সারা বাংলা

বোরো চাষে বিঘাপ্রতি লোকসান সাড়ে তিন হাজার টাকা

একেএম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ: নওগাঁর রানীনগরে পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা। তবে শেষ মুহূর্তে ধানে কারেন্ট পোকার আক্রমণে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। ব্লাস্ট রোগ এবং কারেন্ট ও মাজরা পোকার আক্রমণে এমনিতেই ধানের ফলন কমে গেছে। এছাড়া বাজারে ধান বিক্রিতে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বিঘাপ্রতি আড়াই থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে বর্গাচাষিদের।
রানীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলায় সাড়ে ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে রোপণ করা হয়েছে ধান। শুরু থেকে আবহাওয়া ভালো থাকায় ধানের গাছ বেশ ভালোই ছিল। ধান বের হওয়ার পর হঠাৎ করেই ব্লাস্ট রোগ ও মাজরা পোকার আক্রমণে ধানের শীষ মরতে থাকে। বিভিন্ন কিটনাশক ছিটিয়েও তেমন কোনো ফল মেলেনি। ফলে ধানের ফলন নিয়ে কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা দেখা দেয়। এছাড়া শেষ সময়ে কারেন্ট পোকা আক্রমণ করায় ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা।
কৃষকরা জানান, গত আমন মৌসুমে অণু খাদ্যের অভাবে ধানগাছ লাল বর্ণ হয়ে শত শত হেক্টর জমির ধান মরে যায়। এতে চরম লোকসানে পড়েন তারা। লোকসান কাটিয়ে উঠতে কেউ বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবার কেউ হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল বিক্রি করে প্রতি বিঘা জমি সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকায় বর্গা নিয়ে বোরো ধান রোপণ করেছেন।
চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে বর্গাসহ ধান রোপণ থেকে শুরু করে ঘরে তোলা পর্যন্ত অঞ্চল ভেদে প্রায় ১৬ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ধানের ফলন হচ্ছে ২০-২৪ মণ। সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা দরে এক মণ ধান এক হাজার চল্লিশ টাকায় ক্রয়-বিক্রয় হওয়ার কথা। কিন্তু রানীনগর উপজেলা তথা অত্র অঞ্চলের মধ্যে ধানের মোকাম খ্যাত আবাদপুকুর বাজারে প্রতি মণ ধান রকম ভেদে ৬২০ টাকা থেকে ৬৭০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হয়েছে। এতে জমির মালিকদের কিছুটা লাভ হলেও বিঘাপ্রতি আড়াই থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে বর্গাচাষিদের।
এ ব্যাপারে উপজেলার সিলমাদার গ্রামের গোলাম রাব্বানী, গুয়াতা গ্রামের আনোয়ার হোসেন, হরিশপুর গ্রামের জাহের আলীসহ অনেক বর্গাচাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন করতে মাটি ও অঞ্চল ভেদে ১৬ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ পড়েছে। পক্ষান্তরে প্রতি বিঘা জমিতে ২০-২৪ মণ পর্যন্ত ধানের ফলন হচ্ছে। এ ধান বর্তমান বাজার দরে বিক্রি করে বিঘাপ্রতি আড়াই থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। বাজারে ন্যায্য মূল্য পেলে লোকসান কাটিয়ে বেশ ভালো লাভবান হওয়া যেত।
আবাদপুকুর বাজার ধান-চাল আড়ত সমিতির সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দীন হেলু মণ্ডল জানান, মোকামে প্রচুর মজুদ থাকায় আগ্রহ নিয়ে কোনো মহাজন ধান কিনছেন না। এছাড়া বর্তমান চালের বাজার দর কম হওয়ায় মোকামের দাম অনুসারে ধান কিনতে হচ্ছে।
তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, এলাকাজুড়ে কোথাও কারেন্ট পোকার আক্রমণ নেই। তবে আবহাওয়ার কারণে অনেক জায়গায় ব্লাস্ট, মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিলেও ফলনে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা দরে প্রতি মণ ধান এক হাজার ৪০ টাকায় ক্রয়-বিক্রয় হওয়ার কথা। কিন্তু স্থানীয় বাজারে যে দামেই বেচাকেনা হোক না কেন এতে তাদের কিছু করার নেই।

সর্বশেষ..