ব্যাংক খাত গতিশীল রাখার প্রচেষ্টা

রুবাইয়াত রিক্তা: দেশের পুঁজিবাজার সম্পূর্ণরূপেই ব্যাংক খাতনির্ভর হয়ে পড়েছে। তাই বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে ব্যাংক খাতকে গতিশীল করতে সচেষ্ট ছিল সব মহলই। আগের দিনের ধারাবাহিকতায় গতকাল অধিকাংশ খাতের দর কমলেও ব্যতিক্রম ছিল ব্যাংক ও টেলিযোগাযোগ খাত। সম্প্রতি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সীমা অতিক্রম করাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাত ব্যাংককে জরিমানা করে। আরও কিছু ব্যাংককে জরিমানা ও নজরদারিতে রাখা হয়েছে এমন গুজবে প্যানিক সৃষ্টি হয় পুঁজিবাজারে। আতঙ্কিত হয়ে গত দুদিনে সব খাতের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন। এতে বড় ধরনের সংশোধনের কবলে পড়ে পুঁজিবাজার। কমে যায় শেয়ারের দর ও লেনদেন। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন কমে ২০০ কোটি টাকা এবং দরপতন হয় ১৮৮ কোম্পানির। আর এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন বড় বিনিয়োগকারীরা। একদিকে তারা ব্যাংক খাতের শেয়ার বিক্রি করাতে দর কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে দর কমে যাওয়ায় তারা ফের এসব শেয়ার সংগ্রহ করছেন। এছাড়া ব্যাংক পরিচালক হতে ইচ্ছুকরাও তাদের কোঠা পূরণের জন্য দর কমার এ সুযোগ গ্রহণ করছেন। ব্যাংক খাতে এর প্রমাণ দেখা গেছে গতকাল। এদিন ব্লক মার্কেটে আল-আরাফাহ্ ব্যাংকের এক কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংকের ১০ লাখ ২৭ হাজার এবং ব্র্যাক ব্যাংকের দুই লাখ ১০ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়। সব খাতে দরপতন হলেও ব্যাংক খাতে প্রায় ৭৭ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। আবার এ খাতে লেনদেন কমেছে প্রায় ৪১ কোটি টাকা। ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে ব্র্যাক ব্যাংক। এছাড়া টপ টেন গেইনার তালিকায় উঠে আসে শাহ্জালাল, রূপালী ও উত্তরা ব্যাংক। আর্থিক খাতে ৮৮ কোটি বা ১২ শতাংশ লেনদেন হলেও ৬৫ শতাংশ শেয়ারের দরপতন হয়। এ খাত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি ছিল। টেলিযোগাযোগ খাতের গ্রামীণফোনের দর বেড়েছে তিন টাকা ১০ পয়সা। সূচক ইতিবাচক করতে ভ‚মিকা রেখেছে জিপি, ব্র্যাক ব্যাংক, শাহ্জালাল ব্যাংক, বিএটিবিসি ও রূপালী ব্যাংকের মতো বড় মূলধনি কোম্পানির দরবৃদ্ধি। বস্ত্র, ওষুধ ও রসায়ন এবং প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় মোট লেনদেনের ছয় শতাংশ করে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে হয় পাঁচ শতাংশ, জ্বালানি খাতে তিন শতাংশ। লেনদেনের নেতৃত্বে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের সাড়ে ৪৪ কোটি, লংকাবাংলা ৩৭ কোটি, এক্সিম ব্যাংক ৩৩ কোটি, উত্তরা ব্যাংক ২৯ কোটি, শাহ্জালাল ব্যাংক সাড়ে ২৮ কোটি, ইসলামী ব্যাংকের ২৭ কোটি, আমরা নেট ২২ কোটি, এনবিএল ২০ কোটি, আল-আরাফাহ্ ১৫ কোটি এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।