বিশ্বসাথে

বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়লেও চাহিদা থাকবে জ্বালানি তেলের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়লেও সড়ক পরিবহন খাতে জ্বালানি তেলের ব্যবহার খুব শিগগিরই কমবে না; বরং ২০৪০ সাল নাগাদ এ খাতে তেলের ব্যবহার বাড়বে। সম্প্রতি জ্বালালি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড অয়েল আউটলুক-২০১৭’ শীর্ষ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। খবর আরব নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা ছিল প্রতিদিন ৯৫ দশমিক চার মিলিয়ন ব্যারেল। ২০৪০ সালে চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে প্রতিদিন ১১১ মিলিয়ন ব্যারেলে।

বর্তমানে মোট জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় সড়ক পরিবহন খাতে। এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছে ওপেক। প্রতিবেদনমতে, ২০১৬ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে প্রতি নতুন তিন ব্যারেল তেলের মধ্যে সড়ক পরিবহন খাতে ব্যবহার হবে এক ব্যারেল।

গত বছর সড়ক পরিবহন খাতে প্রতিদিন ৪২ দশমিক আট মিলিয়ন ব্যারেল তেল ব্যবহার হয়েছে। এটি মোট চাহিদার ৪৫ শতাংশ। ওপেক প্রত্যাশা করছে, ২০৪০ সাল নাগাদ এ খাতে চাহিদা বাড়বে প্রতিদিন পাঁচ দশমিক চার মিলিয়ন ব্যারেল। অর্থাৎ প্রতিদিন সড়ক পরিবহন খাতে জ্বালানি তেলের ব্যবহার দাঁড়াবে ৪৮ দশমিক তিন মিলিয়ন ব্যারেলে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জ্বালানিচালিত গাড়ির ব্যবহার নিষিদ্ধের পরিকল্পনা করলেও ওপেক ২০৪০ সালেও এসব গাড়ি নিয়ে আশাবাদী। সংস্থাটি বলছে, এসব গাড়ির বিকল্প যে শুধু বৈদ্যুতিক গাড়ি এমন নয়, প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত গাড়ি বা ন্যাচারাল গ্যাস ভেহিকল (এনজিভি) ও জ্বালানি সেল যানবাহন বা ফুয়েল সেল ভেহিকলও (এফসিভি) তেলচালিত গাড়ির প্রতিযোগী।

প্রতিবেদনমতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাইরেও প্রচলতি যাত্রীবাহী গাড়ির সংখ্যা এক হাজার ৪০ মিলিয়ন ইউনিট থেকে বেড়ে ২০৪০ সালে এক হাজার ৬০০ মিলিয়ন ইউনিট হবে। এর মধ্যে প্রচলিত গাড়ির বিকল্প (এনজিভি, এফসিভি, বৈদ্যুতিক গাড়ি) থাকবে ১৬ শতাংশ এবং শুধু বৈদ্যুতিক গাড়ির সংখ্যা থাকবে ১১ দশমিক ছয় শতাংশ।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ টনি সেবা এক গবেষণায় জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এর পরিবর্তে চালু করা হবে বিদ্যুৎচালিত গাড়ি। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে। এতে করে নতুন পরিবহন ব্যবস্থা কেমন হতে পারেÑসে বিষয়ে দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন টনি।

ইতোমধ্যেই ২০৩০ সাল থেকে পেট্রল ও ডিজেলচালিত সব গাড়ি বিক্রি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি। দেশটির ১৬টি প্রদেশের আইনসভায় এ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। পাশাপাশি পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়িতে চড়ায় বেশি করারোপের প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ..



/* ]]> */