ব্যাংক শাখা বাড়ানোর পক্ষে অর্থমন্ত্রী, বিপক্ষে সচিব

আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ কৌশলপত্র শীর্ষক কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সব মানুষকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণে ব্যাংকের শাখা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব ইউনুসুর রহমান বলেছেন, ব্যাংকের শাখা না বাড়িয়ে বিকল্প উপায়ে সবাইকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণের উদ্যোগ নিতে হবে।
গতকাল রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে বাংলাদেশের জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ কৌশলপত্র শীর্ষক এক কর্মশালায় তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ‘বিজনেস ফাইন্যান্স ফর দ্য পুওর ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ইউকে-এইডের সহায়তায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
এছাড়া গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবদুর রউফ তালুকদার এবং ডিএফআইডি বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মিস জেইন এডমন্ডসন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন পদ্ধতিতে আমরা আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ কার্যক্রম বাড়ানোর চেষ্টা করেছি ব্যাংকের শাখা বিস্তৃত করা এবং সবার কাছে ব্যাংকের সেবা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন খুব বড় নয়, কারণ ব্যাংকের শাখা এখন সারা দেশে ১০ হাজারের কিছু কম আছে। ১৬ কোটি মানুষের জন্য এটা মোটেই যথেষ্ট নয়। ব্যাংকের শাখা আরও অনেক বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।
কর্মশালার শেষ পর্যায়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমান বলেন, এখন আমাদের ব্যাংকের শাখা বাড়ানোর দিকে না গিয়ে বিকল্প উপায়ে সব মানুষকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণের চেষ্টা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং এবং এজেন্ট ব্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, দারিদ্র্য বাংলাদেশে আছে, তবে সেটা মোকাবিলা করার প্রচেষ্টা আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রয়েছে। বর্তমান সরকার সংস্কারকাজে হাত দিয়েছে। ভবিষ্যতে আর্থিক খাতে আরও সংস্কার হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। আমাদের সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) শক্তিশালী করছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক কাজের ক্ষেত্রে বিমা খাতের সংস্কার দরকার। প্রতিটি কাজে আমাদের উদ্ভাবনী পথ খুঁজে বের করতে হবে, প্রয়োগ করতে হবে উদ্ভাবনী শক্তি। যেমন বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি অর্থ দেওয়ার পদ্ধতি বন্ধ করে একটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রম অনেকখানি হয়ে যাবে।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অরিজিৎ চৌধুরী। জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ কৌশলপত্রের প্রতিবেদনের লিড কনসালট্যান্ট ড. মুস্তফা কে. মুজেরি প্রতিবেদনটি প্রস্তুতিতে তার অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক আসিফ ইকবাল বাংলাদেশের ‘জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ কৌশলপত্র’-এর ওপর বিস্তারিত উপস্থাপনা প্রদান করেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রাহমানের সঞ্চালনায় জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ কৌশলপত্রের ওপর মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বক্তারা জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ কৌশলপত্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের আন্তঃসমন্বয়ের ওপর জোর দেন।