বিশ্ব বাণিজ্য

ব্রিটিশ তেলবাহী ট্যাংকার আটকের চেষ্টা ইরানের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: নিজেদের জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার আটকের পর পারস্য উপসাগরে একটি ব্রিটিশ তেলবাহী ট্যাংকার আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে ইরানের সামরিক বোট। তবে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির জাহাজের তৎপরতায় তারা পিছু হটেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র। ইরানের এ ধরনের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন ওই মুখপাত্র। খবর: বিবিসি।
ব্রিটিশ সরকারের মুখপাত্র জানান, এইচএমএস মন্ট্রোস নামের জাহাজটির দিকে কয়েকটি ইরানি নৌকা অগ্রসর হচ্ছিল। এ অবস্থায় ইরানি নৌযানগুলোকে মৌখিকভাবে সতর্কও করা হয়। তবে তেলের ট্যাংকার আটক করার প্রচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। যদিও দেশটি একটি ট্যাংকার আটক করার ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই হুমকি দিয়ে আসছিল।
যুক্তরাজ্য সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, তেলের ট্যাংকার আটকানোর চেষ্টার এই কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী। আমরা এ বিষয়ে চিন্তিত এবং ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছি। এদিকে”যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে করা মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের ধারণা অনুযায়ী ব্রিটিশ হেরিটেজ ট্যাংকারটি পারস্য উপসাগর ছেড়ে হরমুজ প্রণালির দিকে যাওয়ার সময় ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড করপোরেশনের কয়েকটি নৌকা সেটির দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
গত সপ্তাহে ব্রিটিশ রয়্যাল ম্যারিন জিব্রাল্টারের কর্তৃপক্ষকে একটি ইরানি তেলের ট্যাংকার আটক করতে সহায়তা করে, কারণ তাদের কাছে প্রমাণ ছিল সেটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিরিয়ার দিকে যাচ্ছিল। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় একজন ইরানি কর্মকর্তা বলেছিলেন, ওই ইরানি জাহাজ না ছাড়লে প্রতিশোধ হিসেবে একটি ব্রিটিশ জাহাজ আটক করা উচিত।
এ বিষয়ে অভিযোগ জানানো জন্য তেহরানে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকেও ডেকে পাঠায় ইরান। তারা বলেছে, এটি এক ধরনের দস্যুবৃত্তি। সাম্প্রতিক এই দ্বন্দ্ব এমন একটি সময়ে দেখা দিল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্কেরও অবনতি হয়েছে। গত জুনে দুটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় প্রায় নিশ্চিতভাবে ইরান জড়িত বলে মন্তব্য করার পর দু’দেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটেছে।
সিরিয়া অভিমুখে যাওয়ার সময় গত সপ্তাহে জিব্রাল্টার প্রণালিতে ব্রিটিশ মেরিন সেনারা ইরানি তেলবাহী জাহাজ গ্রেস-১ আটক করে। স্পেন জানিয়েছে, মার্কিন সরকারের অনুরোধে ব্রিটেন ইরানি জাহাজ আটক করেছে। পরে তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। ইরান বলেছে, জাহাজ মুক্ত করার জন্য তেহরান তার সব রাজনৈতিক ও আইনগত শক্তি কাজে লাগাবে।
জিব্রাল্টারের স্থানীয় সরকার দেশ পরিচালনায় স্বাধীনতা ভোগ করলেও এর প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি ব্রিটিশ সরকার নিয়ন্ত্রণ করে।

 

সর্বশেষ..