ধারাবাহিক

ব্যবসা বিক্রি

মিজানুর রহমান শেলী: একজন আর্থিক কুশলী মানুষ লাগাতার একটি বিশাল পরিমাণের ঋণের অর্থ ব্যবহার করে থাকে। এই ব্যক্তি তার কোম্পানির জন্য পুনরায় বিক্রি করার পরিকল্পনা করে থাকেন জনগণের কাছে কিংবা অন্যান্য কোনো করপোরেশনের কাছে। তিনি বিক্রির পরিকল্পনায় দ্রুততর কৌশল অবলম্বন করে থাকেন। তবে এক্ষেত্রে তার সুবিধাজনক সময়টিকেই কাজে লাগান। মাঝে মধ্যেই দেখা যায় এই ক্রেতার প্রধান কার্যাবলিতে পরিবর্তন আসে। পরিবর্তন আসে তার হিসাবরক্ষণ পদ্ধতিতে। যাতে করে আয়ের বিষয়টিকে উপস্থাপন করা যায়। উপস্থাপন করা হয় সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায়ে। ফলে কোম্পানি যদি কখনও কোনো আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়, তবে তাকে উদ্ধারের জন্য আগে থেকেই উদ্ধারকর্ম পরিচালনা করা সম্ভব হয়ে থাকে।… এই ধরনের লেনদেন দিনে দিনে খুব বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এর কারণ হলো, স্টক মার্কেটের ইদানীং কালের উঠতি অবস্থা। এমনকি এই ধরনের লেনেদেনে বিপুল পরিমাণে অর্থ সরবরাহ হয়ে থাকে।
যদি বর্তমান মালিকদের কোনো একক উদ্দেশ্য হয়ে থাকে যে, তারা তাদের হালকা আলু ভাজাচিকেও ক্যাশ করে নেবেন এবং সেই অর্থ তার ব্যবসায় পেছনে খাটাবেন, তবে বিভিন্ন ধরনের ক্রেতাই এই মালিকের এই কর্মে বেশ খুশির ঢেঁকুর তুলতে থাকবে। ক্রেতাদের এই তালিকায় দিনে দিনে অনেকেই এসে ভিড় জমিয়ে এই লাইনকে আরও দীর্ঘায়িত করে চলেছে। ফলে এই ধরনের ক্রেতাদের সংখ্যা এখন বিপুল। কিন্তু বিক্রেতার ব্যবসায় এসব চিপস বিক্রির অর্থই মূল সম্পদ না হয়ে সেখানে মালিকের সৃজনশীলতাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়, সেক্ষেত্রে কী ঘটবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। উল্লেখ্য, এই সৃজনশীলতা মালিকের জীবনের দীর্ঘকালের ব্যয় করা একটি লগ্নি। ফলে তিল তিল করে তার কোম্পানি অনেক বড় অবস্থানে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। এমনকি একই সঙ্গে এই মালিকের একটি দীর্ঘদিনের ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি হয়ে থাকে সেই কোম্পানির সঙ্গে। লোকে তাকে যেমন চেনেন, তেমনি তার কোম্পানিকেও চেনেন। তার ও তার কোম্পানিকে কখনও তারা আলাদা করে দেখেন না। ফলে ব্যক্তি নিজেই ব্র্যান্ড হয়ে দাঁড়ান। এক্ষেত্রেও দেখা যায়, এসব কোম্পানি বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার কোনো অভাব থাকে না। সবাই সেই কোম্পানি ক্রয়ের জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠেন। সব ধরনের ক্রেতা ভিড় জমান।
কিন্তু বার্কশায়ার? বার্কশায়ার কি এসব সাধারণ ক্রেতাদের মতোই? নাকি বার্কশায়ারের আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে? আসলে বার্কশায়ার এই তথাকথিত দুটি ধারার ক্রেতাদের মতো নয়। তাকে অবশ্যই আলাদা করে চেনার কিছু অবকাশ রয়ে যায়। সাধারণত বার্কশায়ারের চিন্তা ও কর্মের জায়গা অনন্য। তাদের সঙ্গে আর কোনো কোম্পানির চিন্তা ও কর্মের জায়গায় কোনো মিল লক্ষ করা যায় না। আমরা একটি ব্যবসাকে যখন ক্রয় করি, তখন তাকে দীর্ঘদিন ধরে রাখার জন্যই ক্রয় করি। কিন্তু এই ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়ায় বার্কশায়ার একটু ভিন্নধারা অবলম্বন করে থাকে। তারা কখনোই নিজেদের কর্মী দিয়ে সদ্য কেনা ব্যবসাকে পরিচালনা করতে চায় না। তারা চায় না এই ব্যবসা পরিচালনার জন্য নতুন করে কর্মী নিয়োগ দেবে, আবার তারা কখনও এই কাজ করেও না। এ কারণে তারা সবসময় কোনো ব্যবসা অধিগ্রহণের আগে সেই ব্যবসার ব্যবস্থাপনা দলকে ভালোভাবে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে দেখেন। এ বিষয়টিকে এই আলোচনায় এর আগে বহুবার বর্ণনা করেছি। যাহোক, বার্কশায়ার