সারা বাংলা

বোয়ালমারীতে প্রতিপক্ষের বাধায় জমিতে নষ্ট হচ্ছে পাকা ধান

প্রতিনিধি, ফরিদপুর: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে আমগ্রাম মৌজায় ৪০ শতাংশ জমির ধান জমিতেই ঝরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে এক পক্ষ থানায় অভিযোগ করলেও এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে ওই জমি চাষাবাদ করে আসছেন আমগ্রামের খলিলুর রহমানের স্ত্রী মোসা. সূর্য খাতুন। বর্তমানে সূর্য খাতুনের ছেলে আয়ুব আলী মীর ওই জমি দেখাশোনা করেন। সম্প্রতি ১৩ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে ধান কাটায় বাধা দেন কামারগ্রামের হাবিব মৃধা।
আইয়ুব আলী মীর জানান, ‘গত ৫০ বছর ধরে এক একর আট শতাংশ জমি তারা বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে চাষ করছেন। এ বছর প্রথমে কিছু জমির ধানও কাটা হয়। শুধু ৪০ শতাংশ জমির ধান কাঁচা থাকায় রেখে দেন। সম্প্রতি হাবিব মৃধা ১৩ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে ধান কাটায় বাধা দেন এবং জমি দখল করার চেষ্টা করেন। রেলওয়ের যে ডিসিয়ারের বলে হাবিব মৃধা মালিকানা দাবি করছেন তা মূলত কামারগ্রাম মৌজায়। অথচ এ জমি আমগ্রাম মৌজায়। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জমির মালিকানা নিষ্পত্তির আগে আমার জিম্মায় ধান কেটে রাখতে বলে। কিন্তু ধান কাটতে গেলে আবারও বাধা দেন হাবিব মৃধা ও তার লোকজন। ফলে ধান না কাটতে পারায় পাকা ধান জমিতেই ঝরে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।’
এ ব্যাপারে হাবিব মৃধা জানান, তিনি রেলওয়ের কাছ থেকে ১৩ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত নিয়েছেন। ভুলবশত আমগ্রাম মৌজার স্থলে কামারগ্রাম মৌজা লেখা হয়েছে। পরে এটি সংশোধন করা হবে।
বোয়ালমারী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক কালাম মেম্বার জানান, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আইয়ুব মীরকে ধান কাটতে বাধা দিয়েছেন হাবিব মৃধা। হাবিব মৃধার জমির কাগজের নির্দিষ্ট চৌহদ্দি এবং মৌজা কোনোটাই আইয়ুব মীরের বন্দোবস্তকৃত জমির সঙ্গে মিল নেই।
এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানার এসআই জানান, ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে আইয়ুব মীরকে ধান কেটে রাখতে বলেছিলেন। কিন্তু অন্য পক্ষ জমি থেকে ধান কাটতে দেয়নি। দ্রুত বিষয়টি মীমাংসা করা হবে।

সর্বশেষ..