প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

বোনাস লভ্যাংশ নিয়ে দ্বিমুখী অবস্থানে নীতিনির্ধারকরা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: প্রস্তাবিত বাজেটের পর থেকে ‘বোনাস লভ্যাংশ’ টক অব দ্য মার্কেটে পরিণত হয়েছে। পুঁজিবাজারে প্রণোদনা হিসেবে বিষয়টি উপস্থাপন করার পর থেকে এটি আলোচনা- সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। খোদ নীতিনির্ধারকেরাই এর পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান করছে।
জানা গেছে, নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), মার্চেন্ট ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। তাদের একাংশ বোনাস লভ্যাংশের পক্ষে অবস্থান করলেও একপক্ষ এর বিরোধিতা করছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ পেয়ে বিনিয়োগকারীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য এর ওপর ১৫ শতাংশ কর ধার্য করা হয়েছে। একইভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের রিটেন্ড আর্নিং ও রিজার্ভ যদি পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশ বেশি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। এর পাশাপাশি দ্বৈতকর, দুর্বল কোম্পানির মার্জার সুবিধাসহ আরও কিছু প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। করমুক্ত সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
এই বিষয়গুলোর মধ্যে দ্বৈতকর, দুর্বল কোম্পানির মার্জার সুবিধা ও করমুক্ত সীমা বাড়ানোর বিষয়টি সবাই স্বাগত জানালেও বোনাস লভ্যাংশের কর এবং পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশ বেশি হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ১৫ শতাংশ কর দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দ্বিমত দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বাজেট-পরবর্তী ডিএসইর সংবাদ সম্মেলনেও বিষয়টি উঠে আসে।
এদিন বোনাস লভ্যাংশ ও অতিরিক্ত রিজার্ভের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের বিষয়ে বাজেটে যে প্রস্তাব করা হয়েছে, সে বিষয়ে ডিএসইর পরিচালকরা সংবাদ সম্মেলনে কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেন। মিনহাজ মান্না ইমন প্রস্তাবের বিপক্ষে কথা বলেন। তিনি বিষয়টি পুনর্বিবেচনার কথা বলেন। তবে রকিবুর রহমান প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, এটা পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীর স্বার্থের কথা ভেবেই করা হয়েছে। এতে কোম্পানিতে সুশাসন আসবে। ডিএসইর চেয়ারম্যান প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে বলেন। তিনি বলেন, বাজেটে যে প্রস্তাব করা হয়েছে, আমরা তার পক্ষে। পুঁজিবাজারের স্বার্থে যেটা ভালো আমরা সেটাই সাপোর্ট করি। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে প্রয়োজনে আইন সংশোধনও করা যেতে পারে। পৃথিবীতে কোরআন ছাড়া আর সব আইনই পরিবর্তন করা সম্ভব।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হওয়ার কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে বেশকিছু প্রণোদনা থাকার পরও বাজেট-পরবর্তী দুই কার্যদিবস বাজার নিন্মমুখী হয়। এর পরের দুই কার্যদিবস বাজার সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারদর তেমন বাড়েনি।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজেটে যেসব প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তাতে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এর উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। এটা বিনিয়োগকারীদের মনোগত বিষয় বলে মনে করছেন তারা। বোনাসের ওপর কর কার্যকর হোক না হোক, এটা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তারা অযথাই বিষয়টিকে বড় করে দেখছেন। তাছাড়া বিষয়টি এখনও আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। বিএসইসিসহ সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন। যদি এটা পুঁজিবাজারের জন্য ভালো না হয়, তবে এটা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। ফলে এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।
এ প্রসঙ্গে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, এবারের বাজেট পুঁজিবাজারের জন্য খুব ভালো হয়েছে। এর আগে কখনও পুঁজিবাজারের জন্য এত প্রণোদনা রাখা হয়নি। তাই বিনিয়োগকারীদের বলব ধৈর্য ধারণ করতে। তারা ধৈর্য ধারণ করলে পুঁজিবাজার থেকে ভালো ফল পাবেন। আমি মনে করি অচিরেই বাজারচিত্র বদলে যাবে।
একই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, রিজার্ভের ওপর ট্যাক্স বসানো ভালো সিদ্ধান্ত। এতে কোম্পানি চাইলেই ইচ্ছামতো রিজার্ভ রাখতে পারবে না। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের ভালো লভ্যাংশ পাওয়ার সুযোগ থাকবে। কিছু অসাধু লোক বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে পুঁজিবাজারে।
এদিকে সম্প্রতি স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন জানিয়েছেন, রিজার্ভের ওপর ট্যাক্সের বিষয়টি প্রস্তাব করা হয়েছে। বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। এটি পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..