প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা শিথিল করায় পুঁজিবাজারে বড় উত্থান

ধারাবাহিকতার প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের
মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা থেকে তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি বাদ দেওয়ার প্রভাবে বড় ধরনের উত্থান দেখা দিয়েছে পুঁজিবাজারে। বেড়েছে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর, যার প্রভাব পড়েছে সূচকে। গতকাল এক কার্যদিবসেই ডিএসইসির প্রধান সূচক বেড়েছে ১০৫ পয়েন্ট। এই উত্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাদের প্রত্যাশা এই পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা থাকুক।
গতকাল দিন শেষে সূচক স্থির হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৩৫ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ্ সূচক-১৮ ও ডিএসই-৩০ সূচক ৩২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ২১৫ ও এক হাজার ৮৫০ পয়েন্টে। বেড়েছে লেনদেনও। গতকাল ডিএসইতে মোট লেনদেন হয় ৪৪৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে ১৫৩ কোটি টাকা বেশি।
এদিকে গতকালের সূচকের উত্থান ছিল এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উত্থান। এর আগে ৫ মে সূচক বৃদ্ধি পায় ১০৮ পয়েন্ট। কিন্তু এর পরের কার্যদিবস থেকেই আবারও নিন্মমুখী হতে শুরু করে সূচক। অন্যদিকে গত এক মাসের মধ্যে মোট ১৯ কার্যদিবসে লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১২ কার্যদিবসেই সূচকের অবস্থান নিন্মমুখী ছিল। তাই পুঁজিবাজারের এ উত্থানে ধারাবাহিকতার প্রত্যাশা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
সূত্রমতে, পুঁজিবাজারে চলমান তারল্য সংকট কাটিয়ে তুলতে গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা থেকে তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি সিকিউরিটিজকে বাদ দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের (একক ও সমন্বিত) বিনিয়োগ হিসাবের ক্ষেত্রে অতালিকাভুক্ত নন-কনভার্টিবল প্রিফারেন্স শেয়ার, নন-কনভার্টিবল বন্ড, ডিবেঞ্চার, ওপেন-ইন্ড মিউচুয়াল ফান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। এতে ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়বে। আর ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়লে পুঁজিবাজার চাঙা হবে এমনটি ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা, যে কারণে পুঁজিবাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুসারে, স্পেশাল পারপাস ভেহিক্যাল (এসপিভি), অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ও সমজাতীয় তহবিলের বাস্তবায়িত বা বাস্তবায়নাধীন সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ করা অর্থ ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপোজারের বাইরে থাকবে। এসব খাত ও কোম্পানির মধ্যে আছে সরকারি উদ্যোগের অবকাঠামো প্রকল্প, যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো, সড়ক ও সেতুসহ যোগাযোগ অবকাঠামো, পর্যটন অবকাঠামো, ডিজিটাল অবকাঠামো প্রভৃতি।
সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের (পিপিপি) আওতায় রয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো, সড়ক ও সেতুসহ যোগাযোগ অবকাঠামো, পর্যটন অবকাঠামো, ডিজিটাল অবকাঠামো প্রভৃতি। বেসরকারি খাতে রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো, সড়ক ও সেতুসহ যোগাযোগ অবকাঠামো, পর্যটন অবকাঠামো, ডিজিটাল অবকাঠামো প্রভৃতি।
পিপিপির কোম্পানির ক্ষেত্রে ৬০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের একক গ্রাহক ঋণসীমা ও পরিশোধিত মূলধনের ২২ শতাংশের মধ্যে থাকতে হবে। আর বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও ৬০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের একক গ্রাহক ঋণসীমা ও পরিশোধিত মূলধনের ২০ শতাংশের মধ্যে থাকতে হবে।
এদিকে প্রজ্ঞাপনে আলোচিত খাতগুলোর যেকোনো প্রকল্পে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা নতুনভাবে বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুসারে সরকারি উদ্যোগের অবকাঠামো প্রকল্প, যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো, সড়ক ও সেতুসহ যোগাযোগ অবকাঠামো, পর্যটন অবকাঠামো ও ডিজিটাল অবকাঠামোতে একটি ব্যাংক সর্বোচ্চ ৭০০ কোটি টাকা অথবা একক গ্রাহক ঋণসীমা তথা সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজারের মধ্যে যেটি কম, সে পরিমাণ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবে। বিনিয়োগের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, পুঁজিবাজারের টেকসই স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমার যে সংজ্ঞা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করেছে, তার পরিবর্তন তথা পুনর্বিবেচনা করা বাজারের জন্য ইতিবাচক। তাদের মতে, বিনিয়োগসীমা থেকে তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি বাদ দিলে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়বে।
একই প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা থেকে অতালিকাভুক্ত কোম্পানি বাদ হয়েছে, এটা ভালো খবর। সিদ্ধান্তটি অবশ্যই পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক হবে। তবে বাজারকে ভালো করতে হলে দুর্বল কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাদ দিয়ে ভালো মানের কোম্পানি নিয়ে আসতে হবে। তা না হলে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আসবে না।

সর্বশেষ..