সম্পাদকীয়

বেসরকারি খাতে এলএনজি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনুন

গ্যাস একটি মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার উৎপাদন, শিল্প, জ্বালানি ও গৃহস্থালি কাজে এর বহুমুখী ব্যবহার কেবল মানবজীবনকে স্বস্তিই দিচ্ছে না, আধুনিক সভ্যতায়ও অবদান রাখছে। আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যিক জ্বালানি ব্যবহারের অন্তত তিন-চতুর্থাশই পূরণ করে। মহামূল্যবান এ সম্পদের যথার্থ ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া অতিগুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে গ্যাসনির্ভর শিল্পের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সংকট নিরসনে গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।
গ্যাসের চাপ বাড়ানো ও উৎপাদন বিষয়ে গুরুত্বারোপের পাশাপাশি বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনয়ন জরুরি। কেননা বিতরণ কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ব্যতিরেকে জ্বালানি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও অনিয়ম দূর করা একেবারেই অসম্ভব। দেশজ গ্যাসের সংকটের মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করা হচ্ছে। দেশজ গ্যাসের সঙ্গে এলএনজি মিশিয়ে পাইপলাইনে দেওয়ায় গ্যাসের দাম বেড়ে যাচ্ছে। শিল্প খাতে গ্যাসের ব্যবহার বাড়ছে। সংকট সামলাতে ২০১০ সাল থেকে দীর্ঘদিন ধরে আবাসিকে নতুন সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। আবাসিকে এলপিজি ব্যবহারে অনুপ্রাণিত করছে সরকার।
আমদানি করা এলএনজি দেশে উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্গে মিশ্রণের মাধ্যমে বিক্রি করে বিতরণ কোম্পানিগুলো। কিন্তু এত দিন এলএনজি সরকারিভাবেই আমদানি হচ্ছিল। কিন্তু তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে গ্যাস সংকট ক্রমেই প্রকট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘নীতিমালা জারি: এলএনজি আমদানির সুযোগ পাচ্ছে বেসরকারি খাত’ শীর্ষক প্রতিবেদন সাধারণ মানুষের মনে আশার সঞ্চার করবে।
খবরে বলা হয়, নিজস্ব চাহিদা মেটাতে এবার সরাসরি গ্যাস আমদানির সুযোগ পাচ্ছে বেসরকারি খাত। পাশাপাশি বেসরকারি অন্য কোম্পানির কাছেও বিক্রি করা যাবে আমদানিকৃত এলএনজি। এলএনজি আমদানিতে বেশকিছু শর্ত তুলে ধরা হয়েছে। শর্ত ভঙ্গ করলে তার লাইসেন্স বাতিল করার ক্ষমতাও রাখবে সরকার।
আমরা মনে করি, বেসরকারি উদ্যোগে এলএনজি আমদানি করা হলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। তবে কোনোভাবেই আমদানিকারকরা যেন বেপরোয়া না হয়ে ওঠে। আমদানি, বাজারজাতকরণ ও বিপণন সব পর্যায়েই নীতিমালায় বলা হচ্ছে, এলএনজি আমদানিকারক ও ব্যবহারকারী উভয়পক্ষ অর্থাৎ ক্রেতা ও বিক্রেতা স্বাধীনভাবে গ্যাস ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি করতে পারবেন। এখানে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তবে চুক্তি যেন কোনোভাবেই ‘যোগসাজশে’ পর্যবসিত না হয়, সেদিকে সতর্ক নজরদারি প্রয়োজন। সুষ্ঠু নীতিমালা না থাকায় এলপিজি আমদানিতে নৈরাজ্য বিরাজ করেছে। সে দৃষ্টান্ত বিবেচনায় রেখে এলএনজি আমদানি করা হবে বলেই প্রত্যাশা। অবশ্যই মনে রাখতে হবে নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলেই আমদানির সুফল পাবে সাধারণ মানুষ।

সর্বশেষ..