বেশি দামে রেলকোচ কেনার ডিপিপি যাচাই করুন

দীর্ঘস্থায়ী, নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ যাতায়াতে রেলপথ বা ট্রেন মানুষের প্রথম পছন্দ। পরিবেশবান্ধব আর অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী হওয়ায় এটি পণ্য পরিবহনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এদিকে জনসংখ্যার বৃদ্ধিতে সড়কপথের ওপর পড়ছে অতিরিক্ত চাপ; ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্যও কম নয়। সড়কে দুর্ঘটনা, যানজট বেড়েছে। বেড়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও।
বাংলাদেশ রেলওয়েকে আধুনিক, নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও যাত্রী সেবামূলক গণপরিবহন হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রেলের উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে ২০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্লান আর চার ধাপে চলছে এর বাস্তবায়ন। কিন্তু এখানেও অনিয়মে ব্যয় বাড়ছে। গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘৬৫ শতাংশ বেশি দামে ২০০ কোচ কিনবে’ শীর্ষক প্রতিবেদন সবার মনোযোগ কাড়বে।
এতে বলা হয়েছে, ২০০ ব্রডগেজ কোচ কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৮৪৯ কোটি দুই লাখ টাকা। এর মধ্যে এক হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকা ঋণ দেবে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। আর ৪০৮ কোটি ২২ লাখ টাকা আসবে সরকারের তহবিল থেকে। এতে প্রতিটি কোচের দাম পড়ছে ভ্যাট-শুল্কসহ প্রায় ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আর ভ্যাট ও শুল্ক বাদ দিয়ে প্রতিটি কোচের দাম ধরা হয়েছে সাত কোটি ৬২ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
এদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণে ৫০টি ব্রডগেজ কোচ কিনছে রেলওয়ে। গত বছর জুনে কোচগুলো কেনায় চুক্তি সই হয়। এতে কোচপ্রতি ব্যয় পড়ছে শুল্ক-ভ্যাট ছাড়া চার কোটি ৬০ লাখ ৭১ হাজার টাকা। ইন্দোনেশিয়ার ইনকা-পিটি ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে কোচগুলো কেনা হচ্ছে। অর্থাৎ বর্তমানে চলমান প্রকল্পের চেয়ে প্রতিটি কোচের দাম বেশি ধরা হয়েছে প্রায় তিন কোটি দুই লাখ টাকা বা ৬৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
এদিকে রেলওয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি দামে কোচ কেনা হয়েছিল ভারত থেকে। দেশটির ঋণে (এলওসি) কেনা কোচগুলো গত বছর রেলের বহরে যুক্ত হয়। ১২০টি ব্রডগেজ কোচ কেনায় ব্যয় হয়েছিল ৯৭৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এতে ভ্যাট-শুল্ক ছাড়া ব্যয় হয় ছয় কোটি ৩৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ভারতীয় ঋণে সীমিত দরপত্রে কেনায় কোচগুলোর দাম কিছুটা বেশি পড়ে।
রেলে কিছু অনিয়ম রয়েছে। এর টিকিট সংগ্রহে দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ। রেলের গুদামজাত পণ্য বা জমির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। জ্বালানি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কেনাবেচা হয়।
বেশ সুযোগ থাকতেও রেলওয়েকে লাভজনক করে তুলতে পারিনি আমরা। দুর্নীতি, চুরি ও অব্যবস্থাপনার কারণে এটি প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারছে না। এ অবস্থায় বাজারমূল্য যাচাই না করে কোচগুলোর দাম নির্ধারণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অর্থ লোপাট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে ৬৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে আনা নি¤œমানের ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট-ডিইএমইউ (ডেমু) ট্রেন কেবল রেলকে বেকায়দায় ফেলেনি; যাত্রীদেরও দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। এসব উদাহরণ থাকা সত্ত্বেও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দুঃখজনক। ৬৫ শতাংশ বেশি দামে ২০০ কোচ কেনার ডিপিপি এখনও যাচাই-বাছাই করে দেখার সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে পর্যাপ্ত যাচাইয়ের পরই এটা একনেকে উত্থাপিত হবে বলে প্রত্যাশা।