সারা বাংলা

বোরোর ব্রি-২৮ ধানে চিটা চুয়াডাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক

মফিজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় চলতি মৌসুমে বোরো ব্রি-২৮ ধানে ব্যাপক চিটা দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। অনেকে ধারদেনা করে আবাদ করেছেন। আশা করেছিলেন ধান বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করবেন। কিন্তু ধানে চিটা হওয়ায় সে আশায় গুড়েবালি।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় চলতি ২০১৮-২০১৯ আবাদ মৌসুমে ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় পাঁচ হাজার ৫৫৮ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৯ হাজার ৫২০ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় সাত হাজার ৪০০ হেক্টর ও জীবননগর উপজেলায় পাঁচ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে।
চলতি মৌসুমে হাইব্রিড জাতের এসিআই-১ ও ২, সোনার বাংলা, এসএল-৮এইচ, চমক, সাথী, লাল তীর এবং হীরা, বিএডিসির উৎপাদিত উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্রি-২৬, ২৮, ২৯, ৫০, ৫৫, ৫৮, ৬৩, ৭৪, ৮১, ৮৯, ৮২ বিনা-৮ এছাড়াও কাজল লতা, নয়নমনি, গটকা, খাটোবাবু ধান চাষ করেছে চাষিরা। এর মধ্যে শুধু ব্রি-২৮ ধানের আবাদ হয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৫৮০ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় দুই হাজার ২০৩ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় তিন হাজার ১৮০ হেক্টর ও জীবননগর উপজেলায় ৪০০ হেক্টর জমিসহ মোট ছয় হাজার ৩০৯ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এ ধানে ব্যাপক হারে চিটা দেখা দেওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বুজরুকগড়গড়ি এলাকার কৃষক আকতার হোসেন জানান, কয়েক বছর যাবৎ ব্রি-২৮ ধানের আবাদ করে থাকি, এ ধানের উৎপাদনও ভালো হয়। এ বছর ১০ কাঠা জমিতে ব্রি-২৮ ধান আবাদ করেছেন। গাছ খুবই ভালো হয়েছিল কিন্তু ধান কাটতে গিয়ে দেখেন চার ভাগের তিন ভাগই চিটা হয়ে গেছে।
একই গ্রামের রবিউল ইসলাম জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে একই ধানের আবাদ করেছিলেন। তার ধান ক্ষেতেও একই অবস্থা। ধান রোপণের পর যা যা করার তা করেছেন। কিন্তু তার পরেও ক্ষেতে চিটা হয়েছে। মূলত সঠিক সময়ে কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শের অভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
মাঠে বোরো ব্রি-২৮ দানে ব্যাপক চিটা হয়েছে এ প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা সদর কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবাইর মাসরুর জানান, এ মৌসুমে বোরো ধানে ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানে চিটা হয়েছে। তবে এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ধানে চিটা হয় ধানে ব্লাস্ট অথবা মাজরা পোকা লাগার কারণে বা প্রয়োজনের সময় সেচ তত্ত্বাবধায়নের অভাবে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য সংরক্ষণ) সুফি রফিকুজ্জামান জানান, কৃষি বিভাগ থেকে ব্রি-২৮ ধানের আবাদ না করতে কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছিলেন। এ ধানের আবাদ শুরু হয়েছে ৯০-৯৪ মৌসুমের দিকে। ইতোমধ্যে এ ধানের ১২ থেকে ১৪ শতাংশ গুনাগুণ নষ্ট হয়ে গেছে। এর বিকল্প হিসাবে ব্রি-৬৩ আবাদ করার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষকদের। তাছাড়া ব্রি-৫০, ৬৮, ৭৪, ৮১, ৮২ ও ৮৯ আবাদ করার পরামর্শ দিয়েছেন। এ ধানের ফলন ভালো দামও বেশি। ব্রি-২৮ ধানের চালের দাম যেখানে ৪০ টাকা সেখানে ওই ধানের চালের দাম ৬০-৬৫ টাকা।

সর্বশেষ..