প্রচ্ছদ শেষ পাতা

ব্যাংক খাতে যোগ হচ্ছে নতুন ছয়টি ই-সেবা

শেখ শাফায়াত হোসেন: সরকারের ‘ই-সার্ভিস রোডম্যাপ ২০২১’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ছয়টি ই-সেবা চালু করতে যাচ্ছে ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সেবাগুলো হলো: ই-চালান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ইএফটি সোশ্যাল সেফটিনেট বেনিফিট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, গভর্নমেন্ট সেভিংস ইনস্ট্র–মেন্ট সিস্টেম, কলমানি ট্রেডিং সিস্টেম, ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক পেমেন্ট গেটওয়ে এবং ই-পারমিশন ফর বিজনেস এন্টিটিস।
জানা গেছে, এরই মধ্যে ইএফটি সোশ্যাল সেফটিনেট বেনিফিট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সেবার আওতায় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর উপকারভোগীদের ভাতা তাদের ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পৌঁছে যাবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপকারভোগীর হিসাবে ভাতা পৌঁছে দিচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই কিছু কিছু হিসাবে ভাতা পৌঁছে দেওয়া শুরু হয়। হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কার্যালয় থেকে উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাব সরবরাহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা আশা করছেন, দ্রুতই সব উপকারভোগী এ সেবার আওতায় চলে আসবেন।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা এ ছয়টি সেবা চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এর পরপরই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এই সেবা চালুর কার্যক্রম বাস্তবায়নে আট সদস্যবিশিষ্ট একটি আন্তঃবিভাগীয় কোর কমিটি গঠন করা হয়। ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রোজেক্টের (এফএসএসপি) দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক মো. মাসুদ বিশ্বাসকে এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন: নির্বাহী পরিচালক (প্রোগ্রামিং) দেবদুলাল রায়, ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক মো. খুরশীদ আলম, পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (সম্প্রতি এসএমই বিভাগে বদলি) লীলা রশিদ, সচিব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (সম্প্রতি পেমেন্ট সিস্টেমসে বদলি) মো. মেজবাউল হক, আইসিটিআইএমএমডির প্রিন্সিপাল মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জাকির হাসান, মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাবস্থাপক শাকিল এজাজ এবং মতিঝিল অফিসের সিনিয়র সিস্টেমস অ্যানালিস্ট মোহাম্মদ রাহাত উদ্দিন।
জানা গেছে, ই-সার্ভিস রোডম্যাপ ২০২১ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কর্মকর্তাদের নিয়ে ৩ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে একটি বৈঠক করেন গভর্নর ফজলে কবির। ওই বৈঠকে নির্ধারিত ছয়টি ই-সেবার সর্বশেষ তথ্য সম্পর্কে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা তুলে ধরেন মো. মেজবাউল হক।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এ ছয়টি ই-সেবা দিতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো কোনো সেবা এরও অনেক আগে থেকেই পাওয়া যাবে। তবে ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা দিতে একটু বেশি সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন তারা। এটি চালু হলে দেশে সব ধরনের ই-কমার্সের পেমেন্ট এই গেটওয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এতে যেসব ব্যাংক কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে, তাদের গ্রাহকও এ ধরনের সেবা পাবেন বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব সঞ্চয়পত্র বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানই সঞ্চয় অধিদফতরের তথ্যভাণ্ডারের সহায়তা নিয়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করছে। এতে সব ক্রেতার ই-টিআইএন ও ব্যাংক হিসাব বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত নতুন যে ই-সেবাটি দিতে চেষ্টা করছে, সেটি হলো ঘরে বসেই সঞ্চয়পত্র কেনার সুবিধা। এতে অনলাইনে ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় সব তথ্য দিয়ে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মতো করেই ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা পরিশোধ করে সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন গ্রাহক।
এছাড়া ই-পারমিশন ফর বিজনেস এন্টিটিস সেবাটি চালু হলে ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো অনুমোদনের জন্য আর ব্যাংকে যেতে হবে না। ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করা যাবে এবং আবেদন কোন অবস্থায় আছে, তাও আবেদনকারী অনলাইনে দেখতে পাবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক সময় আবেদনকারী অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ডেস্কে এসে যোগাযোগ করেন। এই সেবা চালু হলে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।
ব্যাংকগুলো এখন কলমানির লেনদেনের জন্য ফোনে ফোনে অন্য ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ভবিষ্যতে কলমানি লেনদেনের জন্য একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থাকবে। যেখানে একটি ব্যাংক প্রতিদিন কত টাকা কলমানিতে খাটাতে পারবে এবং কোনো ব্যাংকের কত টাকার দরকার সে বিষয়ে অনলাইন ট্রেডিং স্টেশনের মাধ্যমে ঘোষণা দিতে পারবে। পুরো লেনদেনটিই সেখানেই সম্পন্ন হবে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমরা অনেক আগে থেকেই এ সেবাগুলো চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। সম্প্রতি এটুআই প্রজেক্ট থেকে আমাদের কাছে ই-সার্ভিস রোডম্যাপ ২০২১ বাস্তবায়নে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়। আমরা তখন এ ছয়টি সেবার কথা তাদের জানিয়েছি। তারাও এ সেবাগুলোর বিষয়ে খুবই উৎসাহ দেখিয়েছে।’

সর্বশেষ..