বেড়েছে বিক্রির প্রবণতা

বাজেট প্রতিক্রিয়া

রুবাইয়াত রিক্তা: সম্প্রতি ঘোষিত বাজেটে পুঁজিবাজার নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা না থাকায় বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়েছেন, যে কারণে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বেড়ে গেছে। ফলে বাজারে ধারাবাহিক পতন নেমে এসেছে। এবারের বাজেটে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহার হ্রাস এবং রফতানিমুখী তৈরি পোশাক খাতে তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির আয়করে ব্যবধান টানা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিনিয়োগকারীদের উজ্জীবিত করার মতো কোনো ঘোষণা না থাকার বিষয়টি বাজারসংশ্লিষ্টদের হতাশ করেছে। ফলে বাজারে চলছে বিক্রির প্রবণতা। সব খাতেই বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে।
গতকাল সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয় বস্ত্র খাতে। এ খাতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬৮ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৬ শতাংশ। এ খাতে ৩০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। কুইন সাউথের দর ১০ শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে। কোম্পানিটির ১০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এছাড়া রহিম টেক্সটাইলের দর সাত শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধিতে দশম অবস্থানে উঠে আসে। আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের ১২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এরপর প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১৪ শতাংশ। এ খাতের ৩৮ শতাংশ শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল। আজিজ পাইপসের দর প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধিতে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে আসে। অ্যাটলাস বাংলাদেশের দর আট শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে। বিবিধ খাত ও ওষুধ রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১৩ শতাংশ করে। বিবিধ খাতে ৫০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। এ খাতের বার্জার পিবিএলের সাড়ে ১৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর বেড়েছে এক টাকা ৭০ পয়সা। রেকর্ড ডেটের আগে গতকাল স্পট মার্কেটে লেনদেন হয় শেয়ারটির। এছাড়া বেক্সিমকো লিমিটেডের সাড়ে ১৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। উসমানিয়া গ্লাসের প্রায় আট কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৪১ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে অ্যাম্বি ফার্মা, কোহিনুর কেমিক্যাল, ফার্মা এইড, লিবরা ইনফিউশন ও জেএমআই সিরিঞ্জ। এসব কোম্পানির দর সাত থেকে সাড়ে আট শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর মধ্যে ফার্মা এইডের সাড়ে ১৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে লেনদেন হয় ১২ শতাংশ। এ খাতে ৩৬ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। ইউনাইটেড পাওয়ারের প্রায় ১৯ কোটি টাকার এবং ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের ১১ কোটি টাকার লেনদেন হয়। মন্দা বাজারেও বিক্রেতা সংকট দেখা যায় আজিজ পাইপস, আরামিট ও লিবরা ইনফিউশনের।