ব্যাংক-বিমার কর হ্রাস অযৌক্তিক

আইবিএফবির বাজেট প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যবসায়ী সমাজের বারবার অনুরোধ ও তৎপরবর্তী আশ্বাস সত্ত্বেও করপোরেট করহার কমানো হয়নি। শুধু ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে করপোরেট কর কমানোয় অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি)। শুধু আর্থিক খাত-সংশ্লিষ্ট খাতকে সুবিধা না দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব খাতেই করপোরেট কর কমানো উচিত বলে মনে করছে আইবিএফবি।
গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আইবিএফবি সম্মেলন কক্ষে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট হাফিজুর রহমান খান। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, আইবিএফবির প্রেসিডেন্টের বক্তব্য শেষে প্রশ্নোত্তোর পর্বে আইবিএফবির ভাইস প্রেসিডেন্ট, মো. ওমর সাফায়াত কাউছার, হুমায়ুন রশিদ ও আইবিএফবির ডিরেক্টর ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মজিদ, ডিরেক্টর, এমএস সিদ্দিকী, সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ আলী দ্বীন প্রমুখ।
আইবিএফবি প্রেসিডেন্ট হাফিজুর রহমান খান বলেন, ‘যে সব শিল্পপণ্য এবং নিত্য ব্যবহার্য পণ্যসামগ্রী সাধারণ জনগণ ব্যবহার করে সে সব পণ্যসংশ্লিষ্ট খাতে করপোরেট কর না কমিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে শুধু ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্ষেত্রে করপোরেট কর কমানোয় আইবিএফবি অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছে। এখানে লক্ষণীয় ব্যাপার হলোÑব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের উদ্যোক্তা বা মালিকপক্ষ প্রকৃতপক্ষে দেশের ধনিক শেণিরই প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। তাই শুধু আর্থিক খাত-সংশ্লিষ্ট খাতকে সুবিধা না দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব খাতেই করপোরেট কর কমানো উচিত।’
তিনি বলেন, ‘বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর জন্য আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনয়ন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য খাতভিত্তিক পর্যাপ্ত বরাদ্দ, কৃষি ও উৎপাদন খাতের ভিত মজবুত করা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নে নজর বৃদ্ধি, অনুন্নত এলাকার উন্নয়নকল্পে প্রণোদনা প্রদান, আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে উপযুক্ত ব্যবসায়ের পরিবেশ সৃষ্টি ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বরাদ্দ, বাজেট বিকেন্দ্রীকরণ এবং সব ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করাই ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের বিশেষ প্রতিপাদ্য হওয়া প্রয়োজন।’
দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ মজবুত করার জন্য উন্নয়নশীল বাজেটের কোনো বিকল্প নেই। আইবিএফবি মনে করে বাংলাদেশকে টেকসই উন্নয়নশীল দেশে উন্নীতকরণ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও প্রগতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে একটি বহুমুখী, বাস্তবায়নযোগ্য এবং সম্প্রসারণশীল বাজেটের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। এ প্রেক্ষাপটে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা দেওয়ার জন্য আইবিএফবি অর্থমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিবাদন জানায়।
বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো ও এর গতি প্রকৃতির সঙ্গে তুলনা করলে এ বাজেট বরাদ্দ খুব বেশি নয়। এদেশের অর্থনীতির ভিত মজবুত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ তরান্বিত করা, অবকাঠামোগত উন্নয়নে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, সামাজিক নিরাপত্তা বলয় বৃদ্ধি, সামগ্রিক ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য বাজেটের পরিমাষ আরো বৃদ্ধি করার অবকাশ ছিল।
বাজেট বাস্তবায়নের হারের প্রবণতা পর্যালোচনায় দেখা যায় বাজেট বাস্তবায়নে আমাদের সক্ষমতা আশাব্যঞ্জক নয়। বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটের বিপরীতে প্রকৃত বাজেট বাস্তবায়নের হার মাত্র ৭৯.১২ শতাংশ এবং চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত এ হার মাত্র ৪১.৭৭ শতাংশ। এখানে উল্লেযোগ্য যে, প্রতি বছর বাজেটের বড় অংশ কাঁটছাট করা হলেও তা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন হয় না। তাই বাজেট বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষেরই বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার জোর দাবি রাখে। এ জন্য বাজেট বাস্তবায়নের হারকে যথাযথভাবে বৃদ্ধি এবং কাজের গুণগতমান সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে বাজেট বাস্তবায়নের কারিগরি এবং প্রায়োগিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বেশি জোর দেওয়া অতীব প্রয়োজন এবং তার জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকা উচিত বলে আইবিএফবি মনে করে।