ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করুন

বৃহস্পতিবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়েছে ময়মনসিংহ শহরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা গাঙ্গিনারপাড়ের হকার্স সুপার মার্কেট। এ ঘটনা স্বভাবতই দুঃখজনক। সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি, আকস্মিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন শোকে বিহ্বল ব্যবসায়ীরা। এ মৌসুমে কাক্সিক্ষত মুনাফা তারা তো অর্জন করতে পারলেনই না, উপরন্তু পুড়ে ছাই হলো তাদের পুঁজি। সর্বস্ব হারিয়ে এখন পথে বসার উপক্রম অনেকে। ঈদের আগ মুহূর্তে বেচাবিক্রির চূড়ান্ত সময়ে এমন ক্ষতি মেনে নেওয়া তাদের জন্য স্বভাবতই কঠিন হবে। আমরা এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। আশা করি, মানিসকভাবে ভেঙে না পড়ে তারা ধৈর্যশীলতার পরিচয় দেবেন এবং শিগগির যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, সেই চেষ্টাও শুরু করবেন। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে উপযুক্ত সহায়তা জোগানো হবে বলেই আশা। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে কাক্সিক্ষত পণ্য কিনতে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হবে ওখানকার বিশেষত মধ্য ও নি¤œ মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের। ঈদ মার্কেট করার ক্ষেত্রে সাধ ও সাধ্য বিবেচনাপূর্বক তাদেরও খুঁজে নিতে হবে উত্তম বিকল্প।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এ অঙ্ক নিতান্তই ছোট নয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক’জন বিমার আওতায় ছিলেন, আমরা জানি না। যথাবিহিত উপায়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কাছে তাদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়ানো সহজতর হবে বলেই মনে হয়। এমন পরিস্থিতিতে উপযুক্ত দালিলিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও গ্রাহককে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যায় কোনো কোনো বিমা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। সরকারের নজরদারি থাকলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যাবে। এর সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য সরকার যদি বিশেষ কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে পুনর্বাসন দ্রুত নিশ্চিত করা সম্ভব। দুর্ঘটনার আর্থিক ঝুঁকি হ্রাস করতে বিমা করার ব্যাপারে সচেতনতা দেশের ব্যবসায়ীদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশের মধ্যে এখনও গড়ে ওঠেনি। ওই মার্কেটে ব্যবসারত যেসব উদ্যোক্তার কোনো বিমা পলিসি ছিল না, ভবিষ্যতে দুর্ঘটনায় আর্থিক ঝুঁকি হ্রাসে তাদেরও এটি চালু করার ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করতে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আট সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিটিকে। প্রত্যাশা থাকবে, কমিটি যথাসময়ে তার প্রতিবেদন দাখিল করবে। বস্তুত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর তালিকা না থাকলে তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা কঠিন হবে। আমরা চাইব, বণিক সমিতির সহায়তায় এটি প্রণয়নের কাজ দ্রুতই শুরু করবে স্থানীয় প্রশাসন। রাজনৈতিক বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত কাউকে যাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তালিকার বাইরে রাখা না হয়, সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। মনে রাখা দরকার, ব্যবসায়ীদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করা না গেলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ওখানে বিনিয়োগকারী বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। ঋণগ্রহীতা ব্যবসায়ীদের এই ক্ষতির বিষয়টি যাতে মানবিকভাবে বিবেচনা করা হয়, সে ব্যাপারেও আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করব ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারকদের।