ব্যয় বৃদ্ধিতে কমছে মুনাফা গুঞ্জনে বাড়ছে দর

বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম

হাসানুজ্জামান পিয়াস : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেডের প্রথম প্রান্তিকে কর-পরবর্তী মুনাফা প্রায় ৪৮ লাখ টাকা কমেছে। তবে মুনাফা কমলেও শেয়ারদর বাড়ছে। এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে (রোববার) ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে ছিল কোম্পানিটি।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি আর্থিক বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই- সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেডের আয় হয়েছে প্রায় ৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এটি আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৮ কোটি ছয় লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে কোম্পানিটির আয় প্রায় নয় কোটি ৮৬ লাখ টাকা বেড়েছে। তবে আয় নয় কোটি টাকা বা ৩৫ শতাংশ বাড়লেও উৎপাদন খরচ ও ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা প্রায় ৪৮ লাখ টাকা কমেছে। প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা প্রায় দুই কোটি ১৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে দুই কোটি ৬৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ছিল। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা প্রায় ৪৮ লাখ টাকা কমেছে।

শুধু চলতি আর্থিক বছরেই নয়। এর আগের আর্থিক বছরেও পিছিয়ে ছিল কোম্পানিটি। ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত আর্থিক বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনেও পিছিয়ে পড়ার তথ্য উঠে এসেছে। সর্বশেষ সমাপ্ত আর্থিক বছরে বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেডের কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল প্রায় ছয় কোটি ৮৯ লাখ ৩১ হাজার টাকা, যা ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত আর্থিক বছরে প্রায় ১১ কোটি ৩২ লাখ ১৬ হাজার টাকা ছিল। অর্থাৎ ওই আর্থিক বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা প্রায় চার কোটি ৪২ লাখ টাকা কমেছিল। সর্বশেষ আর্থিক বছরে কোম্পানিটির আয় প্রায় ছয় কোটি ৪৩ লাখ টাকা বাড়লেও মুনাফা প্রায় চার কোটি ৪২ লাখ টাকা কমেছিল। অর্থাৎ আয়-ব্যয়ে অসঙ্গতির ধারা চলতি আর্থিক বছরেও দৃশ্যমান রয়েছে।

তবে মুনাফা কমলেও কোম্পানিটির শেয়ারদরে তার ছাপ নেই। দর বৃদ্ধির বিপরীতে শেয়ারদর বাড়ছে। এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় নয় টাকা বা প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। আর গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর ২৪ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩১ টাকা ৯০ পয়সায় উঠেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ২৯ শতাংশ বেড়েছে। সর্বশেষ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়ামের প্রতিটি শেয়ার ৩১ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে, যা এর আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় তিন দশমিক ৯২ শতাংশ বা এক টাকা ২০ পয়সা বেশি।

এদিকে কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধি নিয়ে শেয়ারবাজারে গুঞ্জন চলছে। শেয়ারদর ও কোম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে একটি গ্রুপ শেয়ারদরকে প্রভাবিত করা চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু এবারই নয়, এর আগে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার দর ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল। ওই সময়ে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দর ২২ টাকা থেকে ৩৩ টাকায় উঠেছিল। এরপর আবারও কমে অক্টোবরে ২০ টাকার নিচে নেমেছে। এরপর থেকে আবারও কোম্পানিটির শেয়ারদর একটানা বাড়ছে।

উল্লেখ্য, প্রকৌশল খাতের কোম্পানিটি ১৯৯০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। ডিএসই সূত্রে জানা যায়, কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে ২৬ দশমিক দুই শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে দুই দশমিক ৪৪ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের হাতে দশমিক ৯১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৭০ দশমিক ৬৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এক বছরে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার সর্বনিম্ন ১৯ টাকা ৯০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩৩ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। আর সর্বশেষ আর্থিক বছরে বিনিয়োগকারীদের পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে।