বৃহৎ খাতগুলোর লেনদেন আশঙ্কাজনক হারে কমছে

 

রুবাইয়াত রিক্তা: টানা চার কার্যদিবস ধরে মন্দার কবলে রয়েছে পুঁজিবাজার। বড় খাত বিশেষ করে ব্যাংক খাতে চরম মন্দা বিরাজ করছে। প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়নসহ অন্যান্য বৃহৎ খাতের লেনদেনও আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। যার কারণে বিবিধ খাত, বিমা ও সিমেন্ট খাত লেনদেনের শীর্ষপর্যায়ে চলে আসছে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব সূচক পতনের পাশাপাশি লেনদেন নেমে আসে ৪০০ কোটির ঘরে। মাত্র ২৫ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে প্রায় ৬৫ শতাংশের দর। বাজারে নেতৃত্ব দিয়েছে বিবিধ খাত। এ খাতে লেনদেন হয় ৫৪ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৩ শতাংশ। এ খাতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। বেক্সিমকো লিমিটেডের ৩৯ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা ছিল ওই খাতে মোট লেনদেনের সাড়ে ৭২ শতাংশ। কিছুদিন ধরে একটানা বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে কোম্পানিটি। তবে গতকাল শেয়ারটি থেকে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা থাকায় দর কমেছে এক টাকা ৯০ পয়সা। সর্বোচ্চ সংখ্যক শেয়ার লেনদেনেও নেতৃত্ব দেয় কোম্পানিটি। এ খাতের মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে। এর পরে ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১২ শতাংশ বা সাড়ে ৪৮ কোটি টাকা। এ খাতে লেনদেন কমে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। এ খাতের ৪১ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। বীকন ফার্মা দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় অবস্থান করে। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১১ শতাংশ। এ খাতের ৩৬ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। এ খাতে লেনদেন কমেছে ১৭ কোটি টাকা। মুন্নু স্টাফলার দরবৃদ্ধির শীর্ষদশে অবস্থান করে। বিমা খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ। এ খাতে ৩২ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। লেনদেন কমেছে প্রায় আট কোটি টাকা। ব্যাংক খাতে লেনদেন কমেছে আট শতাংশ। অন্যদিকে বস্ত্র খাতে এক শতাংশ ও খাদ্য খাতে লেনদেন বেড়েছে তিন শতাংশ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বেড়েছে এক শতাংশ। সিমেন্ট খাতে লেনদেন বেড়েছে চার শতাংশ। সিমেন্ট খাতের মোট লেনদেনের ৮৬ শতাংশের বেশি হয় লাফার্জ সুরমার। কনফিডেন্স সিমেন্টের ছিল ১১ শতাংশ। গতকাল লাফার্জ সুরমার সাড়ে ২৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। শেয়ারটির দর বেড়েছে দুই টাকা ৭০ পয়সা। এছাড়া নর্দার্ন জুটের সাড়ে ১২ কোটি, পদ্মা লাইফের প্রায় ১০ কোটি, ব্রাক ব্যাংক ও মুন্নু সিরামিকের সাড়ে ৯ কোটি এবং জেমিনি সী ফুডের সোয়া ৯ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। গতকাল জেমিনি সী ফুডের দর ২১ টাকা ৫০ পয়সা বেড়েছে।