ব্যাংক খাতে সুশাসন থাকা খুবই জরুরি

পুঁজিবাজারে সব থেকে বড় পুঁজি সরবরাহকারী খাতে বর্তমানে যে অরাজকতা, তা ঠিক করার কোনো পদক্ষেপ যদি বাজেটে থাকে তাহলে এর উপকারিতা পুঁজিবাজার অবশ্যই পাবে। ব্যাংক খাত হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রভাবক শক্তি। বিশেষ করে রেভিনিউ আয়ের ক্ষেত্রে। মোট রেভিনিউ আয়ের ৩০ শতাংশ আসে ব্যক্তিগত ইনকাম ট্যাক্সসহ আরও কিছু বিষয় থেকে। বাকি ৭০ শতাংশই আসে করপোরেট ট্যাক্স থেকে। আবার করপোরেট ট্যাক্সের ৭০ শতাংশই আসে ব্যাংক খাত থেকে। তাই ব্যাংক খাতে সুশাসন থাকা খুবই জরুরি। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। আহসানুল ইসলাম টিটুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন অর্থনীতিবিদ ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী এবং এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ। অনুষ্ঠানটি গ্রন্থনা ও সম্পাদনা করেন হাসিব হাসান।
ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, এবারের বাজেটে সরাসরি পুঁজিবাজার সম্পৃক্ত তেমন কোনো নির্দেশনা নেই। আর্থিক খাতের করপোরেট ট্যাক্স আড়াই শতাংশ কমানোতে পরোক্ষভাবে হয়তো কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর্থিক খাতে যারা বিনিয়োগ করেছেন তারা হয়তো এর সুবিধা পাবে। তবে আমার মনে হয় এর মূল সুবিধাটি পাবে পরিচালক বা বড় বড় শেয়ারহোল্ডাররা। বাকিরাও হয়তো সুবিধা পেতে পারে কিন্তু সেটি খুব সীমিত আকারে। এটি বাজারে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয় না। বরং ব্যাংক খাতে যে বিশৃঙ্খল অবস্থা সেখানে খুব দ্রুতই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা দরকার। ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে যাচ্ছে এ ভেবে মানুষের মনে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। কিছু লোক ব্যাংক থেকে এমনভাবে টাকা নিয়ে যাচ্ছে যাকে ঋণ দেওয়া বলে না। মনে হচ্ছে যেন টাকা ব্যাংক থেকে নিয়ে যাচ্ছে। কাজেই জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য এটি অবশ্যই বন্ধ করা উচিত।
আবদুল মজিদ বলেন, পুঁজিবাজার এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম বা জায়গা যা একটি দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে। যে কারণে অর্থনীতি কেমন চলবে বা কেমন হচ্ছে তার ওপর পরোক্ষভাবে নির্ভর করে পুঁজিবাজার কেমন হবে। এবারের বাজেটে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া দেওয়া হয়েছে কিন্তু আগের মতো সরাসরি তেমন কোনো দাবি-দাওয়া নেই। তবে অর্থনীতি যদি ভালো চলে তাহলে পুঁজিবাজারও ভালো চলবে। আবার পুঁজিবাজার যদি ভালো চলে তাহলে দেশের অর্থনীতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পুঁজিবাজারে সব থেকে বড় পুঁজি সরবরাহকারী যে খাত সেখানে বর্তমানে যে অরাজকতা তা ঠিক করার কোনো পদক্ষেপ যদি বাজেটে থাকে তাহলে এর উপকারিতা পুঁজিবাজার অবশ্যই পাবে। তাছাড়া ব্যাংক খাত হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রভাবক শক্তি বিশেষ করে রেভিনিউ আর্নিংয়ের ক্ষেত্রে। আমরা মোট যে রেভিনিউ পাই তার ৩০ শতাংশ আসে ব্যক্তিগত ইনকাম ট্যাক্সসহ আরও কিছু বিষয় থেকে। বাকি ৭০ শতাংশই আসে করপোরেট ট্যাক্স থেকে। আবার করপোরেট ট্যাক্সের ৭০ শতাংশই আসে ব্যাংক খাত থেকে। তাই ব্যাংক খাতে সুশাসন থাকা খুবই জরুরি। তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনও বিদ্যমান। সমস্যা হচ্ছে বাজারে ভালো শেয়ারের অভাব আছে। রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর বাজারে আসার কথা বা উচিত ছিল। এসব কোম্পানি এলে বাজারের ভারসাম্য রক্ষা হতো। কিন্তু এ ব্যাপারে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এ বারের বাজেটে এ ব্যাপারে তেমন কোনো পদক্ষেপও আমরা দেখিনি। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো আনার ব্যাপারে প্রত্যাশা করেছিলাম।

শ্রুতিলিখন: রাহাতুল ইসলাম