সম্পাদকীয়

বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশেও শিল্পায়ন হচ্ছে দ্রুত। অর্থনীতির আকারও ক্রমেই বড় হচ্ছে। এজন্য অবকাঠামোর উন্নয়নও হচ্ছে দ্রুতই। শিল্প এবং অবকাঠামো ছাড়াও বিভিন্ন খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন থাকায় সেখানে বিনিয়োগ জরুরি। সারাবিশ্বে এ ধরনের অর্থসংস্থানের জন্য বেসরকারি বিনিয়োগকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে। অন্যদিকে সরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন অর্থনীতিবিদরাও। এ পরিস্থিতি সৃষ্টির কারণ খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘বেসরকারি বিনিয়োগের ধীরগতি অর্থনীতিতে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে মুদ্রানীতিতে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১৬ শতাংশ। যদিও গত মার্চ শেষে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে সাত দশমিক ৯৫ শতাংশ। ফলে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সরকার। এ দুই অবস্থাকে ভালো চোখে দেখছেন না অর্থনীতিবিদরা। এটি অর্থনীতিতে উদ্বেগ তৈরি করছে বলেও তারা মত দিচ্ছেন। এ কারণে বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে আমরা মনে করি।
অর্থনীতিতে সরকারি-বেসরকারি উভয় ধরনের বিনিয়োগই গুরুত্বপূর্ণ। তবে বেসরকারি বিনিয়োগকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় এদেশে। কারণ সরকারি বিনিয়োগ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যয় হয়। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সুফল আসে ধীরে কিংবা কম। অন্যদিকে বেসরকারি বিনিয়োগ হয় শিল্প কিংবা দ্রুত প্রবৃদ্ধিসম্পন্ন খাতে। এতে সবক্ষেত্রে সুফল মেলে দ্রুত। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, এক বছরের ব্যবধানে বেসরকারি বিনিয়োগ কমেছে চার দশমিক ৩৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হওয়ার ব্যাপার রয়েছে।
খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমার জন্য বেসরকারি খাতকে দায়ী করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আবার সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি জাতীয় সঞ্চয়পত্র নির্ভর। সব মিলিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া ও সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে ভালো বলছেন না বিশেষজ্ঞরা। দেশে রাজনৈতিকসহ সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলা চলে। এরপরও বিনিয়োগ না বাড়ার কারণ খতিয়ে দেখতে হবে। বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত উচ্চ সুদহারসহ যেসব সমস্যার কথা সামনে আসছে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া অনিয়ম, দুর্নীতি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপসহ নানা সমস্যা আমাদের অর্থনীতিতে রয়ে গেছে। এসব সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে বিনিয়োগ পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সর্বশেষ..