সম্পাদকীয়

ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে মসলার দাম সহনীয় রাখুন

‘চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের দখলে মসলার বাজার: তিনগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে এলাচ, সাতগুণ দামে জয়ত্রি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে। মসলার বাজার দখলে থাকা মানে বেশিরভাগ মসলা আমদানি করছেন তারা। সে কারণে দেশে ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ-আছদগঞ্জের আমদানিকারকরা নিয়ন্ত্রণ করছেন প্রায় পুরো দেশের মসলার বাজার। এটি তারা করতেই পারেন। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ডের নৈতিকতার ছোঁয়া নেই। ঈদুল আজহা সামনে রেখে আমদানি মূল্যের কয়েকগুণ বেশি দামে পাইকারি বাজারেই তারা বিক্রি করছেন এসব মসলা। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
চট্টগ্রামের এ আমদানিকারকদের দখল নিয়ন্ত্রণ এখন দৌরাত্ম্যে রূপ নিয়েছে বলেই প্রতীয়মান। যেমন এলাচ, জয়ত্রি, লবঙ্গ, দারুচিনি, জিরা ও হলুদের আমদানি মূল্য যথাক্রমে ৮৫০, ৩২৮, ৪০৪, ১৩২, ২৪৪ ও ৮৭ টাকা। এগুলো পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ২২০০-২৬৫০, ২২০০-২৪০০, ৭৬০-৮০০, ৩৫০-৪০০, ৩০০-৩৭০ ও ৯৮-১০০ টাকা। আমদানি মূল্য ও পাইকারি মূল্যের এ পার্থক্য প্রমাণ করে অতিমুনাফায় মেতেছেন চট্টগ্রামের মসলা আমদানিকারকরা। এখন একইভাবে পাইকারি বিক্রেতাও একই হারে মুনাফা করলে সেটি দোকানদারের হাত ঘুরে খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি হবে, সেটি সহজেই অনুমেয়।
আমদানি মূল্যের প্রায় তিনগুণ দামে পাইকারি বাজারেই বিক্রি হচ্ছে এলাচ। আর আমদানি মূল্যের সাতগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে জয়ত্রি। আমদানি মূল্যের কয়েকগুণ বেশি দামে পাইকারি বাজারে মসলা বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত অর্থবছরজুড়ে যেসব মসলা আমদানি হয়েছে, তার সিংহভাগ আমদানি করেছেন খাতুনগঞ্জ-আছদগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। ফলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজারে দাম বাড়াচ্ছেন তারা।
এনবিআরের তথ্যমতে, গত অর্থবছর ৫৮ আমদানিকারক চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে এলাচ আমদানি করে। এর মধ্যে ৪৭ জনই চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ-আছদগঞ্জের আমদানিকারক। আর আমদানি হওয়া এলাচের ৬০ শতাংশই ১২ জন আমদানি করেছেন। তাদের মধ্যে ১১ জনই চট্টগ্রামের, অন্যজন ঢাকার।
আমরা মনে করি, কোরবানির আগে মসলার বাজারে নজরদারি করা দরকার। নজরদারি না হওয়ায় ভোক্তাদের যেমন অতিরিক্ত দামে মসলা কিনতে হচ্ছে আবার নামে-বেনামে অবাধে আমদানির ফলে দেশ রাজস্ব হারাচ্ছে। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই অতিমুনাফা প্রবণতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কেবল খুচরা বাজারে নয়, পাইকারি বাজারেও তদারকি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। প্রয়োজনে খাতুনগঞ্জ-আছদগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারে জেলা প্রশাসন।
ঈদুল আজহার অপরিহার্য উপাদান মসলা। সেটির অতিরিক্ত দাম যাতে ভোক্তাদের ঈদ-আনন্দে বাগড়া না দেয়, সে ব্যবস্থা নেওয়ার উৎকৃষ্ট সময় এখনই। কথিত চক্রের অপতৎপরতা বন্ধ করলে মসলার দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

সর্বশেষ..



/* ]]> */