ব্যাংক খাতে দর বৃদ্ধির নেপথ্যে ছিল ব্যাংকই

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজার সাধারণত নিয়ন্ত্রণ করেন বড় শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা। তারা যে খাতে বিনিয়োগ করেন সে খাত বাড়তে থাকে। আর এই বৃদ্ধি দেখে সেখানে ছোটেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। কিছুদিন ধরে পুঁজিবাজারে চলছে ব্যাংক খাতের উল্লম্ফন। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে বাজার ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে রয়েছে। গত ১ জুন ডিএসইর সূচক পাঁচ হাজার ৪৩৯ পয়েন্টে ছিল। লেনদেন ছিল ৫২৬ কোটির ঘরে। আর চার মাসের ব্যবধানে সূচক বেড়েছে ৭৬৭ পয়েন্ট। লেনদেন বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। আর বর্তমানে এককভাবে বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে ব্যাংক খাত। আর এই ব্যাংক খাতের বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে ব্যাংক খাতই, কারণ ব্যাংকগুলো তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনিয়োগ সীমার অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ করেছে পুঁজিবাজারে। আর এই বিনিয়োগের সিংহভাগই ঢুকেছে ব্যাংক খাতে, যার কারণে সাত ব্যাংককে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আরও কয়েকটিকে করতে পারে। এর প্রেক্ষিতে এসব ব্যাংক পুঁজিবাজার থেকে তাদের অতিরিক্ত বিনিয়োগ তুলে নিলে সামনে এ খাতে বড় ধরনের পতন হতে পারে। কাজেই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বুঝেশুনে এ খাতে বিনিয়োগ করতে হবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (গতকাল) গতকাল ৫৪ শতাংশ শেয়ারের দর কমলেও সূচক সামান্য বেড়েছে। আর ব্যাংকসহ প্রায় সব খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির দর কমেছে। ইতিবাচক ছিল আর্থিক, ওষুধ ও রসায়ন খাত। এই দুই খাতের বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধি সূচককে সামান্য ইতিবাচক রাখতে পেরেছে। গতকাল ব্যাংক খাতে সংশোধন হয়েছে। এ খাতে লেনদেন কমেছে ৬০ কোটি টাকা। এ খাতের ৮০ শতাংশ বা ২৪টি কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এ খাতে লেনদেন হয় ৫৫৮ কোটি টাকা। আর গতকাল মোট লেনদেনের ৪৮ শতাংশ বা ৪৯৬ কোটি টাকা ব্যাংক খাতের হলেও এ খাত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি ছিল। অন্যদিকে গতকাল আর্থিক খাত ইতিবাচক ছিল প্রায় ৮৭ শতাংশ। এ খাতের ২০টি কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে মাত্র তিনটির। গতকাল এ খাতে লেনদেন হয় ১৫৫ কোটি টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৯৩ কোটি টাকা। এ খাতে লেনদেন বাড়ে ৬৩ কোটি টাকা বা ছয় শতাংশ। সিরামিক খাতে ৮০ শতাংশ শেয়ারের দর ইতিবাচক ছিল। চামড়া খাত প্রায় ৬৭ শতাংশ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাত ইতিবাচক ছিল ৫৩ শতাংশ। ওষুধ খাতের ১৫ কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে ১১টির। এ খাতে লেনদেন বাড়ে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা। বাকি খাতগুলোর বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। শতভাগ নেতিবাচক ছিল টেলি যোগাযোগ এবং কাগজ ও প্রকাশনা খাত।