ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দুদকের চিঠি

এসএসসিতে অতিরিক্ত ফি আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বিকালে দুদকের ভারপ্রাপ্ত সচিব সারোয়ার মাহমুদ মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর এ চিঠি পাঠান।
চিঠিতে বলা হয়, আসন্ন এসএসসি/এসএসসি (ভোকেশনাল)/দাখিল/দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষা ২০১৯-এর ফরম পূরণের নিমিত্তে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কতিপয় দুর্নীতিপরায়ণ শিক্ষক সরকার নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত আদায় করছে মর্মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযোগ কেন্দ্র ১০৬-এ ও ই-মেইলে প্রতিদিন প্রচুর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ অনিয়মের বিরুদ্ধে সম্প্রতি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম সরেজমিনে অনুসন্ধান করে এর সত্যতা পেয়েছে।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীকেও ফরম পূরণের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া হচ্ছে। এ অপতৎপরতা সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, যা সরকারি নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়/অধিদফতর/দফতর/মাঠ প্রশাসন কর্মকর্তাদের যথাযথ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ করা আবশ্যক বলে কমিশন মনে করে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে উদ্দেশ করে চিঠিতে বলা হয়, ওই পরীক্ষা-সংক্রান্ত দুর্নীতি প্রতিরোধের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়/অধিদফতর/দফতর ও মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।
চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, ঢাকা/কুমিল্লা/চট্টগ্রাম/রাজশাহী/যশোর/বরিশাল/সিলেট/দিনাজপুরে বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সব জেলা প্রশাসককে।
এর আগে ৪ নভেম্বর এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণে নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ চাওয়ার অভিযোগে অভিযান চালায় দুদক। ওইদিন রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় সালেহা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযানে অংশ নেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ ও উপসহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।
দুদক জানায়, কমিশনের অভিযান কেন্দ্রের হটলাইনে অভিযোগ আসে এসএসসি পরীক্ষা ২০১৯-এর ফরম পূরণে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি এক হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে সালেহা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ চার হাজার টাকা করে নিচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে ওই স্কুলে অভিযান চালান দুদক বিশেষ টিমের সদস্যরা। অভিযানকালে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
এ প্রসঙ্গে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) সারোয়ার মাহমুদ বলেন, সরকার নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া সম্পূর্ণ অনৈতিক। এ-জাতীয় অপরাধ যাতে সংঘটিত না হয়, সে বিষয়ে কমিশন নজরদারি করছে এবং জনগণকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। অভিযোগ পেলে এসব অপরাধ প্রতিরোধে দুদক নিয়মিত অভিযান চালাবে।