বেনাপোল স্থলবন্দর যানজটমুক্ত করতে অভিযান

প্রতিনিধি, বেনাপোল: যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর যানজট মুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরীর নেতৃত্বে গতকাল বৃহস্পতিবার এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকা থেকে প্রাইভেটকার, ইজিবাইক ও অবৈধ যানবাহনের স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা হয়। এসব অবৈধ যানবাহন স্ট্যান্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দু’দেশের মধ্যে ব্যাহত হচ্ছিল আমদানি-রফতানি বাণিজ্য।
কলকাতা থেকে বেনাপোল বন্দরের দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার এবং সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় দেশের আমদানিকৃত পণ্যের সিংহভাগ আসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। বন্দরে স্থান সংকটের কারণে পণ্যজটে আক্রান্ত হতে থাকে বেনাপোল বন্দর। বিপাকে পড়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর পণ্যজটের সঙ্গে সঙ্গে বন্দর এলাকায় বাড়তে থাকে যানজটও। বেনাপোল বন্দরের দেড় কিলোমিটার এবং ভারতের পেট্রাপোল বন্দর থেকে চাকদা রোডের ২৩ কিলোমিটার পর্যন্ত আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাকের জট লেগেই থাকে সবসময়। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দিনে ৫০০ ট্রাক পণ্য আমদানি হতো ভারত থেকে। বর্তমানে আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ৩০০ ট্রাকে।
অর্থাৎ ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে থাকে শত শত ট্রাক। ভারতের রফতানিকারকরা তাদের পণ্য বোঝাই ট্রাক ছাড়ার পর পেট্রাপোল বন্দরে আসার পর থেকেই বাংলাদেশি আমদানিকারকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ডেমারেজ বাবদ ট্রাকপ্রতি আড়াই হাজার রুপি ডেমারেজ আদায় করে থাকেন। এমন ডেমারেজ দিতে হয় ১৫ থেকে ২০ দিন। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এসব সমস্যা নিরসনে কলকাতা কাস্টম হাউজ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পত্র দেন কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনারকে। চিঠিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় চেকপোস্টে যানজট সমস্যা সমাধানের। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সকালে বন্দরের সামনের সড়ক থেকে ট্রাক চেসিস সরিয়ে বন্দরের অভ্যন্তরে নতুন ট্রাক টার্মিনালে নেওয়া হলে সড়ক যানজট মুক্ত হয়।
বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান, দু’দেশের জয়েন্ট গ্রুপ আব কাস্টমসের মিটিং এ বেনাপোল চেকপোস্টকে যানজট মুক্ত করার আহ্বান জানানো হয় ভারতীয় কাস্টমসের পক্ষ থেকে। যানজটের কারণে আমদানি কমে রাজস্ব আয়ও কমে যাচ্ছিল। বিজিবি, পুলিশ, আনসার সিএন্ডএফ এজেন্টস ও ট্রাক শ্রমিকদের সহযোগিতায় চেকপোস্টকে যানজট মুক্ত কারায় আমদানি বাড়তে শুরু করেছে।