বৈশাখে ইলিশ ঘিরে সৃষ্ট সচেতনতা

মর্যাদাসম্পন্ন একটি ইংরেজি দৈনিকে শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলা নববর্ষের প্রাক্কালে বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ থাকলেও এবার ক্রেতা বেশি ছিল না। চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় চৈত্র মাসের শেষ দিন বিকালে রাজধানীর মিরপুর ও কারওয়ান বাজারের মতো স্থানে ইলিশ নাকি বিক্রি হয়েছে ‘প্রত্যাশা’র তুলনায় কিছুটা কম দামে। ব্যবসায়ীদের অভিমত ওই দিন যারা ইলিশ কিনেছেন, তারা নিয়েছেনও পরিমাণে কম। এবারের বাংলা নববর্ষ বরণে ইলিশ ঘিরে ভোক্তাদের এমন সচেতনতা দৃষ্টিগোচর হয়েছে আমাদেরও। এটা অবশ্যই আনন্দের। বস্তুত এ সময়ে ব্যাপকভাবে ইলিশ আহরণ যে মাছটির প্রজননের অনুকূল নয়, সে ব্যাপারে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে ক’বছর ধরে। ধারণা করা যায়, এর কল্যাণেই সৃষ্টি হয়েছে এমন সচেতনতা। আশা করি, এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

আমাদের মৎস্য খাতে ইলিশের রয়েছে বড় অবদান। এখন মাছটির প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে ব্যাপকভাবে ইলিশ আহরণ করলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় উৎপাদন। বাজারে এর সরবরাহ কম থাকলে অন্যান্য মাছের দাম বাড়ে। সার্বিকভাবে বলা যায়, ইলিশ উৎপাদন ব্যাহত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অর্থনীতি। ক’বছর ধরে মৌসুম চলাকালে ইলিশ আহরণ ক্ষেত্রগুলোয় মাছটির যে ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে, সেটাও প্রজনন মৌসুমে এটি ধরা থেকে বিরত থাকারই ফল। দেশের বাইরেও রয়েছে ইলিশের ব্যাপক চাহিদা। উৎপাদন বাড়লে এটি রফতানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার আয়ও বাড়ানো যাবে। এজন্য আমরা চাইব, প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখার ব্যাপারে আরও কঠোর মনোভাব দেখাবে সরকার। এটি করা গেলে অর্থনীতিতে ইলিশের অবদান আরও বাড়বে বলেই মনে হয়।

বঙ্গোপসাগর উপকূলে অবস্থিত ভারত ও মিয়ানমারে এ সময়ে ইলিশের বাজার এবং তাতে ক্রেতার উপস্থিতি কেমন, জানা নেই। তবে বেশ কিছুদিন আগে সংবাদ প্রতিবেদনে আমরা লক্ষ করেছি, প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সুরক্ষায় বাংলাদেশ থেকে যেমন পদক্ষেপ নেওয়া হয় এ লক্ষ্যে তেমন উদ্যোগ নেয় না প্রতিবেশী দুই দেশ। দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ওই দুই দেশের একশ্রেণির জেলে বরং মাছটি আহরণে অনুপ্রবেশ করে বাংলাদেশের জলসীমায়। বিশেষত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও বাংলা নববর্ষ ঘিরে এ সময়ে বেড়ে ওঠে ইলিশের চাহিদা। দেশটির জেলে ও ব্যবসায়ীরা একে নেয় বাড়তি বিক্রির সুযোগ হিসেবে। এ সময়ে ইলিশ আহরণে প্রতিবেশী দেশ দুটির জেলেদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করা না গেলে বাংলাদেশ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ইলিশ উৎপাদন করতে পারবে না। এজন্য প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সুরক্ষায় তিন দেশেরই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা যে উপায়ে সৃষ্টি করা হয়েছে প্রতিবেশী দুই দেশও এ ধারা অনুসরণ করতে পারে। এটি ত্বরান্বিত করার জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলে সরকারের প্রচেষ্টাও দেখতে চাইব আমরা। প্রজনন মৌসুমে এ অঞ্চলের তিন দেশ সমন্বিতভাবে ইলিশ সুরক্ষা করলে সবারই স্থানীয় ভোক্তা ও অর্থনীতি উপকৃত হবে।