তার মাতৃ প্রতিষ্ঠান থেকেও কখনও কর্মী নিয়ে এসে নতুন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে না। আমাদের বার্কশায়ারের সব প্রতিষ্ঠান তার নিজস্ব আইন ও কৌশলে চলে। এখানে মাতৃ প্রতিষ্ঠানেরে চাপিয়ে দেওয়া কোনো প্রভাব কাজ করে না। এটাকে স্বশাসন বলা যেতে পারে। এমনকি স্বশাসিত অনেক কোম্পানিই থাকতে পারে কিন্তু বার্কশায়ারের স্বায়ত্তশাসন প্রক্রিয়াকে নিঃসন্দেহে আলাদা করে দেখতে হবে। এটা এক ভিন্ন ও উচ্চমাত্রায় স্বশাসন চালিয়ে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আমাদের অধিগ্রহণকৃত সব প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে আমরা পরিবর্তন করিনি। আগের মালিক যে ম্যানেজার দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালিয়েছেন, সেই ম্যানেজার দিয়েই আমরা প্রতিষ্ঠান চালায়। আমি আগে উল্লেখ করেছি, ম্যানেজারের ওপর আমরা আস্থা রাখতে পারলেই কেবল আমরা সেই কোম্পানি খরিদ করে থাকি। এমনকি যেসব গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানি আমরা খরিদ করেছি সেসব কোম্পানির ম্যানেজারদের মধ্যে হয়তো কোনোদিনই দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। মানে কোম্পানিটি বার্কশায়ারের আওতায় আসার পরে তার কর্মীরা বার্কশায়ারের নিয়মিত কর্মী হয়ে সব অধিগ্রহণকৃত কোম্পানির কর্মী বা ম্যানেজাররা মিলে একটি সম্মেলন করবে, তা কখনোই হয় না। আদতে সবাই যার যার আগের জীবনেই টিকে থাকে, কেবল মালিকানা পরিবর্তন হয়ে থাকে।
যখন আমরা কোনো ব্যবসা ক্রয় করে থাকি, তখনও বিক্রেতা তার কোম্পানিকে আগের মতোই পরিচালনা করতে থাকে। বিক্রেতা তার ব্যবসাকে বন্ধ করে দিয়ে আমাদের কাছে কখনোই হাত বদল করেন না। কেননা আমরা তো কোনো বন্ধ কোম্পানি কিনব না। আবার নতুন করে আমরা কোম্পানিকে ঢেলে সাজাবও না। তাই আগের ধারাতেই কোম্পানি চলতে থাকে। কার্যত আমরা আগের ধারা, পদ্ধতি ও কৌশলকেই অভিযোজিত করে থাকি।
আসলে আমাদের কোনো নির্দিষ্ট একটি পরিবার নেই। ইদানীং কালে আমরা অনেক এমবিএ কর্মী নিয়োগ দিয়েছি। আমরা তাদের ব্যবসা পরিচালনা করার সুযোগ দেব বলে আশ্বাস দিয়েছি। এ ব্যবসাগুলো হলো সেই ব্যবসা যে ব্যবসা আমরা মালিক-ম্যানেজারের কাছ থেকে অধিগ্রহণ করব সামনের দিনগুলোয়। কিন্তু সেখানে যদি কোনো কর্মী না থাকে তবেই তারা সেখানে কাজ করবে। এই কর্মীরা আমাদের আগের ব্যবসা ক্রয় সম্পর্কে ভালোভাবেই অবহিত। আমরা আমাদের পূর্বেকার কেনা ব্যবসাগুলোর একটি তালিকা তৈরি করি। এই তালিকায় মালিক ও কর্মীর তালিকা থাকে। এরপর আমরা নতুন এমবিএদের সুযোগ দিয়ে থাকি সেসব মালিক ও কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার। যাতে করে তারা আমাদের সম্পর্কে তদন্ত করে নিতে পারে। আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আমাদের কর্মকৌশল ও প্রতিশ্রুতি বজায় রাখি। তারা তদন্ত করে আমাদের এই দাবির সত্যতা যাচাই করে থাকে। এমনকি এই তদন্ত আপনারাও করতে পারেন। যদি আমাদের সম্পর্কে আপনার জানার ইচ্ছে থাকে। তবে একটি বিষয় এখানে দৃঢ়তার সঙ্গেই উল্লেখ করতে চাই, যদি আপনারা সত্যিই আমাদের মতো কোনো কোম্পানির কর্মনৈপুণ্য ও প্রতিশ্রুতিকে যাচাই করতে চান। তবে যাচাই করার অনেক সুযোগ পেয়ে যাবেন, আমরা আপনাকে সব সুযোগ দেব। কিন্তু আপনাকে বিচার করতে হবে আপনি ঠিক কোন কোম্পানির এসব বিষয় নিয়ে যাচাই করতে চান। আদতে যে কোম্পানি ব্যবসা অধিগ্রহণ করে কিন্তু সেই অধিগ্রহণকৃত কোম্পানি ঠিকঠাক চালাতে পারে না, তখনই তাকে যাচাই-বাছাই করে দেখা উচিত। আমরা বিভিন্ন রকমের বাজে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি সফলতার সঙ্গে, সেই ইতিহাস আমাদের রয়েছে।

এই দর্শন রচনাবলি সম্পাদনা করেছেন লরেন্স এ. কানিংহ্যাম
অনুবাদক: গবেষক, শেয়ার বিজ

সর্বশেষ..