ব্যাংক খাতে প্রত্যাবর্তন বিনিয়োগকারীদের

দুর্বল কোম্পানির মন্দাদশা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: দীর্ঘদিন পর সুবাতাস ফিরেছে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানিতে। দুর্বল কোম্পানির বিরুদ্ধে ডিএসইর সোচ্চার হওয়ার পর থেকে এ খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। তাছাড়া এসব শেয়ারের দর কমার পাশাপাশি প্রথম প্রান্তিকে অধিকাংশ ব্যাংক মুনাফায় থাকায় খাতটিকে বিনিয়োগক্ষেত্র ভাবছেন সবাই। যে কারণে এসব শেয়ারদর বাড়ছে।
বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, তারা এখন দুর্বল ও ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক। সম্প্রতি এ ধরনের দুটি প্রতিষ্ঠান তালিকাচ্যুত করার পাশাপাশি আরও ১৫ কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে ডিএসই। যে কারণে এ ধরনের কোম্পানিতে বিনিয়োগের আগ্রহ হারিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে ব্যাংক খাত মৌলভিত্তি হওয়ার পাশাপাশি অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কম হওয়ায় এ খাতে ঝুঁকছেন তারা। কিন্তু এতেও স্বস্তিতে নেই এ খাতের বিনিয়োগকারীরা। কারণ সাম্প্রতিক দরপতনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা। যে কারণে তাদেরই চিন্তা বেশি।
এসব বিনিয়োগকারীর সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, সাম্প্রতিক দরপতনে তাদের পুঁজি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমে গেছে। পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল থাকবে এমন প্রত্যাশা তাদের। বিনিয়োগকারীরা বলেন, চলমান দরপতনে মাঝেমধ্যে দু-এক কার্যদিবস বাজার ঊর্ধ্বমুখী থেকেছে। কিন্তু তা দীর্ঘমেয়াদি হয়নি।
ফলে দু-একদিন বাজার ভালো থাকলেও আমরা সেটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখতে পারি না। আমরা চাই একটি স্থিতিশীল বাজার। যে বাজারে বিনিয়োগ করে ঝুঁকি কম থাকবে। এজন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করেন।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, গতকাল ব্যাংক খাতের শেয়ারের দর বৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনেও ছিল সন্তোষজনক অংশগ্রহণ। গতকাল এ খাতের তালিকাভুক্ত ৩০ কোম্পানির মধ্যে ২৫টির শেয়ারদর বাড়ে। অন্যদিকে কমে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর। বাকি চার প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর অপরিবর্তিত থাকে।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাজারে পতন থাকলেও কিছু কিছু শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়ে উঠেছে। কিন্তু একটি ব্যাংকের শেয়ার এখনও অতিমূল্যায়িত হয়নি। তাছাড়া এ খাতের বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর এখনও অনেক কম রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘ সময় নিয়ে বিনিয়োগ করলে এখান থেকে ভালো রিটার্নের প্রত্যাশা করতেই পারেন।
একই প্রসঙ্গে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, বিনিয়োগকারী সব সময় ভালো শেয়ারের সঙ্গে থাকতে চান। সার্বিক বিবেচনায় এখনও অধিকাংশ ব্যাংক শেয়ারে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক দরপতনে এসব শেয়ারের দর কমে গেছে। হয়তো সে কারণেই ব্যাংক শেয়ারের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ব্যাংকের পিই রেশিও এখনও ১০-এর নিচে অবস্থান করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যে কোনো খাত বা কোম্পানির ক্ষেত্রে এই রেশিও বিনিয়োগের উপযোগী। কোনো প্রতিষ্ঠানের পিই ২০-এর ওপরে চলে গেলে ধীরে ধীরে ওই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আর ৪০-এর বেশি পিই হলে ওই প্রতিষ্ঠান খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সে কারণে এ ধরনের কোম্পানির মার্জিন ঋণ সুবিধা বন্ধ থাকে।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের পর তালিকাভুক্ত সবগুলো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর তলানিতে চলে আসে। পরবর্তীকালে হল-মার্ক, বেসিক ব্যাংকসহ এ খাতে নানা অনিয়মের কারণে এই খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। ব্যাংক খাত ছেড়ে বিনিয়োগকারীরা অন্যান্য খাতের দিকে ঝুঁকে পড়েন। যে কারণে লেনদেন ও বাজার মূলধনে খাতটির অবদান কমে যায়। দীর্ঘদিন পর সে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসেছে খাতটি।