হোম প্রচ্ছদ ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয় ও প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা যাবে না

ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয় ও প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা যাবে না


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এখন থেকে বিষয় ও প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা যাবে না। ফলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব বিষয়ের শিক্ষার্থী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। দেশের সব ব্যাংককে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকারদের সঙ্গে বৈঠকে এ নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর ফজলে কবির। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান, এসকে সুর চৌধুরী, এসএম মনিরুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক আবদুর রহিম, শুভঙ্কর সাহা, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনিস এ খানসহ প্রায় সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে একচেটিয়া ঋণ প্রদানে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া ভোক্তাঋণে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শসহ ব্যাংকিং খাতে ঋণখেলাপি শক্ত হাতে দমনের নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

বৈঠকশেষে ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী বলেন, ‘ঋণ বিকেন্দ্রীকরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারণ কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে একচেটিয়া ঋণ দিলে তাতে খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি। এছাড়া ভোক্তা ঋণে আরও সাবধানতা বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘চাকরির ক্ষেত্রে বিষয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মূল বিষয় নয়। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মাদ্রাসার যে কোনো শিক্ষার্থীর ব্যাংকের চাকরির ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। যার মেধা আছে, সে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরই হোক না কেন চাকরি পাবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিষয় মুখ্য হয়ে থাকে। যেমন আইটি ও সিএফও পদে নির্ধারিত বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের নিতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো তাদের নিয়ম অনুসারে নিয়োগ দেবে।’

এসকে সুর চৌধুরী জানান, নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে বেসরকারি ব্যাংকগুলো ফি বাবদ ২০০ টাকা আদায় করার প্রস্তাব জানায়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এ প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। অর্থাৎ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় কোনো ফি আদায় করা যাবে না। মেধাবীদের চাকরিতে সুযোগ করে দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এবিবির চেয়ারম্যান আনিস এ খান বলেন, ‘বৈঠকে ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয় ও প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাই এখন থেকে যে কোনো বিষয় বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। এছাড়া খেলাপি ঋণ শক্ত হাতে দমনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

বৈঠক সূত্র জানায়, উন্নত প্রযুক্তির এমআইসিআর চেক প্রচলনের পরও ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতি মাসেই ২০ থেকে ২৫টি চেক জালিয়াতির অভিযোগ আসছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র চেক জালিয়াতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এটি বন্ধে ছাপানোর সময় নির্ধারিত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যগুলো নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিরক্ষর মানুষেরা যাতে চেকের মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ পায় সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে চেক জালিয়াতির ঘটনা হঠাৎ বেড়ে গেছে। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চেক জালিয়াতিসংক্রান্ত অভিযোগ ছিল ২০৯টি। আর এবার প্রতি মাসেই ২০ থেকে ২৫টি চেক জালিয়াতিসংক্রান্ত অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, সাধারণ চেকের জালিয়াতি ঠেকানো ও লেনদেনে গতি আনতে ম্যাগনেটিক ইঙ্ক ক্যারেক্টার রিকগনিশন (এমআইসিআর) নামের আধুনিক চেক বাংলাদেশে চালু করা হয় ২০০৯ সালে। তবে ২০১০ সালের এপ্রিল থেকে তা সব ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়। এ চেকের নির্ধারিত কিছু নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেগুলো পরিবর্তন ও নকল করা প্রায় অসম্ভব। চেক ছাপানোর সময় এই নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যগুলো সঠিকভাবে চেকে সন্নিবেশিত করা হয়েছে কি না তা সুনিশ্চিত করতে হবে। এটি করা গেলে চেকের মাধ্যমে জালিয়াতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব  হবে। এছাড়া যারা স্বাক্ষর করতে পারেন না, সেইসব নিরক্ষর ব্যক্তি কীভাবে চেকের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারেন সেই বিষয়ে আলোচনা হয় ব্যাংকার্স সভায়।

সভার সূত্রে জানা গেছে, দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে ২৮টি ব্যাংকে ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে। সব ব্যাংককে ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ৯টি ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপ রয়েছে। ব্যাংকগুলোর মোবাইল অ্যাপ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

ব্যাংকার্স সভায় ইরানের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর গত বছরের ১৬ জানুয়ারি ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রাস্টির আওতাধীন বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় (ওএফএসি) কর্তৃক ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে ইরান সরকার বা ইরানের কোনো ব্যাংককে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সুবিধা প্রদান করে এ ধরনের কোনো লেনদেন (ইউএস ডলারে) করা সম্ভব নয়। এজন্য ইরানের সঙ্গে ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য চলমান রয়েছে। নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট না খুলে রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন (আরএমএ) স্থাপন করে কীভাবে লেনদেন করা যায় সেই বিষয়ে আলোচনা হবে। আরএমএ’র মাধ্যমে অর্থ ব্যতীত এলসি খোলা, তথ্য আদান-প্রদানসহ অন্য সব ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।

সভায় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির পরিস্থিতি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তাদের পদবি নির্দিষ্টকরণ প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়।