সম্পাদকীয়

বৈদেশিক ঋণ যেন ঝুঁকির কারণ না হয়

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমেই ভালো হচ্ছে। বাড়ছে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)। বাড়ছে মানুষের মাথাপিছু আয়। এছাড়া চূড়ান্তভাবে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার পথে রয়েছে দেশ। এ অবস্থায় দ্রুতগতিতে বাড়ছে বৈদেশিক ঋণও। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হওয়ার সুবাদে স্বল্প সুদ বা বিনা সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমছে। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশ সুদের হার বাড়িয়েছে। তবে বাংলাদেশ এখন আর বিদেশি সাহায্যনির্ভর দেশ নয়। রফতানি, রেমিট্যান্সের পরিমাণ অনেক বেড়েছে, তুলনায় বিদেশি সহায়তা গ্রহণ কমেছে। এসব খবর আশাব্যঞ্জক হলেও গতকাল শেয়ার বিজের প্রধান প্রতিবেদন ‘পাঁচ বছরে দ্বিগুণের বেশি বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ’ ভাবনার উদ্রেক করবে বৈকি।
খবরে বলা হয়, বৈদেশিক ঋণের চাপ বাড়ছে রিজার্ভ ও বিনিময় হারে এবং ঊর্র্ধ্বগতিতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ সংগ্রহের প্রবণতা। ফলে পাঁচ বছরের ব্যবধানে সরকারি-বেসরকারি খাত মিলিয়ে বৈদেশিক ঋণের দায় দ্বিগুণের বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৪৭০ কোটি ডলারে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরেই রেকর্ড পরিমাণ ৯৫০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে বিদেশি উৎসের এসব ঋণ উৎপাদনশীল খাতে গেলে অর্থনীতির জন্য ভালো। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ সুবিধা কাজে লাগাতে পারে।
বাজেট ঘাটতি মেটাতে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিতে হয়। এ ঋণ প্রতিবছরই বাড়ছে। ব্যয়বহুল অভ্যন্তরীণ ঋণ নেওয়ায় বাজেট শৃঙ্খলাও নষ্ট হচ্ছে। ঋণ পরিশোধে বিপুল অর্থ খরচ হয়ে যাচ্ছে সুদ পরিশোধে। বলা হয়ে থাকে কেবল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শুধু সুদ পরিশোধে যত টাকা বরাদ্দ ছিল, তা দিয়ে পদ্মা সেতুর মতো সেতু নির্মাণ করার পরও আরও অর্থ বেঁচে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নটি থাকায় বিদেশি ঋণে সরকারের আগ্রহ কম। আমরা মনে করি, বিদেশি সহায়তা কিংবা অভ্যন্তরীণ ঋণ সহায়তার পরিবর্তে অংশীদারি বাড়িয়ে বেসরকারি খাতের টেকসই অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে বড় অঙ্কের বিদেশি ঋণগুলো যাতে কোনোভাবেই দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিতে উন্নয়ন কৌশল ও নীতিতে পরিবর্তন আনা জরুরি। সক্ষমতা যাচাই করেই ঋণ নেওয়া হোক, এটি যেন অবিবেচনাপ্রসূত না হয়। বিশেষজ্ঞ-অংশীজনদের পরামর্শ আমলে নিয়ে উন্নয়ন বিনিময়, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কূটনীতির সমন্বয় করা গেলে ঋণনির্ভরতা কমবে বলেই আমরা আশা করি।

সর্বশেষ..