ব্যাংক হিসাব বিষয়ে গ্রাহকের যেসব তথ্য জানা জরুরি

(গতকালের পর)

মোশারফ হোসেন: সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবের সুদ: সাধারণত ব্যাংক চলতি হিসাবে কোনো সুদ প্রদান করে না। সঞ্চয়ী হিসাবে তিন-চার শতাংশ হারে বছরে দুবার (জুন ও ডিসেম্বরে) সুদ প্রদান করে থাকে, তবে তা শর্তসাপেক্ষে। যেমন এক. সুদপ্রাপ্তির জন্য জমাগুলো মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে হতে হবে; দুই. কোনো মাসের সুদ হিসাবায়ন করতে ওই মাসের ৬ তারিখ থেকে সর্বশেষ তারিখ পর্যন্ত সর্বনি¤œ স্থিতি বিবেচনা করা হয়; তিন. দৈনিক স্থিতি পাঁচ হাজার টাকার কম থাকলে সংশ্লিষ্ট মাসের জন্য কোনো সুদ প্রযোজ্য হবে না; চার. কোনো মাসে চারবার বা ততোধিক অথবা স্থিতির ২৫ শতাংশ বা ততোধিক টাকা উত্তোলন করলে সংশ্লিষ্ট মাসের জন্য কোনো সুদ গ্রাহক পাবে না; পাঁচ. নোটিস ব্যতিরেকে ৫০ হাজার টাকার অধিক উত্তোলন করলে সংশ্লিষ্ট মাসের জন্য কোনো সুদ প্রযোজ্য হবে না; ছয়. কোনো মাসের প্রাপ্য সুদ ১০০ টাকার নিচে হলেও গ্রাহক ওই মাসের জন্য কোনো সুদ পাবে না।
ডেবিট কার্ড: ডেবিট কার্ড হচ্ছে চেকের বিকল্প। এই কার্ড ব্যবহার করে আপনি এটিএম/সিআরএম বুথ থেকে আপনার হিসাবের নির্ধারিত অঙ্কের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। তাছাড়া কেনাকাটা, বিল পরিশোধেও এই কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। সিবিএস ব্যবহার করা সব ব্যাংকই তাদের গ্রাহকদের চেকের পাশাপাশি ডেবিট কার্ডও ইস্যু করে থাকে। তাই হিসাব খোলার পর চেকবইয়ের সঙ্গে আপনার ডেবিট কার্ড ও কার্ডের পিন (চওঘ) গ্রহণ করতে ভুলবেন না।
চেক রিকুইজিশন: চেক রিকুইজিশন হচ্ছে চেকবইয়ের জন্য গ্রাহকের আবেদন। হিসাব খোলার সময় হিসাব ফরমের সঙ্গেই প্রথম চেক রিকুইজিশন নেওয়া হয়। পরে চেকবইয়ের সঙ্গেই বইয়ের শেষের দিকে রিকুইজিশন পাতাটি সংযুক্ত থাকে। চেকবই নিঃশেষ হওয়ার আগেই ব্যাংকের কাছে রিকুইজিশনটি জমা দিতে হয়, কারণ প্রধান কার্যালয় থেকে মুদ্রিত চেক বই আসতে প্রায় সপ্তাহখানেক সময় লেগে যায়। তাই যথাসময়ে আবেদন জমা দিয়ে চেকবই গ্রহণ না করলে টাকা উত্তোলন করতে সমস্যায় পড়তে পারেন। আগে ইস্যু করা চেকবইয়ের অধিকাংশ পাতা অব্যবহৃত থাকলে ব্যাংক গ্রাহককে নতুন চেকবই ইস্যু না করার অধিকার সংরক্ষণ করে। আবেদনের দিন দশেকের মধ্যেই চেকবই গ্রহণ করা উচিত এবং গ্রহণ করার সময় চেক বইয়ের পাতা গুনে নেওয়া উচিত। অন্যদিকে দীর্ঘদিন (যেমন ৬০ দিন বা ততোধিক সময়) কোনো চেকবই অবিলিকৃত (ঁহফবষরাবৎবফ) থাকলে ব্যাংক তা ধ্বংস করে ফেলে এবং এজন্য গ্রাহকের হিসাব থেকে চার্জ আদায় করা হতে পারে।
