ব্যাংকিং পেশায় নারীকর্মী বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেওয়া হোক

স্বাধীনতা, অধিকার, ক্ষমতায়ন, শিক্ষা-দীক্ষা-সচেতনতায় নারী-পুরুষ সমান যোগ্যতায় অবস্থান করছে। বর্তমানে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। শিক্ষিত কর্মজীবী নারীর কাছে তার পছন্দের কাজের জায়গার অন্যতম ব্যাংক খাত। বর্তমানে এ খাতে প্রায় ২৫ হাজার নারীকর্মী কাজ করছেন। তবে বিদেশি ব্যাংকে নারীকর্মীর উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। সরকারি চাকরিতে নারীদের অংশগ্রহণ ২৫ শতাংশ হলেও ব্যাংক সেক্টরে ১০০ জনের মধ্যে মাত্র ১৫ জন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ষাণ¥াসিক হালনাগাদ এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।
বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দৈনিক শেয়ার বিজ গতকাল সংবাদ প্রকাশ করেছে। সংবাদ থেকে জানা যায়, আমাদের ব্যাংকগুলোয় কর্মজীবী নারীর সংখ্যা বর্তমানে কম হলেও ক্রমান্বয়ে তা বৃদ্ধির দিকে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ব্যাংকে নারীকর্মীর অনুপাত ছিল ১৬ শতাংশ; অর্থাৎ ছয় হাজার ৮৪৩ জন। একই সময় ব্যাংকগুলোয় পুরুষকর্মীর সংখ্যা ছিল ৪২ হাজার ১৩২ জন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে (রাকাব) নারীকর্মীর সংখ্যা ছিল ১৩ শতাংশ; অর্থাৎ এক হাজার ৪৭৪ জন। সেখানে পুরুষকর্মীর সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ২১৯ জন।
একইভাবে বেসরকারি ৩৯ ব্যাংকে নারীকর্মীর সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৭৬৭ জন। সেখানে পুরুষকর্মীর সংখ্যা ৮৬ হাজার ৯১১ জন। বিদেশি ৯ ব্যাংকে নারীকর্মীর সংখ্যা ছিল ৯০৭। পুরুষকর্মী ছিলেন দুই হাজার ৯৩৯। আবার এসব ব্যাংকে নারী উদ্যোক্তা, সাবেক নারী ব্যাংকার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অতিরিক্ত সচিব-যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরকারি ব্যাংকে পরিচালক পদে সংখ্যায় কম হলেও নারীকর্মী নিয়োগ পেতে দেখা যায়।
নারীর কর্মক্ষেত্র হিসেবে ব্যাংক অপেক্ষাকৃত ভালো স্থান, বিশেষ করে যারা অফিস অভ্যন্তরে কাজ করতে আগ্রহী। একসময় নারীরা ব্যাংকিং পেশাকে খুব উপযুক্ত পরিবেশ বিবেচনা করেই এ পেশায় আসতেন। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় যে তথ্য উঠে এসেছে, তা হতাশাজনক। নারীর ক্ষমতায়নের সঙ্গে কর্মস্থলের নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। এক্ষেত্রে সরকারকে অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে, ব্যাংকে নারীকর্মীর সংখ্যা কেন কমছে। তাই বিদ্যমান প্রতিকূল অবস্থা দূর করে ব্যাংকে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেওয়া হবে এটাই প্রত্যাশা।