ব্যবসায়ীদের অনীহার কারণ খতিয়ে দেখুন

সহযোগী এক দৈনিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় কোরবানির পশুর হাটের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলেও তাতে অংশগ্রহণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে অনীহা। এলাকার ১৩টি হাটের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলেও মঙ্গলবার শেষ দিন পর্যন্ত জমা পড়েছে অল্প কয়েকটি প্রস্তাব। খবরে বলা হয়েছে, প্রথমবার প্রকাশিত এ বিজ্ঞপ্তিতে সাতটি হাটের জন্য নাকি আগ্রহই দেখাননি কোনো ব্যবসায়ী। আর যেসব হাটের জন্য আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলোরও প্রস্তাবিত দর আশাব্যঞ্জক নয়। হাটগুলো যথাযথভাবে ইজারা দেওয়া না গেলে সরকার যে অনেক রাজস্ব হারাবে, তাতে সন্দেহ নেই। ব্যবসায়ীরা ঠিক কী কারণে উল্লিখিত হাটগুলোর দরপত্রে অংশ নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন, কর্তৃপক্ষের তা খতিয়ে দেখা দরকার। ওইসব সমস্যা সমাধানপূর্বক দরপত্র বিজ্ঞপ্তি পুনরায় প্রকাশ করা হলে ব্যবসায়ীরা এতে আগ্রহ দেখাবেন বলেই আশা। তাতে এ খাত থেকে রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজতর হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার যেসব হাটের জন্য দরপত্র প্রস্তাব জমা পড়েনি, সেগুলোয় যে পশু বেচাকেনা কম হয়; বিষয়টি সে রকম নয়। ওইসব এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী কিছু নেতাকর্মী সক্রিয় থাকায় দরপত্রে অংশগ্রহণের সাহস হয়তো করেননি সাধারণ ব্যবসায়ীরা। এ দরপত্রে এমন হাটও রয়েছে, যার জন্য জমা হয়েছে একটিমাত্র প্রস্তাব। এ থেকে অনুমান করা সহজ, সাধারণ ব্যবসায়ীদের দূরে রেখে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে ইজারা পেতে চায় ওখানকার প্রভাবশালী মহল। এতে সরকার যেমন রাজস্ববঞ্চিত হবে, তেমনি ওখানে পশু বেচাকেনা করতে আসা মানুষকে কিছুটা হলেও ভোগান্তি পোহাতে হবে বলেই মনে হয়। আমরা চাইব, যেসব হাট ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি পুনরায় প্রকাশ করা হবে, তাতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা যাতে নির্ভয়ে অংশ নিতে পারে; প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হবে তার পরিবেশ। এক্ষেত্রে এলাকাবিশেষে যেসব অদৃশ্য ও দৃশ্যমান বাধা রয়েছে, সেগুলো দূর করার জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ আমরা দেখতে চাইব।
ঈদুল আজহা প্রায় সমাগত। এ লক্ষ্যে কোরবানির পশুর হাট বসাতে সংশ্লিষ্ট মাঠ ও খোলা জায়গাগুলো প্রস্তুত করার জন্য ইজারা গ্রহণকারীরও কিছু সময় প্রয়োজন। এজন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশসহ ইজারার আনুষ্ঠানিকতা দ্রুতই শেষ করা প্রয়োজন। যেসব হাটের জন্য দরপত্র প্রস্তাব জমা পড়েনি, তার কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সেগুলোর জন্য পুনঃদরপত্র বিজ্ঞপ্তি শিগগির প্রকাশ করা উচিত। ইজারাদারদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া গেলে পশুর হাটে অবকাঠামোগত যেসব অব্যবস্থাপনা লক্ষ করা যায়, তা কিছুটা হলেও কমানো যাবে। এও মনে রাখা দরকার, দরপত্র-সংক্রান্ত জটিলতায় উল্লিখিত স্থানগুলোর কোনোটিতে হাট আয়োজন করা না গেলে সেজন্য ভোগান্তি পোহাতে হবে ওই এলাকার ক্রেতাদেরও। ইজারার শর্তাবলি পরিপালনের আগ্রহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে খুব একটা দেখা যায় না। এ কারণেও কোরবানির পশুর হাট এলাকায় বেড়ে ওঠে জনভোগান্তি। এর পুনরাবৃত্তি এড়াতেও ইজারার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের সময়ই নিতে হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।