চেক হারানো: চেক হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে থানায় জিডি করা হয় না, ব্যাংককে জানানো হয় না। এর ফলে গ্রাহকের হিসাবে জালিয়াতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং দুষ্ট লোকের হাতে পড়লে এই চেক দিয়ে হিসাবধারীর (চেকদাতা) বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিতে পারে। তাই চেকবই বা চেকের কোনো পাতা হারিয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংককে লিখিতভাবে অবগত করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করে জিডির কপি ব্যাংকে জমা প্রদান করতে হবে। পরে নতুন চেকবই ইস্যুর আগে ব্যাংক আপনার কাছ থেকে ইনডেমনিটি বন্ডও নিতে পারে।
মিনিমাম ব্যালেন্স: আপনার হিসাবের সব অর্থই আপনার এবং আপনার ইচ্ছামতোই আপনি তা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে চেক ড্র করার সময় ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত ন্যূনতম স্থিতি (মিনিমাম ব্যালেন্স) রেখে তারপর চেক ড্র করবেন। সঞ্চয়ী হিসাবে সাধারণত পাঁচশ/এক হাজার, আর চলতি হিসাবে এক/দুই হাজার টাকা মিনিমাম ব্যালেন্স রাখতে হয়। মিনিমাম ব্যালেন্স বজায় না থাকলে ব্যাংক চেকের পেমেন্ট দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবে এবং যেকোনো সময় নোটিস প্রদান ব্যতিরেকে হিসাব বন্ধ করে দিতে পারে।
ইনঅপারেটিভ/ডরমেন্ট অ্যাকাউন্ট: সাধারণত ছয় মাস কোনো একটি হিসাবে লেনদেন না হলে হিসাবটি ইনঅপারেটিভ (রহড়ঢ়বৎধঃরাব) আর এক বছর লেনদেন না হলে হিসাবটি সুপ্ত (ফড়ৎসধহঃ) হিসাবে বিবেচিত হয়। তবে কোনো কোনো ব্যাংক কারেন্ট অ্যাকাউন্টে এক বছর আর সেভিংস অ্যাকাউন্টে দুই বছর লেনদেন না হলে তা সুপ্ত (ফড়ৎসধহঃ) হিসাব বলে গণ্য করে। ব্যাংকভেদে এই সময়কাল ভিন্ন হতে পারে। ইনঅপারেটিভ/ডরমেন্ট অ্যাকাউন্টে কোনো উত্তোলন করা যায় না। তবে গ্রাহকের আবেদন সাপেক্ষে ইনঅপারেটিভ ও ডরমেন্ট হিসাবকে অপারেটিভ করা যায়। এজন্য আপনাকে চার্জ প্রদান করতে হতে পারে। তাই খেয়াল রাখবেন আপনার হিসাবে যেন দীর্ঘদিন লেনদেন বন্ধ না থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনামতে, ২০০২ সালের ৩০ এপ্রিলের আগে খোলা যেসব হিসাবের কেওয়াইসি সম্পন্ন হয়নি, সেসব হিসাবকেও ডরমেন্ট হিসাবে চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। তবে ১০ টাকায় খোলা কৃষকের হিসাবকে কখনই ইনঅপারেটিভ বা ডরমেন্ট করা যাবে না।
কালেকশন: আপনার হিসাবে কোনো চেক/পে-অর্ডার/ড্রাফট/যেকোনো ইন্সট্রুমেন্ট সংগ্রহের (কালেকশন) জন্য জমা করতে চাইলে অবশ্যই ইন্সট্রুমেন্টের প্রাপকের (ঢ়ধুবব) নামের সঙ্গে আপনার হিসাবের নামের মিল থাকতে হবে। অন্যথায় ব্যাংক এসব ডিপজিট ইন্সট্রুমেন্ট কালেকশনের জন্য গ্রহণ করবে না।
হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ: ব্যাংক বছরে দুবার হিসাবের বিপরীতে হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ (ধপপড়ঁহঃ সধরহঃবহধহপব ভবব) আদায় করে। সব হিসাবেই এই চার্জ আদায় করা হয় না। যেসব সঞ্চয়ী হিসাবের গড় ব্যালান্স পাঁচ হাজার টাকার নিচে তাদের হিসাব থেকে কোনো চার্জ আদায় করা হয় না। অন্যদের ক্ষেত্রে এই চার্জ ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা। চলতি হিসাব থেকেও বছরে দুবার এই চার্জ আদায় করা হয়। স্কিম ও এফডিআর হিসাব থেকে এ ধরনের কোনো চার্জ আদায় করা হয় না। এছাড়া কৃষকের ১০ টাকার হিসাব, স্কুল ব্যাংকিং হিসাব, মুক্তিযোদ্ধাদের হিসাব, প্রতিবন্ধীদের হিসাব প্রভৃতি হিসাব থেকে এই চার্জ নেওয়া হয় না।
এসএমএস অ্যালার্ট: আপনি যদি এসএমএস (ঝগঝ) ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করেন, তাহলে আপনার হিসাবে টাকা জমা বা উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে তা জেনে নিতে পারবেন। আপনার হিসাবে টাকা জমা হলো কি হলো নাÑএই টেনশন থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।
ইন্টারনেট ব্যাংকিং: ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘরে-বাইরে যেকোনো জায়গায় থেকে যেকোনো সময়ে আপনার কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিজস্ব আইডি ব্যবহার করে আপনার হিসাবের ব্যালেন্স চেক, মিনি স্ট্যাটমেন্ট জেনারেট, অন্য কারও হিসাবে টাকা ট্রান্সফার করতে পারবেন।
ডিপোজিট সিøপ: অনেক অসচেতন কিংবা অল্প শিক্ষিত গ্রাহক ডিপজিট সিøপ আর চেকের মধ্যে গোল পাকিয়ে ফেলেনÑকোনটা দিয়ে টাকা তুলতে হয়, আর কোনটা দিয়ে টাকা জমা দিতে হয়, তা বোঝেন না। ডিপোজিট সিøপ ব্যবহার করা হয় হিসাবে টাকা জমা দিতে, আর চেক ব্যবহার করা হয় টাকা উত্তোলন করতে।
আন্তঃব্যাংক লেনদেন: একই ব্যাংকের আন্তঃশাখা অনলাইন লেনদেনের পাশাপাশি বর্তমানে আরটিজিএস (জঞঝে) এবং বিইএফটিএনের (ইঊঋঞঘ) মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবেই আন্তঃব্যাংক লেনদেন সম্ভব হচ্ছে। আরটিজিএসের মাধ্যমে কয়েক মিনিটের মধ্যেই অন্য ব্যাংকে এক লাখ বা ততোধিক অঙ্কের টাকা পাঠানো যাচ্ছে। অন্যদিকে বিইএফটিএনের মাধ্যমে দুই কার্যদিবসের মধ্যেই অন্য ব্যাংকে যেকোনো অঙ্কের টাকা টাকা পাঠাতে পারবেন।
হিসাবের বিবরণী: বছরে দুইবার জুন ও ডিসেম্বর মাসে গ্রাহক বিনা খরচে তার হিসাবের বিবরণী নিতে পারবেন। অন্যসময় নিজের চাহিদামতো নিতে চাইলে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। তবে বিবরণী গ্রহণ করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (যেমন ১৪ দিন/৩০ দিন) লিখিত কোনো অভিযোগ না পেলে হিসাবের স্থিতি সঠিক আছে বলে ধরে নেওয়া হবে।
নিরক্ষর ব্যক্তির হিসাব: ব্যাংকে হিসাব খোলার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, গ্রাহককে নিজের নাম স্বাক্ষর করতে জানতে হবে। তবে সুবিধাবঞ্চিত নিরক্ষর গ্রাহকরা আঙুলের ছাপের মাধ্যমে হিসাব খোলা ও চেক সম্পাদন করতে পারবেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে আলাদা নির্দেশনা প্রদান করেছে।
