ট দিতে হবে। ঢাকার চারপাশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধকে কেন্দ্র করে এ লাইন নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে তাড়া রয়েছে। এজন্য নির্ধারিত সময়ে কাজটি শেষ করতে হবে। এর স্টাডি করার সময় অন্যান্য সেবা সার্ভিসের সঙ্গে যাতে কোনো সাংঘর্ষিক না হয়, সেদিকে নজর রাখার জন্য গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
তথ্যমতে, বৃত্তাকার রেলপথ প্রকল্পের আওতায় ঢাকার চারদিকে তৈরি করা হবে ৮১ দশমিক ৯ কিলোমিটার বৃত্তাকার রেলপথ। রেলপথটি গাজীপুরের টঙ্গী থেকে শুরু করে আবার টঙ্গী স্টেশনে এসে শেষ হবে। টঙ্গী, ধউড়, উত্তরা, বিরুলিয়া, মিরপুর চিড়িয়াখানা, শঙ্কর, নবাবগঞ্জ, বাবুবাজার, সদরঘাট, শ্যামপুর, ডেমরা, পূর্বাচল ও তেরমুখ হয়ে আবার টঙ্গী গিয়ে শেষ হবে।
প্রথমদিকে অবশ্য পরিকল্পনা করা হয়েছিল রেলপথটি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের তারাব সেতু এলাকা থেকে শুরু হবে। তারপর ইস্টার্ন বাইপাস, আবদুল্লাহপুর, ডিএনডি বাঁধ, লালবাগ, পোস্তগোলা, কদমতলী হয়ে আবার তারাবতে গিয়ে শেষ হবে। তবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর রুট চূড়ান্ত হবে। রেলপথটি নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকা। বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে তিন বছর। পুরো রেলপথে কোনো লেভেলক্রসিং থাকছে না। লেভেলক্রসিং থাকলেই সৃষ্টি হয় যানজট। এ জন্য পুরো রেলপথটাই হবে উড়ালপথ। এ পথে থাকবে ২০টি রেলস্টেশন। সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পাঁচ মিনিট পরপর দু’দিক থেকেই চলবে ট্রেন। রাজধানীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলাচলে ২৫ মিনিট লাগবে। রেলপথের টিকিট ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হবে স্মার্ট কার্ড।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জল হোসেন, রেলওয়ের মহাপরিচালক কাজী রফিকুল আলম প্রমুখ।

সর্বশেষ..