ব্যাংক সুদহার কমলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়ে

সম্প্রতি ব্যাংকে সুদের হারের একটি বড় সমন্বয় হয়েছে। আর সুদের হার যে কোনো অর্থনীতির জন্য একটি বড় নিয়ামক। বিনিয়োগ পুঁজিবাজারমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে সুদের হার বড় ভূমিকা পালন করে। সুদের হার কমলেই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে ওঠে বিনিয়োগকারীরা। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। খুজিস্তা নূর-ই-নাহারীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন দৈনিক সমকালের বিজনেস এডিটর মো. জাকির হোসেন এবং ওয়ান সিকিউরিটিজ লিমিটেডের সিইও আমিনুল ইসলাম।
মো. জাকির হোসেন বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারের দৈনিক লেনদেন ৮০০ থেকে হাজার কোটি টাকার মধ্যে। দীর্ঘদিন পর বাজারে এমন ভলিউম দেখতে পাচ্ছি। তারপরও সূচক পাঁচ হাজার ৩০০-৪০০ পয়েন্টের বেশি উঠতে পারছে না। যেহেতু বাজারের বেশিরভাগ কোম্পানি জুন ক্লোজিংয়ের। তাই লভ্যাংশের প্রত্যাশা থেকে অনেকেই এখন বিশেষ কোম্পানি বা খাত দেখে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি যারা ডিসেম্বর ক্লোজিংয়ের তাদেরও জুনের শেষে অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ হবে । তাই অনেকের প্রত্যাশা থাকবে এসব কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভালো হবে। আর এ দুটি বিষয় হয়তো বিনিয়োগকারীদের প্রভাবিত করছে। যার কারণে লেনদেন বাড়ছে। সম্প্রতি বাজারে দুটি নতুন কোম্পানির লেনদেন শুরু হয়েছে। আর নতুন কোম্পানি এলে লেনদেন অনেক বাড়ে। কাজেই একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে ট্রেড ভলিউমের ওপর। সম্প্রতি ডেইলি স্টারে খবর প্রকাশিত হয়েছে, ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটের ১১টি কোম্পানির কোনো ঠিকানাই নেই। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক সরেজমিনে গিয়ে দেখেছে, কোম্পানিগুলোর যে অফিস ঠিকানা দেওয়া আছে, সেখানে কোনো অফিস নেই। চার-পাঁচ বছর আগে তারা ব্যবসা গুটিয়ে চলে গেছে। আর এ সব কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের যে অর্থ আটকে আছে তা ফিরে পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে গেল। শোনা যাচ্ছে বিএসইসি এ ওটিসি মার্কেটকে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিপি) নামে আলাদা একটি জায়গায় নিয়ে যেতে চাচ্ছে। বিএসইসিকে যখন এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে তখন তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন, এটি তো স্টক এক্সচেঞ্জের দায়িত্বের মধ্যে পরে। অন্যদিকে স্টক এক্সচেঞ্জ বলে এটি তো নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিএসইসির মূল দায়িত্ব। আবার বিএসইসি বলে যারা ইস্যু ম্যানেজার মানে যারা কোম্পানিটিকে বাজারে নিয়ে এসেছে তাদের ভূমিকা কী? তারা কি দেখে শুনে আনেনি।
আমিনুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারের লেনদেন বাড়ার আর একটি বড় কারণ, সম্প্রতি বাজারে সুদহারের একটি বড় সমন্বয় হয়েছে। আর সুদের হার যে কোনো অর্থনীতির জন্য বড় নিয়ামক। উন্নত দেশগুলোতে দেখা যায়, সুদের হার ঊর্ধ্বাভিমুখ বা নি¤œাভিমুখ যাই হোক না কেন যদি দশমিক ২৫ বা পাঁচ শতাংশও সমন্বয় হয় তাহলেও একটি বড় প্রভাব পড়ে অর্থনীতিতে। সম্প্রতি বিএবির মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে, ঋণের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশ এবং তিন মাসের আমানতের ক্ষেত্রে ছয় শতাংশ সুদের হার আরোপ করার জন্য। এখানে একটি বড় সমন্বয় হয়েছে। আমরা জানি বিনিয়োগ পুঁজিবাজারমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে সুদের হার বড় ভূমিকা পালন করে। সুদের হার যখনই কমে তখনই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়ে।

শ্রুতিলিখন: রাহাতুল ইসলাম