বৈরী আবহাওয়ায় বহির্নোঙরে খোলা পণ্য খালাস বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র কারণে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে গম, সার ও চিনিজাতীয় খোলা পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। তবে কনটেইনার হ্যান্ডলিং অনেকটা স্বাভাবিক ছিল। অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় তিতলির কারণে আবহাওয়া অধিদফতর দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে। এ সতর্কতামূলক অবস্থানের কারণে গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে গম, সার ও চিনিজাতীয় খোলা পণ্য খালাস বন্ধ ছিল। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যের ওপর নির্ভর করে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ।
উত্তাল সময়ে বহির্নোঙরে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ। একটি বড় জাহাজের পাশে ছোট জাহাজ বেঁধে পণ্য খালাস করতে হয়। এর মধ্যে বৃষ্টি পড়লে গম, চাল, চিনি ইত্যাদি নষ্ট তো হবেই। তাই এ ধরনের পণ্য খালাস বন্ধ থাকে। বৃষ্টি থামলে বৈরী আবহাওয়া কেটে গেলে আবার শুরু হয় খালাসের কাজ। তবে স্টিল, ক্লিংকারসহ যেসব পণ্য বৃষ্টিতে নষ্ট হয় না, সেগুলো যতক্ষণ সম্ভব খালাস করা হয়।
লাইটারেজ জাহাজ পরিচালনা-সংশ্লিষ্টরা জানান, সাগরের ৪ নম্বর সংকেত ঘোষণা ও ভারী বৃষ্টির কারণে লাইটার জাহাজ বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি অবস্থানরত জাহাজগুলো নিরাপদে অবস্থান করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাদের কাছে নিরাপত্তাই সর্বাগ্রে। ফলে সব ধরনের জাহাজের লোকজন অলস সময় পার করছেন।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক শেয়ার বিজকে বলেন, আসন্ন ঘূর্ণিঝড় তিতলিকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গতকাল বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে শস্যজাতীয় খোলাপণ্য খালাস (লাইটারিং) বন্ধ রয়েছে। তবে বন্দরের জেটিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল।