ব্যাংকের শেয়ারেও মন্দার হাওয়া

ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণের সঙ্গে সঞ্চয়ের ভারসাম্যহীনতা, লভ্যাংশ হ্রাসের পর এবার শেয়ারবাজারেও লোকসানের মুখে পড়েছে বিনিয়োগকারীরা। এমনিতেই শেয়ারবাজারে মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। দেখেশুনে বিনিয়োগ করছে বিনিয়োগকারীরা। কিছু ব্যাংকে বিনিয়োগ বেশ স্থিতিশীল ছিল এবং অনেকেই এসব ‘তারকা’ ব্যাংকে বিনিয়োগ করেছিল। শেয়ার বিজে ‘তারকা ব্যাংকের গায়ে মন্দার হাওয়া’ শিরোনামে এ-সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, যে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা ভালোÑসেগুলো প্রকৃত লভ্যাংশ সন্তোষজনক। পাশাপাশি শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত, শেয়ারপ্রতি সম্পদ, শেয়ারপ্রতি আয়েও এগিয়ে রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান। যে কারণে এসব ব্যাংক অভিজাত হিসেবে পরিচিত। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাও বেশি। কিন্তু সম্প্রতি ব্যাংক খাতে মন্দার হাওয়া লাগছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ইবিএলসহ সব তারকা ব্যাংকের গায়েও লেগেছে সেটা। এর জেরে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারীরা। তালিকাভুক্ত ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইউসিবিসহ কয়েকটি ব্যাংকের শেয়ারমূল্য স্থিতিশীল ছিল। এখন এগুলোর গায়েও মন্দার হাওয়া লেগেছে। গত একবছরে এসব ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা ৪৩ থেকে ৪৭ শতাংশ লোকসান গুনেছে। ইস্টার্ন ব্যাংকে বিনিয়োগ করে লোকসান গুনতে হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এতে বিনিয়োগকারীরা লোকসান গুনেছে ৪৭ শতাংশ। ব্যাংক খাতের সার্বিক অব্যবস্থাপনার পরও কিছু ব্যাংক মোটামুটি সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছিল। এগুলোর শেয়ার লেনদেনে বেশ গতি ছিল। এখন দেখা যাচ্ছে, শেয়ারবাজারেও এসব ব্যাংকের গায়ে মন্দার হাওয়া। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ব্যাংক খাত মন্দা থেকে বেরুতে পারছে না।
সংবাদটি থেকে আরও জানা যায়, কিছু ব্যাংক গত অর্থবছরে লাভ করেছে। কিন্তু সার্বিক বিবেচনায় আগের বছরের তুলনায় তা কম ছিল। যেসব ব্যাংক লাভ করেছে, তারা ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলেও তা নগদায়ন করেনি। ডিভিডেন্ডকে শেয়ারে বিনিয়োগ হিসেবে দেখিয়েছে। এ ব্যাংকগুলোয় বিনিয়োগকারীরা দ্বৈত লোকসানে পড়েছে। গত বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ব্যাংক খাতের শেয়ারদর কিছুটা বাড়লেও পরে তা আবার কমে যায়। এ নিয়ে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, একটি সেক্টর যখন খারাপ করে, তখন তার ভালো কোম্পানিতেও এর প্রভাব পড়ে। সম্প্রতি ব্যাংক খাতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যে কারণে ভালো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরও নি¤œমুখী।
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের লোকসান বিষয়ে অভিজ্ঞমহল নানা মত দিয়েছে। কী কারণে এসব ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের লোকসান হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন তারা। এ পরিস্থিতি ভাবনার বিষয় এজন্য যে, এসব ব্যাংক শেয়ারবাজারে নতুন প্রবেশ করেনি। বিনিয়োগকারীদের লোকসানের বিপরীতে তেমন কোনো আশার আলোও দেখাতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থা চলতে থাকলে সার্বিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হওয়ারও শঙ্কা রয়েছে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাংক খাত কী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তা সবার জানা। সে খাতটিতে অস্থিতিশীলতা তাই কোনোভাবে কাম্য নয়। ব্যাংক খাতকে শক্তিশালী বনিয়াদের ওপর দাঁড় করাতে হবে। প্রয়োজনে এ খাতের অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে নিতে হবে কঠোর অবস্থান।