ব্যাংক সুদে লোকসান থেকে বাঁচল বিএসসি

২০১৬-১৭ অর্থবছর

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: ব্যবসা পরিচালনায় ২০১৬-১৭ অর্থবছর বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) লোকসানের শিকার হয় ২৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। কিন্তু পুঁজিবাজার হতে আরপিওর মাধ্যমে শেয়ার বিক্রি অর্থ ও সংস্থার নিজস্ব অর্থ মিলে বিভিন্ন ব্যাংকে জমার ছিল ৪১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে সুদ বাবদ আয় করে ৩২ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। এতে নিট লাভ হয় আট কোটি ৬৫ লাখ ৬৬ হাজার ৩৪১ টাকা, যা বিএসসিকে লোকসানের কবল থেকে রক্ষা করে।
বিএসসি সূত্রমতে, ১৯৭২ সালে বিএসসির সংগ্রহে ছিল ৩৮টি জাহাজ। বাণিজ্যিকভাবে অলাভজনক বিবেচিত হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে এর মধ্যে ৩৬টি জাহাজ বিক্রি করা হয়। আর হাতে আছে বাংলার জ্যোতি ও সৌরভ নামের এ দুটি জাহাজ, যা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তেল পরিবহন করে থাকে। আর এ দুটি জাহাজের লাইটারিং করে গত অর্থবছরের বিএসসি আয় ছিল ৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ৬৩৯ টাকা। এছাড়া অন্যান্য পরিচালন খাত হতে আয় হয় ২৫ কোটি ৭৯ লাখ ৩০ হাজার ৫০৮ টাকা। এতে মোট পরিচালন আয় ছিল ৮২ কোটি ১৫ লাখ ১৩ হাজার ১৪৭ টাকা। অপরদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের পরিচালন ব্যয় ছিল মোট ১০৬ কোটি ৯৪ লাখ সাত হাজার ৩৮৫ টাকা। এর মধ্যে জাহাজ যাত্রা খরচ ছিল ৫৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪৯ হাজার ৩৬৯ টাকা, প্রশাসনিক ব্যয় ৫১ কোটি ৫৩ লাখ ১৮ হাজার ২৭৭ টাকা এবং অ-পরিচালন খরচ ৯১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৩৯ টাকা। এতে লোকসান হয় ২৪ কোটি ৭৮ লাখ ৯৪ হাজার ২৩৮ টাকা।
যদিও পুঁজিবাজার হতে আরপিওর মাধ্যমে শেয়ার বিক্রি অর্থ ও সংস্থার নিজস্ব অর্থ মিলে বিভিন্ন ব্যাংকে জমার ছিল ৪১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে সুদ বাবদ আয় করে ৩২ কোটি পাঁচ লাখ টাকা, যা বিএসসিকে লোকসানের কবল থেকে রক্ষা করে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির কর পরবর্তী নিট লাভ হয় আট কোটি ৬৫ লাখ ৬৬ হাজার ৩৪১ টাকা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলার জ্যোতি ও সৌরভ থাকলেও এগুলোর যে কোনো মূহূর্তে অকোজো হলে বিএসসি হতে কোনো জাহাজ থাকবে না। অথচ বিএসসির মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে মাদার ট্যাংকার ও সেলুলার কনটেইনারসহ ২৫ থেকে ৩০টি জাহাজ দরকার হলেও বিগত ২৬ বছরে কোনো জাহাজ কেনা হয়নি। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে এমভি বাংলার শিখা নামে যে জাহাজ কেনা হয়েছিল। তাও অলাভজনক হওয়া সাম্প্রতিক সময়ে নিলামে বিক্রয় করা হয়। যদি প্রতিষ্ঠানটির আরপিওর মাধ্যমে শেয়ার বিক্রি অর্থ ও সংস্থার নিজস্ব অর্থ মিলে ৩৬০ কোটি টাকায় চীন থেকে একটি প্রায় ৩৬ হাজার ডিডব্লিউটি ক্ষমতা সম্পন্ন নতুন ক্রুড অয়েল ট্যাংকার কেনার প্রক্রিয়াধীন আছে, যা গত বছরের অক্টোবরের বিএসসির বাহরের যুক্ত হওবার কথা ছিল। তবে এখনও পর্যন্ত তা যুক্ত হয়নি। ফলে কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগ করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা।
প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের একাধিক বিনিয়োগকারী বলেন, একটি কোম্পানি যখন টাকা উত্তোলন করে তখন কোনো কোনো খাতে উত্তোলিত অর্থ ব্যবহƒত হবে তা জানানো হয়। ওই টাকা নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহার করতে না পারাটাই ব্যর্থতা। এ টাকা তো ব্যাংকে আমানত হিসেবেও রাখা ছিল। এক্ষেত্রে বিষয়টির প্রতি বিএসইসির বিশেষভাবে দেখা উচিত। কেননা, কোম্পানির এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্ষতিকর।
বিএসসির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইউসূফ শেয়ার বিজকে বলেন, আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার বিক্রি অর্থ ও সংস্থার নিজস্ব অর্থ মিলে ৩৬০ কোটি টাকায় চীন থেকে এ জাহাজ কেনা হচ্ছে। বর্তমানে ক্লাসিফিকেশন সনদ পর্যবেক্ষণ জটিলতায় কবে পাবে তা নিশ্চিত হয়নি। কিছুদিন আগে এ জাহাজটি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন আমাদের এমডিসহ একটি প্রতিনিধিদল। প্রায় ৩৬ হাজার ডিডব্লিউটি ক্ষমতা সম্পন্ন একটি নতুন ক্রুড অয়েল ট্যাংকারটি কেনা হচ্ছে ২৮৬ কোটি টাকায়। আর ভ্যাট ও অন্যান্য খরচ মিলে মোট ব্যয় হবে ৩৬০ কোটি টাকা।