মৃত ব্যক্তির হিসাব: মৃত ব্যক্তির হিসাবের সমুদয় অর্থ হিসাবধারীর মনোনীত নমিনিই পাবেন। তবে নমিনি মনোনীত করা না থাকলে ওয়ারিশরা যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন সাপেক্ষে হিসাবের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। তবে মৃত ব্যক্তির হিসাবেও হিসাব
বন্ধের আগ পর্যন্ত বা হিসাবের মেয়াদ পর্যন্ত নির্ধারিত হারে সুদ প্রাপ্য হবে। হিসাবধারী মৃত্যুবরণ করলে নমিনির দায়িত্ব হচ্ছে যথাযথ প্রামাণিক কাগজপত্রসহ (মৃত্যুসনদ, ওয়ারিশসনদ প্রভৃতি) ব্যাংককে লিখিতভাবে অবগত করা এবং অর্থ উত্তোলনের
ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
চেক ডিজঅনারকরণ: যদি কোনো চেকদাতার বিরুদ্ধে তহবিল অপর্যাপ্ততার কারণে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে আপনি কোনো চেক ডিজঅনার করাতে চান, তাহলে স্বাভাবিক নিয়মে চেকটিকে জমাসিøপসহ আপনার ব্যাংকে জমা করুন, অথবা চেকদাতার ব্যাংকে নগদ গ্রহণের জন্য উপস্থাপন করুন। ডিজঅনার করানোর পর, ডিজঅনার মেমো গ্রহণ করবেন এবং মামলা-মোকদ্দমা করলে সাক্ষ্য প্রদানের দিন ধার্য হলে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, যাতে করে আদালতে সাক্ষ্য প্রদানের সময়ে ব্যাংক কর্মকর্তা (চেক ডিজঅনারকারী) হাজির থাকতে পারেন।
এফডিআর: এফডিআর করার সময় আপনাকে মনে রাখতে হবে, আপনার এফডিআর’টির মেয়াদান্তে স্বয়ংক্রিয় নবায়নের নির্দেশনাও আপনাকে দিয়ে রাখতে হবে, অন্যথায় আপনি বঞ্চিত হতে পারেন। এও মনে রাখতে হবে যে, আপনার এফডিআর’টি যখন নবায়ন হবে, নবায়নকালে ব্যাংকের কার্যকর সুদহার (ঢ়ৎবাধরষরহম ৎধঃব) পাবেন, যা বর্তমান সুদহারের সমান, কম বা বেশিও হতে পারে। মেয়াদ পূর্তির আগে নগদায়ন (উত্তোলন) করলে আপনি কী হারে সুদ/মুনাফা পাবেন, তাও জেনে নেবেন।
মেয়াদি স্কিম: মেয়াদি স্কিম যেমনÑডাবল বেনিফিট হিসাব, মাসিক মুনাফাভিত্তিক হিসাব, এমনকি ডিপিএস হিসাবের মেয়াদ পূর্তির পর অতিরিক্ত সময়ের জন্য আপনি আর সুদ নাও পেতে পারেন। তাই মেয়াদান্তে এসব স্কিম হিসাব চালু না রেখে বন্ধ করে দিয়ে প্রয়োজন মনে করলে নতুন স্কিম হিসাব খুলে নেবেন।
আয়কর ও আবগারি শুল্ক: ব্যাংকে জমাকৃত টাকার বিপরীতে লভ্যাংশ পাবেন, এটি সব আমানতকারীরই প্রত্যাশা। কিন্তু লভ্যাংশের বিপরীতে আয়কর ও হিসাবের স্থিতির বিপরীতে আবগারি শুল্ক পরিশোধে কেউই যেন প্রস্তুত নন। তাই আমানতকারীরা অহরহ তর্কে জড়িয়ে পড়েন ব্যাংকারদের সঙ্গে। আমানতের বিপরীতে প্রাপ্ত লভ্যাংশের বিপরীতে ১৫ শতাংশ হারে আয়কর প্রদান করতে হয়। টিআইএনধারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে আয়করের হার ১০ শতাংশ। মনে রাখতে হবে, পাঁচ শতাংশ আয়কর রেয়াত পেতে গ্রাহককে অবশ্যই ব্যাংকে তার আয়কর সনদ জমা দিতে হবে। অন্যদিকে হিসাবের সর্বোচ্চ স্থিতি বিবেচনায় বছরে একবার আবগারি শুল্ক কর্তন করা হয়। আয়কর ও আবগারি শুল্ক ব্যাংকের কোনো আয় নয়; এটি সরকারি রাজস্ব যা ব্যাংক গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করে।
অদাবিকৃত আমানত: ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ৩৫ ধারাবলে ১০ বছর ও তদূর্ধ্ব মেয়াদ পর্যন্ত কোনো হিসাবে লেনদেন না হলে (মেয়াদি/স্কিম হিসাবগুলোর ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণের পর ১০ বছর) হিসাবটি অদাবীকৃত বলে গণ্য করে ওই হিসাবের স্থিতি বাংলাদেশ ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়।
হিসাব বন্ধকরণ: ব্যাংক অথবা গ্রাহক কর্তৃক কোনো কারণে হিসাব বন্ধ করা হলে গ্রাহক অবশ্যই অব্যবহƒত চেক বই, এটিএম কার্ড (যদি থাকে) ব্যাংকের কাছে ফেরত দেবে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত তালিকা অনুসারে নির্ধারিত হিসাব বন্ধকরণ ফি প্রযোজ্য হবে। ব্যাংক তার নিজের বিবেচনায় সন্তোষজনক নয়, এমন অ্যাকাউন্ট যে কোনো সময়ে একক সিদ্ধান্তে বন্ধ করে দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।
হিসাবধারী গ্রাহক ছাড়া অন্যান্য গ্রাহক: ব্যাংক শুধু তার হিসাবধারী গ্রাহককেই সেবা দেয়, এমনটা নয়। হিসাবধারী গ্রাহক ছাড়া গ্রাহকরাও (ধিষশ-রহ পঁংঃড়সবৎ) ব্যাংকিং সেবা নিতে পারবেন, তবে নিজের পরিচিতি এবং লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সাপেক্ষে। হিসাবধারী গ্রাহক ছাড়া অন্য কারও অনুরোধে টিটি, এমটি ও অনলাইনের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণের ক্ষেত্রে অর্থ প্রেরণকারী এবং প্রাপকের পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক তথ্য (জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাইসেন্স/গ্রহণযোগ্য পরিচিতিমূলক ছবিযুক্ত আইডি কার্ড, ফোন/মোবাইল নম্বর প্রভৃতি), অর্থ প্রেরণের উদ্দেশ্য এবং অর্থের উৎসের তথ্য সংরক্ষণ করতে হয়। ডিডি বা পে-অর্ডার ইস্যুর ক্ষেত্রেও আবেদনকারী ও বেনিফিশিয়ারির পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক তথ্য, অর্থ প্রেরণের উদ্দেশ্য এবং অর্থের উৎসের তথ্য সংরক্ষণ করতে হয়। অনলাইন চেকের বাহক যদি হিসাবধারী না হন, তবে তার কাছ থেকেও জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাইসেন্স/গ্রহণযোগ্য পরিচিতিমূলক ছবিযুক্ত আইডি কার্ড, ফোন/মোবাইল নম্বর প্রভৃতি সংগ্রহ করতে হয়।
হিসাব খোলার আগে হিসাব ফরমের শর্তাদি অবশ্যই ভালোভাবে পড়বেন এবং আপনার ব্যাংকারের কাছ থেকে পরিপূর্ণ ধারণা নিয়ে তারপর হিসাব খুলবেন। এছাড়া যেকোনো সেবার বিষয়ে ব্যাংকারের পরামর্শের পাশাপাশি ব্যাংকের গ্রাহক নির্দেশিকা, সার্কুলার পড়ে দেখতে পারেন এবং প্রয়োজনে ব্যাংকের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন, যেখানে ব্যাংকের সব পণ্য ও সেবার বিষয়ে বিশদ ধারণা দেওয়া থাকে। (শেষ)

ব্যাংক কর্মকর্তা

[email protected]